৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৩

বারবার দোয়া করেও ভুলের কারণে পূরণ হচ্ছে না মনের আশা, কী বলছে ইসলাম?

আল্লাহর নিকট দোয়া প্রার্থনা  © এআই সম্পাদিত

বিপদে-আপদে কিংবা কোনো প্রয়োজন পূরণের আশায় মানুষ আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। কখনো দীর্ঘদিন দোয়া করার পরও মনে হয় যে দোয়া কবুল হচ্ছে না। এটা আসলে কেনো হয়, আল্লাহ তায়ালা কী আমাদের দোয়া ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না? অনেকসময় প্রত্যাশিত ফল না পেলে মনে প্রশ্ন জাগে দোয়া কি কবুল হচ্ছে না? ইসলামী বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যায়, দোয়া করার ক্ষেত্রে আন্তরিকতা, শিষ্টাচার ও হালাল জীবনযাপনের গুরুত্ব রয়েছে অন্যতম। পাশাপাশি দোয়া কবুলের ব্যাপারে তাড়াহুড়া করাও অনুচিত। তবে কোনো চাওয়া সঙ্গে সঙ্গে পূরণ না হলেই যে দোয়া কবুল হয়নি, বিষয়টি এমন নয়।

এবিষয়ে ইসলামিক স্কলার শাইখ মুহাম্মদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ যেসব কারণে দোয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে, বা কবুল হতে দেরি হতে পারে তা তুলে ধরেছেন:

দোয়া করার সময় যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ:
দোয়া কবুলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একনিষ্ঠতা। আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে একমাত্র তাঁর কাছেই সাহায্য চাইতে হবে। এ বিষয়ে কোরআনে বলা হয়েছে ‘তোমরা দ্বীনদারিকে তাঁর জন্য একনিষ্ঠ করে তাঁকে ডাকবে।’ (সূরা আল-আ’রাফ, আয়াত ২৯)

দোয়ার আগে নিজের ভুলের জন্য তওবা ও ইস্তিগফার করা, বিনয় ও আন্তরিকতার সঙ্গে আল্লাহকে ডাকা এবং তাঁর রহমতের আশা রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে ‘তোমরা মিনতিভরে ও সঙ্গোপনে তোমাদের রবকে ডাকো। তিনি তো সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না।’ (সূরা আল-আ’রাফ, আয়াত ৫৫)

এ ছাড়া আল্লাহর সুন্দর নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে দোয়া করা, তাঁর প্রশংসা করা, রাসূল (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা এবং বিনয়ের সঙ্গে দুই হাত তুলে দোয়া করাও দোয়ার আদবের অন্তর্ভুক্ত। দোয়া বারবার করা যায়, তবে হতাশ হয়ে তা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।

কখন দোয়া করা উত্তম:
দোয়ার জন্য বিশেষ কিছু সময়ের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ, ফজরের আগের সময়, জুমার দিনের বিশেষ সময়, বৃষ্টির সময় এবং আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়।

কিছু অবস্থায় করা দোয়ার বিশেষ গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে। যেমন মজলুম, মুসাফির ও রোজাদারের দোয়া এবং কোনো মুসলিমের অনুপস্থিতিতে তার অন্য মুসলিম ভাইয়ের জন্য দোয়া।

যেসব কারণে দোয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে:
দোয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বাঁধা হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে গুনাহের কাজ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য দোয়া করা, আল্লাহর প্রতি মনোযোগ ও আন্তরিকতার ঘাটতি এবং হারাম উপার্জন ও হারাম খাদ্য গ্রহণ।

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বান্দার দোয়া ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল হতে থাকে যতক্ষণ না সে কোনো গুনাহের জন্য বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য দোয়া করে।’ (সহিহ মুসলিম (ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব-এ উদ্ধৃত অনুবাদ)

হারাম উপার্জনের বিষয়েও হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হে মানুষ! আল্লাহ ভালো। তিনি কেবল ভালো জিনিসই গ্রহণ করেন।’

এ ছাড়া দোয়া করে দ্রুত ফল না পেয়ে হতাশ হওয়া থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকের দোয়া কবুল হয় যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়া করে বলে আমি দোয়া করেছি কিন্তু আমার দোয়া কবুল হয়নি।’ (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

দোয়া কবুলের অর্থ সব সময় চাওয়া বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে ঠিক একইভাবে পাওয়া নয়। ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাবের আলোচনায় বলা হয়েছে, আল্লাহ কখনো বান্দার চাওয়া পূরণ করেন, কখনো দোয়ার কারণে কোনো অকল্যাণ দূর করেন, কখনো তার চেয়ে উত্তম কিছু দান করেন, আবার কখনো আখিরাতের প্রতিদানের জন্য তা সংরক্ষণ করেন।

হযরত আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) বলেছেন, যে কোনো মুসলমান ব্যক্তি পাপাচার বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার দোয়া ব্যতীত যে কোনো দোয়া করলে, আল্লাহ তাকে তিনটি জিনিসের যে কোনো একটি দান করেন:
১. দ্রুত দুনিয়াতে তার দোয়া কবুল করেন,
২. পরকালের জন্য সঞ্চিত রাখেন,
৩. অথবা অনুরূপ কোনো ক্ষতি বা অকল্যাণ তার থেকে অপসারিত করেন।

এক ব্যক্তি বলল, তাহলে তো আমরা অনেক বেশি বেশি দোয়া করব! রাসূল (সা.) বললেন, ‘আল্লাহর ভাণ্ডার আরও অধিক (তিনি আরও বেশি দিতে সক্ষম)।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং: ১১১৩৪)