২৩ অক্টোবর ২০২৬, ২২:১৮

ঘুমানোর আগে যে তিন সূরা পড়তেন রাসূল (সা:)

কোরআন তেলাওয়াত  © সংগৃহীত

সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে রাতের ঘুমাতে যাওয়ার আগে মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় ও সুরক্ষা চাওয়া মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। রাসূলুল্লাহ (সা.) ঘুমানোর আগে নিয়মিত তিনটি সূরা পাঠ করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি রাতে যখন বিছানায় ঘুমাতে যেতেন, তখন তাঁর দুই হাতের তালু একত্র করতেন। তারপর তাতে ফুঁ দিতেন এবং সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করতেন। এরপর দুই হাত দিয়ে শরীরের যতদূর সম্ভব অংশ মুছে নিতেন। হাত মোছা শুরু করতেন মাথা, মুখমণ্ডল ও শরীরের সামনের অংশ থেকে। তিনি এরূপ তিনবার করতেন। (সহি বুখারি, হাদিস : ৫০১৭)

তিনটি সূরা ও এর ফজিলত

সূরা ইখলাস
সূরাটি পবিত্র কুরআনের ১১২ নম্বর সূরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়। আয়েশা (রা.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। আবূ সা’ঈদ খুদরী (রা.) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি আরেক ব্যক্তিকে ’কুল হুআল্লাহু আহাদ’ পড়তে শুনলেন। সে বার বার তা মুখে উচ্চারণ করছিল। পরদিন সকালে তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে এ ব্যাপারে বললেন। যেন ঐ ব্যক্তি তাকে কম মনে করলেন। তখন রাসূল (সা:) বললেন, সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার জীবন। এ সূরাহ হচ্ছে সমগ্র কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান। (সহিহ বুখারি, ৫০১৩; সহিহ মুসলিম, ৮১১)

মুহাম্মাদ ইবনে মারযূক আল-বাসরী (রহ.) আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন দুই’শ বার ’কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ পড়বে তার পঞ্চাশ বছরের গুনাহ্ বিলীন করে দেওয়া হবে। তবে তার উপর ঋণ থেকে থাকলে তা ছাড়া। (যঈফ, যঈফা ৩০০, মিশকাত ২১৫৮),

এই সনদেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বললেন, কেউ যখন বিছানায় শুইতে ইচ্ছা করবে সে যেন তার ডান পার্শ্বে শোয়ার পর একশ’ বার কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ সূরাটি পাঠ করে। কিয়ামতের দিন মহান পরওয়াদিগার তাকে বলবেন, হে আমার বন্দা। তুমি তোমার ডান পাশ দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ কর। (সুনান তিরমিজি, হাদিস ২৮৯৮ [সহিহ])

সূরা ফালাক
এটি পবিত্র কুরানের ১১৩ নম্বর সূরা। এটিও মক্কায় অবতীর্ণ হয়। যাদু, হিংসা ও সব ধরনের অশুভ থেকে নিরাপত্তা। রাসুল (সা:) ফালাক–নাসকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাওয়ার সর্বোত্তম দোয়া বলেছেন (সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৭১৪)। যখন রাসুল (সা:)–এর ওপর যাদুর প্রভাব পড়েছিল, তখন আল্লাহ তায়ালা রাসূল (সা:) এর উপর সূরা ফালাক ও সূরা নাস নাযিল করেন; তিনি এগুলো পাঠ করে সুস্থ হন। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩২৬৮)

সূরা নাস
এটি পবিত্র কুরআনের ১১৪তম ও সর্বশেষ সূরা। সূরাটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়। হাদিস শরিফে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তা পড়ার গুরুত্ব এসেছে। এক বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা সূরা ইখলাস ও এই দুই সূরা পড়বে সে সকল বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদ থাকবে। (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৯০৩)। শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সর্বোত্তম প্রতিকার পাওয়া যায় এই সূরার আমল করলে।

আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত যে, প্রতি রাতে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিছানায় যাওয়ার আগে সূরাহ ইখ্লাস, সূরাহ ফালাক ও সূরাহ নাস পাঠ করে দু’হাত একত্র করে হাতে ফুঁক দিয়ে যতদূর সম্ভব সমস্ত শরীরে হাত বুলাতেন। মাথা ও মুখ থেকে আরম্ভ করে তাঁর দেহের সম্মুখ ভাগের উপর হাত বুলাতেন এবং তিনবার এরূপ করতেন। (সহিহ বুখারি, ৫০১৭)