২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫০

খুতবার সময় পাশের মুসল্লিকে চুপ করালেও কি গুনাহ হবে?

জুমার নামাজের খুতবা  © সংগৃহীত

​মুসলমানদের কাছে জুমার দিনটি সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। দিনটি সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবেও পরিচিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মহান আল্লাহর কাছে জুমার দিনটি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনের চেয়েও বেশি মর্যাদাপূর্ণ। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৮৪)।

​জুমার নামাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো খুতবা, যা মুসল্লিদের জন্য ধর্মীয় শিক্ষা, হেদায়েত ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যম। খুতবা চলাকালে মনোযোগ দিয়ে তা শোনা ওয়াজিব/ফরজ। তবে অনেক সময় খুতবা চলাকালে মুসল্লিদের মধ্যে কথা বলা, মোবাইল ফোন ব্যবহার কিংবা অন্যকে চুপ করাতে গিয়ে নিজেরই কথা বলার প্রবণতা দেখা যায়। খুতবার সময় এমন আচরণের বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা কী? কথা বললে কি গুনাহ হয়, এমনকি অন্যকে চুপ করতে বললেও কি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে?

​হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “জুমার দিন ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় আপনি যদি পাশের কাউকে বলেন, ‘চুপ থাকুন’, তবে আপনিও অনর্থক কাজ করলেন (জুমার সওয়াব বা বিশেষ ফজিলত নষ্ট করলেন)।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৯২; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫১]

​আবুদ দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বারে বসে জুমার খুতবা দিচ্ছিলেন। তিনি একটি আয়াত তিলাওয়াত করলে আমি পাশে থাকা উবাই ইবনে কাব (রা.)-কে জিজ্ঞেস করি, ‘আয়াতটি কখন নাজিল হয়েছে?’ তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে আমাকে চুপ থাকার ইঙ্গিত করেন। খুতবা শেষে উবাই (রা.) বলেন, ‘খুতবার সময় কথা বলার কারণে তুমি আজকের জুমার সওয়াব থেকে বঞ্চিত হয়েছ।’ 

বিষয়টি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জানালে তিনি বলেন, ‘উবাই ঠিক বলেছে। ইমাম খুতবা দেওয়া শুরু করলে শেষ না হওয়া পর্যন্ত চুপ থাকবে।’ [মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২০৭৮০; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১১১১]

​এ হাদিসগুলো প্রমাণ করে যে, জুমার খুতবা চলাকালে পুরোপুরি নীরবতা পালন করা এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা জরুরি।

​খুতবার সময় কখন কথা বলা যাবে?
​সাধারণভাবে খুতবার সময় কথা বলা নিষিদ্ধ হলেও বিশেষ ও জরুরি প্রয়োজনে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে। এগুলো হলো-

খতিবের প্রয়োজনে কথা বলা
কোনো জরুরি দরকারে খতিব নিজে কারো সাথে কথা বলতে পারেন বা কোনো মুসল্লি খতিবকে সরাসরি কিছু জিজ্ঞেস করতে পারেন। আনাস বিন মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে একবার খরার সময় জুমার খুতবা চলাকালে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে দোয়ার আরজ করেছিলেন এবং পরবর্তী জুমায় বৃষ্টি বন্ধের দোয়া চেয়েছিলেন। রাসূল (সা.) খুতবা চলাকালেই তাঁর কথা শুনে দোয়া করেছিলেন। [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৯১]

জীবনরক্ষা বা বিপদ এড়ানো
কোনো অন্ধ ব্যক্তি পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করা, আগুন বা বিষাক্ত কোনো পোকা থেকে কাউকে সতর্ক করার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে কথা বলা জায়েজ।

​সালাম দেওয়া ও উত্তর দেওয়ার বিধান
​খুতবা চলাকালে কথা বলা নিষেধ হওয়ায় এ সময় মসজিদে প্রবেশকারী ব্যক্তির জন্য অন্য মুসল্লিদের সালাম দেওয়া অনুচিত এবং অন্য মুসল্লিদের জন্যও খুতবা ছেড়ে সেই সালামের উত্তর দেওয়া জায়েজ নয়। [মাজমু ফতোয়া বিন উসাইমিন: ১৬/১০০]

​অতএব, খুতবা চলাকালে নিজে কথা বলা তো যাবেই না, এমনকি কেউ কথা বললে তাকে মুখে ‘চুপ করো’ না বলে প্রয়োজনে আঙুল বা হাতের ইশারায় সতর্ক করা উচিত। ইসলামের বিধান অনুযায়ী চুপ থেকে খতিবের উপদেশ শোনাতেই জুমার মূল কল্যাণ ও সওয়াব নিহিত।