১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৫

জুমার দিন যে সময়ের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না

প্রতীকী ছবি  © সংগৃহীত

জুমার দিন মুসলমানদের জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। এ দিনের ইবাদত-বন্দেগিতে রয়েছে বিশেষ ফজিলত। এর মধ্যে অন্যতম হলো, জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণের কিছু চাইলে তার দোয়া কবুল হওয়ার সুসংবাদ রয়েছে। তবে হাদিসে ওই সময়কে নির্দিষ্ট করে একটিমাত্র সময় বলা হয়নি। আলেমদের মধ্যে এ বিষয়ে একাধিক মত রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ দুটি সময় হলো ইমাম খুতবার জন্য মিম্বরে বসা থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত এবং আছরের পর সূর্যাস্তের আগের সময়।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, কোনো মুসলিম সে সময়ে আল্লাহর কাছে কোনো কল্যাণ প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন।’ এরপর তিনি বলেন, সময়টি খুবই অল্প। (সহিহ মুসলিম: ৮৫২)

তবে হাদিসে বর্ণিত সেই বিশেষ সময় কখন এ নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। দুটি মতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

একটি মত অনুযায়ী, ইমাম খুতবার জন্য মিম্বরে বসার পর থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়টি দোয়া কবুলের বিশেষ সময়। আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) জুমার দিনের দোয়া কবুলের সময় সম্পর্কে বলেছেন, ‘ইমাম বসার পর থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত।’ (সহিহ মুসলিম: ৮৫৩; সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৯)

অর্থাৎ খতিব খুতবার জন্য মিম্বরে বসার পর থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়কে এ ফজিলতের সময় হিসেবে ধরা হয়েছে। এ সময়ে মুসল্লিদের মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা এবং ইবাদতে মনোযোগী থাকা উচিত। বিশেষ করে খুতবার সময় নীরব থাকার বিষয়টি ইসলামে গুরুত্বের সঙ্গে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে আরেকটি শক্তিশালী মত হলো, জুমার দিনের বিশেষ সময়টি আছরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘জুমার দিন বারো ঘণ্টা। এর মধ্যে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। তোমরা তা দিনের শেষ সময়ে আছরের পর অনুসন্ধান করো।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৮)

এই হাদিসের ভিত্তিতে অনেক আলেম আছরের পর সূর্যাস্তের আগের সময়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এ কারণে জুমার দিনের শেষ ভাগে দোয়া, জিকির ও ইবাদতে বেশি মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দোয়া কবুলের বিশেষ সময় নির্ধারণে আলেমদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও খুতবার সময় থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত এবং আছরের পর সূর্যাস্তের আগের সময় এই দুটি মতই সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। তাই একজন মুসলিম শুধু একটি সময়ের ওপর নির্ভর না করে উভয় সময়েই আন্তরিকভাবে দোয়া করতে পারেন।

ইমাম ইবনে আবদুল বার (রহ.) বলেন, দোয়া কবুলের আশায় প্রত্যেক মুসলিমের উচিত উল্লিখিত দুই সময়ে দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করা। (আততামহিদ: ১৯/২৪)

বিশেষ করে আছরের পরের সময়টি দোয়া ও ইবাদতে কাটানো যেতে পারে। মাগরিবের অপেক্ষায় মসজিদে অবস্থান করে নিজের প্রয়োজন ও কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করার সুযোগও রয়েছে।

হাদিসে ‘নামাজরত অবস্থায়’ দোয়া করার যে কথা এসেছে, এর ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেছেন, নামাজের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিও নামাজের হুকুমের মধ্যে থাকেন। সে হিসেবে মাগরিবের অপেক্ষায় থেকে দোয়া করাও এ ফজিলতের আওতায় আসতে পারে।

তাই জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ সময় হিসেবে খুতবার সময় থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত এবং আছরের পর সূর্যাস্তের আগের সময় দুই সময়কেই গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। এ সময়গুলোতে দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করার সুযোগ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা আমাদের দোয়া কবুল করুন এবং দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণ দান করুন। আমিন।