রাসুল (সা.)-এর শেখানো সন্তানের মেধা ও দ্বীনি জ্ঞান বৃদ্ধির বিশেষ দোয়া
সন্তান বড় হয়ে মেধাবী, সুন্দর ভবিষ্যৎ এবং দ্বীনি জ্ঞানের অধিকারী হোক এটি প্রতিটি মা-বাবারই মনের ইচ্ছা। সন্তানের মেধা বিকাশে এমন একটি বিশেষ দোয়া রয়েছে, যা পড়ে সন্তানের মাথায় ফু দিলে আল্লাহ তা’আলার ইচ্ছাই তাঁর মেধা তীক্ষ্ণ হয়। ইসলামের ইতিহাসে এমন একটি দোয়া রয়েছে, যা রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর এক খুদে সাহাবীর জন্য করেছিলেন। পরবর্তীতে সেই সাহাবী উম্মতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধর্মীয় পণ্ডিত হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
ঘটনাটি মহানবী (সা.)-এর চাচাতো ভাই ও সাহাবী হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-কে কেন্দ্র করে। তিনি যখন বেশ ছোট ছিলেন, তখন একদিন আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর জন্য অজুর পানি প্রস্তুত করে রাখেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) অজু সেরে বের হয়ে জিজ্ঞেস করেন, ‘এই পানি কে রেখেছে?’ তাঁকে জানানো হলে তিনি খুশি হয়ে তাঁর জন্য দোয়া করেন।
এছাড়া অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, ইবনে আব্বাস (রা.) তাঁর খালা উম্মুল মুমিনীন হজরত মায়মুনা (রা.)-এর ঘরে রাতে অবস্থানকালে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য অজুর পানি প্রস্তুত করেছিলেন, আর তখনই তিনি এই দোয়া করেন।
দোয়াটি হলো, ‘আল্লাহুম্মা ফাক্কিহ্হু ফিদ্দীন, ওয়া আল্লিমহুত তা’বিল।’
দোয়াটি হাদিস শরীফে দুই স্তরে এসেছে: ‘আল্লাহুম্মা ফাক্কিহ্হু ফিদ্দীন’, অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আপনি তাকে দ্বীনের সঠিক বুঝ (ফিকহ) দান করুন।’ এটি সহিহ বুখারি: ১৪৩। সহিহ মুসলিমেও সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণিত হয়েছে। আর বাকি অংশ ‘ওয়া আল্লিমহুত তা’বিল’, অর্থ: এবং তাকে কুরআনের ব্যাখ্যা (তাফসির) শিক্ষা দিন। এটি মুসনাদে আহমাদ ও মুসতাদরাকে হাকিমে অতিরিক্ত বর্ণনা, যা ইমাম হাকিম সহিহ বলেছেন এবং ইমাম যাহাবি, ইরাকি ও আলবানি (রহ.) তা সমর্থন করেছেন।
এছাড়া বুখারিতে আরেকটি পৃথক ঘটনায় বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইবনে আব্বাস (রা.)-কে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, ‘আল্লাহুম্মা আল্লিমহুল হিকমাহ’ (হে আল্লাহ, তাকে হিকমত শিক্ষা দিন)। এটি অজুর পানির ঘটনা থেকে ভিন্ন একটি পৃথক হাদিস।
আরও খবর: চাঁদ দেখা গেছে, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের তারিখ জানা গেল
দোয়ার প্রভাব ও শিক্ষা
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই দোয়ার বরকতে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) অসাধারণ মেধা ও জ্ঞানের অধিকারী হন। অল্প বয়স থেকেই তাঁর জ্ঞানের গভীরতা দেখে আমীরুল মুমিনীন হজরত ওমর (রা.) তাঁকে বড় বড় বদরী সাহাবীদের মজলিসে স্থান দিতেন। পরবর্তীতে তিনি ‘হাবরুল উম্মাহ’ (এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত) এবং ‘রইসুল মুফাসসিরীন’ (মুফাসসিরদের সরদার) উপাধিতে ভূষিত হন।
অভিভাবকদের করণীয়
ইসলামিক স্কলারদের মতে, সন্তানের মাথায় হাত রেখে বা যেকোনো সময় মা-বাবা তাদের সন্তানের জন্য দ্বীনি জ্ঞান ও বুঝ কামনা করে দোয়া করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, ইসলামে কোনো নির্দিষ্ট দোয়া একবার পড়লেই অলৌকিকভাবে ফলাফল নিশ্চিত হয়ে যাবে, এমন কোনো শর্ত বা গ্যারান্টি নেই।
মা-বাবার আন্তরিক দোয়া, সঠিক লালন-পালন ও সুশিক্ষার সমন্বয়েই আল্লাহ তা’আলা সন্তানকে জ্ঞান ও মর্যাদায় উন্নত করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই সুন্নাহ অনুসরণ করে সন্তানের মেধা ও দ্বীনি জ্ঞানের জন্য নিয়মিত দোয়া করা প্রত্যেক অভিভাবকের জন্য একটি উত্তম আমল।