জুমার নামাজে শেষ বৈঠক পেলে করণীয় কী, সওয়াব পাওয়া যাবে কি?
জুমার দিনে দ্রুত মসজিদে গিয়ে জামাতে শরিক হওয়ার নির্দেশ থাকলেও কিছু কিছু দিন ব্যস্ততা বা অনিচ্ছাকৃত কোনো সমস্যার কারণে নামাজে দেরি হওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। অনেকে একদম শেষ মুহূর্তে অর্থাৎ শেষ বৈঠকে গিয়ে ইমামের সঙ্গে জামাতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান। এমন পরিস্থিতিতে নামাজটি কীভাবে শেষ করতে হবে এবং জুমার সওয়াব পাওয়া যাবে কি না তা অনেকের জানা নেই। তবে এবিষয়ে ইসলামি ফিকাহবিদদের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।
এক রাকাত না পেলে পড়তে হবে জোহর
ফুকাহায়ে কেরামদের অভিমত অনুযায়ী, জুমার নামাজ পরিগণিত হওয়ার মূল শর্ত হলো অন্তত এক রাকাত রুকুসহ পাওয়া। কোনো ব্যক্তি যদি দ্বিতীয় রাকাতে ইমাম রুকু থেকে ওঠার আগে নামাজে শরিক হতে পারেন, তবে তিনি জুমার নামাজ পেয়েছেন বলে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে ইমামের সালাম ফেরানোর পর তিনি দাঁড়িয়ে যাবেন এবং বাকি থাকা এক রাকাত নিজে নিজে পড়ে জুমার নামাজ শেষ করবেন।
তবে কেউ যদি দ্বিতীয় রাকাতে ইমাম রুকু থেকে ওঠার পর কিংবা শেষ বৈঠকে গিয়ে নামাজে যোগ দেন, তাহলে তিনি জুমার নামাজ আর পাননি বলে ধরে নেওয়া হবে।
এমতাবস্থায় করণীয়
ইমামের অনুসরণ করে শেষ বৈঠকে শরিক হওয়া ও তাশাহহুদ পড়া। ইমাম সালাম ফেরানোর পর না দাঁড়িয়ে চার রাকাত জোহরের নামাজ সম্পন্ন করা।
ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমদ বিন হাম্বলসহ (রহ.) অধিকাংশ ফকিহের মাজহাব এটিই। তাঁদের মতে, এ সংক্রান্ত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি নামাজের এক রাকাত পেল, সে নামাজ পেল' (বুখারি ও মুসলিম)। অর্থাৎ এক রাকাতের কম পেলে সেই নামাজের মূল জামাত পাওয়া গণ্য হয় না।
অনিয়ন্ত্রিত কারণে দেরি হলে নেই গুনাহ
রাস্তায় বাস নষ্ট হয়ে যাওয়া, হঠাৎ অসুস্থতা, অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘুমিয়ে পড়া বা ভুলে যাওয়ার মতো মানবিক ওজরের কারণে নামাজে দেরি হলে কোনো পাপ বা গুনাহ হবে না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা কোনো ভুল করে ফেললে তোমাদের কোনো পাপ নেই। তবে তোমাদের অন্তরে দৃঢ় সংকল্প থাকলে (পাপ হবে)’ (সূরা আহযাব: ৫)। এছাড়া অন্য একটি হাদিসে নবীজি (সা.) জানিয়েছেন, উম্মতের ভুল, বিস্মৃতি ও বাধ্যগত পরিস্থিতির অপরাধ আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন।
নিয়ত থাকলে পূর্ণ সওয়াব পাওয়া যাবে
কাঙ্ক্ষিত জামাত না পেলেও নিয়তের ওপর ভিত্তি করে পুরো সওয়াব পাওয়া সম্ভব। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।’ আলেমদের মতে, কোনো মুসল্লির যদি প্রথম থেকেই জামাতে শরিক হওয়ার সৎ ইচ্ছা থাকে এবং পথিমধ্যে তিনি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বাধার মুখে পড়েন, তবে মহান আল্লাহ তার নিয়তের বরকতে জুমার নামাযের পূর্ণ সওয়াব ও খাস মুহূর্তের দোয়া কবুলের ফজিলাত দান করবেন।
সূত্র: ইসলাম কিউএন্ডএ