ইসলামের দৃষ্টিতে খেলাধুলার মূলনীতি নিয়ে যা বললেন ড. আবু ইউছুফ
তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার মূল ক্যাম্পাসের সাবেক অধ্যক্ষ ড. মুহাম্মাদ আবু ইউছুফ বলেছেন, ইসলামে খেলাধুলা মূলত বৈধ ও প্রশংসনীয়, যদি তা শরিয়াহর সীমার মধ্যে থাকে এবং ফরজ ইবাদত ও দায়িত্বে বাধা না দেয়।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে নিজ আইডিতে দেওয়া একটি পোস্টে ইসলামের দৃষ্টিতে খেলাধুলার বিধান তুলে ধরেন।
নিচে ড. মুহাম্মাদ আবু ইউছুফের ফেসবুক পোস্টটি হুবুহু তুলে ধরা হলো—
ইসলামের দৃষ্টিতে খেলাধুলার বিধান
শারীরিক সুস্থতার জন্য খেলাধুলা বৈধ: রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: «المؤمن القوي خير وأحب إلى الله من المؤمن الضعيف» শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর কাছে দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম ও অধিক প্রিয়— সহিহ মুসলিম
শরীর ও মনের প্রশান্তির জন্য বিনোদন বৈধ— ইসলাম মানুষকে সারাক্ষণ কঠোর পরিশ্রমের মধ্যে রাখেনি। বৈধ বিনোদন মানুষের কর্মশক্তি ও মানসিক সতেজতা বৃদ্ধি করে।
যে খেলাধুলা উপকারী, তা অধিক উত্তম— সাঁতার, দৌড়, তীরন্দাজি, কুস্তি, ফুটবল, ক্রিকেটসহ অন্যান্য শারীরিক ক্রীড়া—যদি নিষিদ্ধ কোনো বিষয় যুক্ত না হয়—তাহলে তা বৈধ হতে পারে।
নামাজ ও ফরজ দায়িত্ব নষ্ট করা যাবে না— খেলার কারণে নামাজ কাজা করা, পড়াশোনা বা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অবহেলা করা গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লাহ বলেন, وَلَا تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ—তোমাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। সূরা আল-মুনাফিকূন-৯
পোশাক ও শালীনতা বজায় রাখতে হবে— খেলাধুলায় সতর আবৃত রাখা, অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকা এবং নারী-পুরুষের অনুচিত মেলামেশা এড়ানো জরুরি।
জুয়া ও বাজি নিষিদ্ধ— খেলাকে কেন্দ্র করে টাকা-পয়সার বাজি, জুয়া বা অন্যায় প্রতিযোগিতা করা হারাম। আল্লাহ বলেন: إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ… رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ ‘নিশ্চয়ই মদ ও জুয়া শয়তানের অপবিত্র কাজ।’— সূরা আল-মায়িদাহ: ৯০
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ নীতি— শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলা হওয়া উচিত শিক্ষার সহায়ক, শিক্ষার বিকল্প নয়। তাই এমনভাবে ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত যাতে— নামাজ ও ধর্মীয় শিক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়; পড়াশোনার সময় নষ্ট না হয়; শালীনতা ও ইসলামী মূল্যবোধ বজায় থাকে; জুয়া, বাজি ও অশ্লীলতা না থাকে; দলগত সহযোগিতা, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরি হয়; শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করে।
ইসলামে খেলাধুলা নিষিদ্ধ নয়; বরং উপকারী ও শালীন খেলাধুলা একজন শিক্ষার্থীর শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে খেলাধুলা যেন ইবাদত, শিক্ষা ও নৈতিকতার ওপর প্রাধান্য না পায়— এটাই ইসলামী ভারসাম্য।