২১ জুন ২০২৬, ১৮:৪৮

৪০ দিন জামাতে নামাজ পড়ে সাইকেল পেল ৯ কিশোর 

জামাতে নামাজ আদায় করায় পুরস্কার পেল ৯ কিশোর  © সংগৃহীত

শিশুদের মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায়ে উদ্বুদ্ধ করতে এবং ইসলামি জ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এক অনন্য উদ্যোগের সফল সমাপ্তি ঘটেছে ফেনীর দাগনভূঞায়। টানা ৪০ দিন মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে পুরস্কার হিসেবে নতুন বাইসাইকেল জিতে নিয়েছে ৯ শিশু-কিশোর। এছাড়া ১০টি সুরা ও জরুরি মাসআলা-মাসায়েল প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া আরও ৪১ জনকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ শিক্ষা উপকরণ ও ইসলামি বই।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে দাগনভূঞা উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের ওমরাবাদ গ্রামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আলোর মশাল’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের হাতে এই আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

ওমরাবাদ এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শহীদ উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ ইসলামিক চিন্তাবিদ ও সমাজসেবক অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন দাগনভূঞা-সোনাগাজী উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান ডা. ফখরুদ্দিন মানিক।

বেতুয়া দাখিল মাদরাসার সহ-সুপার মাওলানা মনির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক হারুন, ওমরাবাদ সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি নুরুল আফসার, আইআইইউসির প্রভাষক আহমদ শাহ মাসুদ সাইফুল, পূর্ব চন্দ্রপুর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ফখরুল ইসলাম এবং আমুভূঞারহাট হাসানিয়া দাখিল মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আবদুল ওহাব।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বীকন মডেল কলেজের প্রভাষক ও ওমরাবাদ সমাজকল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল-মামুন, যুগ্ম সম্পাদক হাফেজ নাসির উদ্দিন, সংস্থার সদস্য ডা. শাহজাহান, সমাজসেবক মনিরুল আজিম, আলোর মশালের আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন এবং সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক রাফি।

আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মূলত নতুন প্রজন্ম ও শিশু-কিশোররা যাতে শৈশব থেকেই মসজিদের পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে, নামাজের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারে এবং সমাজে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা পায়, সেই লক্ষ্যেই ‘আলোর মশাল’ এই ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এই নামাজ প্রতিযোগিতায় ওই এলাকার তিনটি মসজিদের মোট ৪১ জন শিশু-কিশোর অংশ নিয়েছিল।

নির্ধারিত শর্ত মেনে যারা টানা ৪০ দিন একদিনও বাদ না দিয়ে জামাতের সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সম্পন্ন করেছে, এমন ৯ জন ভাগ্যবান শিশু-কিশোরকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে বাইসাইকেল। এছাড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সব শিশু-কিশোরকে একটি করে দৃষ্টিনন্দন স্কুলব্যাগ, শিক্ষাসামগ্রী, ইসলামি বই ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

আলোর মশালের আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতার ঘোষণার পর থেকেই এলাকার শিশু-কিশোরদের মধ্যে মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ আদায়ের এক দারুণ উদ্দীপনা দেখা যায়। নামাজের পাশাপাশি আমরা তাদের ছোট ছোট প্রাথমিক সুরাগুলো অর্থসহ মুখস্থ করিয়েছি এবং প্রয়োজনীয় দোয়া-কালাম শিখিয়েছি। যারা সফলভাবে এটি সম্পন্ন করেছে, তাদের প্রত্যেককে একটি করে বাইসাইকেল এবং বাকি সব অংশগ্রহণকারীকে আমরা স্কুলব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ দিয়ে উৎসাহিত করেছি।’

ব্যতিক্রমী ও সুন্দর এই উদ্যোগের প্রশংসা করে উপস্থিত অভিভাবক ও স্থানীয়রা জানান, এমন আয়োজন সমাজ থেকে কিশোর অপরাধ দূর করতে এবং শিশুদের নৈতিক চরিত্র গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।