২৮ মে ২০২৬, ০৭:৩৬

ঈদের নামাজের আগে কী কোরবানি করা যায়, শরিয়তের বিধান কী

কোরবানির পশু  © সংগৃহীত

ঈদুল আজহার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো কোরবানি। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট নিয়মে পশু জবাই করার মাধ্যমে এই ইবাদত সম্পন্ন করা হয়। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে—ঈদের নামাজের আগে কোরবানি করা যাবে কি না। ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, যেসব এলাকায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয় সেখানে নামাজের আগে কোরবানি করলে তা সহিহ হবে না।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার ইবাদত, আমার জীবন ও মৃত্যু সবই আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক। তাঁর কোনো শরিক নেই।’ (সুরা আনআম, আয়াত : ১৬২–১৬৩)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো।’ (সুরা কাউসার, আয়াত : ২)

ঈদের নামাজের পর থেকেই কোরবানির সময় শুরু

হাদিস অনুযায়ী, ঈদুল আজহার দিনে কোরবানির নির্ধারিত সময় শুরু হয় ঈদের নামাজ আদায়ের পর থেকে। নামাজের আগে পশু জবাই করলে তা কোরবানি হিসেবে গণ্য হবে না।

হাদিসে এসেছে, ‘যে নামাজের আগে কোরবানি করেছে, সে যেন পুনরায় কোরবানি করে নেয়।’ (বুখারি, হাদিস : ৯৮৫)

জুনদাব ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদের নামাজ আদায় করে খুতবা দেন এবং এরপর কোরবানি করেন। এ থেকেই আলেমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, ঈদের নামাজের আগে কোরবানি করা শরিয়তসম্মত নয়।

কোথাও কোথাও রয়েছে ব্যতিক্রম

তবে শরিয়তে কিছু বিশেষ অবস্থার কথাও উল্লেখ রয়েছে। যেসব এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় না, যেমন কিছু প্রত্যন্ত গ্রাম বা দুর্গম অঞ্চল, সেখানে ১০ জিলহজ ফজরের পর থেকেই কোরবানি করা বৈধ।

ফিকহবিদরা বলেন, বড় শহর ও জনপদে যেখানে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়, সেখানে নামাজের আগে কোরবানি করা যাবে না। কিন্তু যেসব এলাকায় ঈদের জামাত হয় না, সেখানে ফজরের পর থেকেই কোরবানি শুরু করা যায়।

অর্থাৎ, শহর ও বড় এলাকায় ঈদের নামাজ শেষে কোরবানি করতে হবে। অন্যদিকে, যেসব স্থানে ঈদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা নেই, সেখানে ফজরের পর থেকেই কোরবানি করা জায়েজ।

সময় মেনে কোরবানি করাই ইবাদতের শুদ্ধতা

আলেমরা বলেন, কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; এটি একটি নির্ধারিত সময় ও নিয়ম মেনে আদায় করা ইবাদত। তাই শরিয়তের বিধান অনুসরণ করে সঠিক সময়ে কোরবানি করা ইবাদতের শুদ্ধতা ও গ্রহণযোগ্যতার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

তাদের মতে, মুসলমানদের উচিত কোরবানির ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া না করে শরিয়তের নির্দেশনা মেনে চলা এবং ইবাদতের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন থাকা।