দাঁত দেখে যেভাবে বুঝবেন কুরবানির পশুর বয়স
আগামীকাল (২৮ মে) সারাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলমানদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব কুরবানির ঈদ। আর সেই কুরবানির জন্য সঠিক এবং উপযোগী পশু নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ। যার ব্যত্যয় ঘটলে কুরবানি না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, পশু কুরবানির ক্ষেত্রে একটি অন্যতম শর্ত হলো- গরু বা মহিশের বয়স হতে হবে কমপক্ষে ২ বছর। অপরদিকে ছাগল বা ভেড়ার ক্ষেত্রে বয়স হতে হবে কমপক্ষে ১ বছর। কিন্তু পশুর শারিরীক গঠন দেখে সবসময় বয়স বোঝা না-ও যেতে পারে।
আবার বর্তমানে অসাধু ব্যবসায়ীরা দ্রুত লাভের আশায় অল্পসময়ে পশুকে মোটাতাজা করে কুরবানির উপযুক্ত বলে বাজারজাত করাটাও অস্বাভাবিক না। এমতাবস্থায় কুরবানির জন্য পশু নির্বাচনকারী ব্যক্তি যদি বয়স যাচাইয়ে পারদর্শী হন, তাহলে তার জন্য সঠিক পশু বাছাই করা সহজ।
যেমন গরু, মহিষ বা ছাগলের বয়স নিশ্চিত করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো- তাদের মুখের সামনের পাটির নিচের দাঁত (Incicors) পর্যবেক্ষণ করা। পশুর উপরের পাটিতে কোনো সামনের দাঁত থাকে না, কেবল শক্ত মাড়ি থাকে।
আসুন দেখে নেওয়া যাক বয়সভেদে পশুর দাঁতের পরিবর্তনগুলো কেমন হয়?
গরুর বয়স চেনার উপায়
দুই বছর বা কুরবানির উপযুক্ত গরু : পশুর মুখের নিচের পাটির ঠিক মাঝখানের দুটি দুধদাঁত পড়ে গিয়ে সেখানে দুটি স্থায়ী বড় দাঁত গজায়। পশু কেনার ক্ষেত্রে এটি ভালোভাবে লক্ষ্য করতে হবে।
তিন বছর : মাঝখানের দুটি দাঁতের দুই পাশে আরও দুটি বড় দাঁত উঠে মোট ৪টি স্থায়ী দাঁত থাকবে তিন বছর বয়সি পশুর।
চার বছর : দুই পাশে আরও দুটি দাঁত গজিয়ে মোট ৬টি স্থায়ী দাঁত হবে।
পাঁচ বছর : নিচের পাটির সামনের সবকটি অর্থাৎ ৮টি দাঁতই স্থায়ী ও বড় হয়ে যাবে।
ছাগল বা ভেড়ার বয়স বোঝার উপায়
১ বছর বা কুরবানির উপযুক্ত : ছাগলের ক্ষেত্রেও ঠিক মাঝখানের দুটি দুধদাঁত পড়ে গিয়ে দুটি স্থায়ী বড় দাঁত ওঠে।
দেড় থেকে দুই বছর : মুখগহ্বরে মোট ৪টি বড় স্থায়ী দাঁত দেখা যাবে।
এবার দুধদাঁত ও স্থায়ী দাঁতের পার্থক্য জানা যাক
দুধদাঁত (অপ্রাপ্তবয়স্ক) : এগুলো আকারে ছোট, তুলনামূলকভাবে বেশি সাদা এবং ধারালো হয়।
স্থায়ী দাঁত (প্রাপ্তবয়স্ক) : এগুলো আকারে বেশ বড়, চওড়া এবং কিছুটা হলদেটে বা কালচে রঙের হয়।
এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, পশুর দাঁত কীভাবে দেখবো? সেক্ষেত্রে হাটে গিয়ে অভিজ্ঞ কারও সাহায্য নিতে পারি আমরা। যিনি পশুর মুখ হাঁ করালে আপনি উপরের লক্ষণগুলো ঠিক আছে কি-না, তা যাচাই করে দেখতে পারবেন। এতে করে কুরবানির বিষয়ে আপনি আরো নিশ্চিত হবেন। এবং শরিকদারের কুরবানিও যথাযথ হবে।