২৩ মে ২০২৬, ১৩:৪৯

কোরবানির পশু কেমন হওয়া উচিত

কোরবানির পশু  © সংগৃহীত

কোরবানির জন্য পশু নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ, ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী কোরবানির পশুর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও গুণাবলি রয়েছে। তাই অনেকের মনেই প্রশ্ন আসে কোরবানির জন্য কোন পশু সবচেয়ে উত্তম? উট, গরু, ভেড়া নাকি ছাগল? ইসলামি শরিয়াহ ও হাদিসের আলোকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়।

ফিকহবিদদের মতে, কোরবানির পশুর মধ্যেও উত্তমতার একটি ক্রম রয়েছে। ইসলামি গবেষণাভিত্তিক ফতোয়া প্ল্যাটফর্ম ইসলাম কিউ অ্যান্ড এ-এর তথ্যমতে, পশুর আকার, মাংসের পরিমাণ এবং এর মাধ্যমে কত বেশি মানুষ উপকৃত হবে এসব বিষয় বিবেচনায় কোরবানির পশুর মর্যাদা নির্ধারণ করা হয়।

এ কারণে উট ও গরুকে তুলনামূলকভাবে বেশি উত্তম ধরা হয়, কারণ এসব পশুর মাংস বেশি হওয়ায় অধিকসংখ্যক মানুষের মধ্যে বণ্টন করা সম্ভব। অন্যদিকে ভেড়া ও ছাগলও শরিয়তসম্মত কোরবানির পশু হলেও আকার ও উপকারের দিক বিবেচনায় তাদের অবস্থান পরে আসে।

*উট: একজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানির জন্য সবচেয়ে উত্তম পশু হলো উট।

*গরু বা ষাঁড়: একজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ গরু বা ষাঁড় দ্বিতীয় স্থানে।

*ভেড়া: এরপর রয়েছে ভেড়া।

*ছাগল: ভেড়ার পর ছাগল।

*উটের সাত ভাগের এক ভাগ: একাধিক ব্যক্তি মিলে উটের অংশে অংশগ্রহণ করলে।

*গরুর সাত ভাগের এক ভাগ: একাধিক ব্যক্তি মিলে গরুর অংশে অংশগ্রহণ করলে।

এ ক্রমানুসারে উত্তমতা নির্ধারণের পেছনে পশুর আকার, মাংসের পরিমাণ এবং এর মাধ্যমে বেশি মানুষের উপকারের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, উট বা গরুর মাধ্যমে বেশি মানুষের মাঝে মাংস বিতরণ করা সম্ভব, যা দরিদ্রদের জন্য বেশি উপকারী।

আরো পড়ুন: জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের বিশেষ ১০ আমল

উত্তম পশুর বৈশিষ্ট্য
শুধু পশুর ধরনই নয়, কোরবানির পশুর কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যও গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসের আলোকে এই বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

মোটা ও মাংসল: পশুটি মোটা, স্বাস্থ্যবান এবং মাংসে পরিপূর্ণ হওয়া উচিত। আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেছেন, রাসুল (সা.) দুটি শিংওয়ালা, সাদা-কালো মিশ্রিত ভেড়া কোরবানি করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫,৫৫৭)

শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ: পশুটি শারীরিকভাবে সুস্থ ও অক্ষত হতে হবে। আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) একটি সম্পূর্ণ (খাসি না করা), শিংওয়ালা, কালো মুখ, চোখের চারপাশে কালো বৃত্ত এবং কালো পা বিশিষ্ট পুরুষ ভেড়া কোরবানি করেছিলেন। (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ১১,৩১৫)

অপছন্দনীয় পশু
এ ছাড়া নিম্নলিখিত ত্রুটিযুক্ত পশুগুলো মাকরুহ: যার শিংয়ের অর্ধেক বা তার বেশি কাটা বা যার শিং পুরোপুরি উপড়ে ফেলা হয়েছে; যার কান সামনে বা পেছনে ক্রস করে কাটা বা লম্বালম্বি কাটা বা ছিদ্র করা, কিংবা এতটাই কাটা যে কানের নালি দৃশ্যমান; যে পশু এতটাই কৃশ যে তার হাড়ে মজ্জা নেই; যে পুরোপুরি অন্ধ, যদিও চোখ উপস্থিত; যে পশু পালের সঙ্গে না চলে, যতক্ষণ না তাকে তাড়ানো হয়; যার লেজের অর্ধেক বা তার বেশি কাটা; যার জননাঙ্গ কাটা; যার দাঁত (সামনের বা পেছনের) কিছু হারিয়েছে (জন্মগতভাবে না হলে) এবং যার স্তনবৃন্ত কাটা (জন্মগতভাবে না হলে) বা যার দুধ বন্ধ হয়ে গেছে।

এ ত্রুটিগুলো পশুর শারীরিক অখণ্ডতা বা স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে, যা কোরবানির মানকে হ্রাস করে। তবে যদি পশু জন্মগতভাবে এই ত্রুটি নিয়ে জন্মায়, তবে তা কোরবানির জন্য গ্রহণযোগ্য। কোরবানির পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রে শরিয়াহর নির্দেশনা আমাদের শিক্ষা দেয় যে এটি কেবল একটি ধর্মীয় রীতি নয় বরং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীলতার প্রকাশ। উত্তম পশু নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি দরিদ্র ও অভাবী মানুষের জন্য বেশি মাংস বিতরণ করতে পারি।

সূত্র: ইসলাম কিউএ ডটইনফো