কোরবানি থেকে সংগ্রাম, বাংলায় ইসলামের আগমন
মুসলিম বিজেতা ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজীর বাংলা বিজয়ের পূর্বে বাংলায় ইসলামের আগমন ঘটে আরব বণিক ও সুফী সাধকদের হাত ধরে। ইসলাম প্রচারের প্রথম দিকে সুফী সাধকরা কোনো রাজশক্তির সমর্থন পাননি। বরং তৎকালীন রাজাদের অত্যাচার থেকে মানুষকে বাঁচাতে তাঁরা বাংলায় আগমন করেন। এই আগমনে বহু মানুষ ইসলামের সুমহান আদর্শে বিমোহিত হয়ে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নেন। সূফী সাধকদের প্রচারিত ইসলাম পরবর্তীকালে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভ‚মিকা পালন করেছিল।
এই সময়ে যারা ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে বাংলায় আগমন করেন তাঁদের মধ্যে প্রধান কয়েকজন হলেন, শাহ সুলতান বলখী, শাহ মুহাম্মদ সুলতান রুমী, বাবা আদম শহীদ, মখদুম শাহদৌলা শহীদ, শায়খ জালালুদ্দীন তাবরিজী, শাহ নেওয়ামতুল্লাহ বুতশিকন, শাহ মখদুম রূপোশ এবং শায়খ ফরিদুদ্দীন শুক্করগঞ্জ, শাহ জালাল ইয়েমেনি। এসকল সুফী সাধকরা স্থানীয় শাসকদের অপশাসন ও শোষণ থেকে সাধারণ মানুষদের মুক্তির জন্য কাজ করেছেন।
বাংলার সেন শাসকরা ছিলেন হিন্দু ধর্মের অনুসারী। তাদের সময়ে গরু কুরবানী করা ছিল নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এরই ধারাবাহিকতায় গরু কুরবানির অপরাধে সেন রাজা বল্লাল সেন কতৃক মুসলিম নির্যাতন করার ঘটনা এক মুসলিম হজ্জযাত্রীর কাছ থেকে জানতে পারেন বাবা আদম শহীদ রহ.। বাবা আদম শহীদ ছিলেন বাংলায় আগমনকারী প্রথমদিকের সুফিদের মধ্যে অন্যতম।
বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ জেলার আবদুল্লাহপুরে দরবেশের মাযার অবস্থিত। মাযারের অদূরে ‘আদম শহীদের মসজিদ’ নামে একটি মসজিদ রয়েছে। উপরোক্ত বিবরণ আজও রামপাল এলাকার মানুষের মাঝে জনশ্রুতি হিসেবে প্রচারিত হচ্ছে। এবং স্থানীয়রা ঘটনার পক্ষে সাক্ষ্য দেন। লেখক বাবা আদম শহীদের মাজার পরিদর্শনে গেলে আদম শহীদ মসজিদের ইমাম উপরোক্ত ঘটনা সত্য বলে সাক্ষ্য দেন।
বাংলায় আগমনকারী অন্যান্য সুফিদের সম্পর্কে জানা যায় যে, তাঁরা একাকী বা কিছু অনুসারীসহ বাংলায় এসেছিলেন এবং তাঁদের আধ্যাত্মিক শক্তি ও ইসলামের অন্তর্নিহিত অনাবিল সত্যের জোরে পৌত্তলিকতার এ কেন্দ্রভ‚মিতে তৌহিদের বাণী প্রচার করেছিলেন। কিন্তু বাবা আদম শহীদ সম্পর্কে জানা যায় যে, তিনি একটি সেনাদল নিয়ে মক্কা থেকে বাংলায় এসেছিলেন। সেন রাজা বল্লাল সেনের রাজত্বকালে (১১৫৮-১১৭৯ খ্রি.) বাবা আদম শহীদ ঢাকা জেলার তৎকালীন বিক্রমপুর পরগণার অন্তর্গত আবদুল্লাহপুর গ্রামে আসেন। বাবা আদমের আগমনের কারন ছিল যে, গরু কুরবানীর অপরাধে বল্লাল সেন কতৃক মুসলিম নির্যাতন।
তিনি রামপালের আবদুল্লাপুর গ্রামে এসে তাঁবু স্থাপন করেন। তাঁর সঙ্গে আসা শিষ্যদের আহারের জন্য একটি গরু জবেহ করা হয়। হঠাৎ একটি শিকারি পাখি (চিল) মুসলিম শিবির থেকে এক টুকরো গরুর মাংস নিয়ে বল্লাল সেনের সেনা শিবিরের উপর দিয়ে উড়ে যেতে থাকে। এসময় অন্য একটি চিল এসে প্রথম চিলটির থাবা থেকে মাংসটি ছিনিয়ে নিতে চায়। ফলে মাংসের টুকরোটি মাটিতে পড়ে যায়। হিন্দু সেনারা বুঝতে পারে যে, এটি জবাই করা গরুর মাংস এবং তারা অবিলম্বে রাজাকে এ সংবাদটি জানায়।
বিক্রমপুরের রাজা বল্লাল সেন এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে, মুসলমানরা তাঁর সাথে যুদ্ধ করার জন্য সেনাদলসহ এসেছে। ফলে তিনি সেনাবাহিনী প্রস্তুত করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন। এরই প্রেক্ষিতে মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে পনেরো দিন ধরে ঘোরতর যুদ্ধ চলে। ১৪ তম দিনে হিন্দুরা তাদের বিপুল ক্ষতি অনুভব করলো এবং মুসলমানদেরকে অজেয় মনে করলো।
সেনাবাহিনীর হতাশা দেখে ১৫তম দিনে রাজা বল্লাল সেন নিজেই যুদ্ধক্ষেত্রে এসে সেনাবাহিনী পরিচালনা শুরু করেন। কিন্তু যুদ্ধে বিজয়ের বিষয়ে রাজা নিজেও নিশ্চিত ছিলেন না। পরাজিত হলে যাতে মুসলমান বাহিনীর হাতে রাজপরিবারের মহিলাদের কোনোরূপ সন্মানহানি না ঘটে, এজন্য তিনি যুদ্ধ যাত্রার আগে রাজ অন্তঃপুরে একটি অগ্নিকুণ্ড (চিতা) প্রজ্জ্বলিত করে যান। তিনি পরিবারের মহিলাদেরকে পরাজয়ের সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই চিতায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহুতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে যান। যুদ্ধে পরাজয়ের বার্তা পৌঁছানোর জন্য তিনি একজোড়া সংকেতবাহী কবুতরকে পোশাকের নিচে লুকিয়ে নিয়ে যান।
রাজা নিজে যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হওয়ার কারণে যুদ্ধের মোড় ঘুরে গেলো। মুসলিম সেনারা শত্রু পক্ষের আক্রমণ প্রতিরোধে ব্যর্থ হলো। মুষ্টিমেয় মুসলিম সেনা বীরত্ব সহকারে যুদ্ধ করতে করতে একের পর এক শাহাদত বরণ করলো। অবশেষে বাবা আদম তাঁর অসাধারণ শৌর্য ও বিক্রমের পরিচয় দিয়ে একাই যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুসেনার বিরুদ্ধে অস্ত্র চালনা করে যেতে থাকলেন। কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি অনুভব করলেন যে, তাঁর শাহাদাত নিকটবর্তী। কাজেই তিনি যুদ্ধক্ষেত্রের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে মাগরিবের নামাযে রত হলেন। সুযোগ বুঝে রাজা ত্বরিত গতিতে অগ্রসর হয়ে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। রাজা বারবার তাঁর ঘাড়ে তরবারির আঘাত করতে লাগলেন।
কিন্তু রাজা আশ্চর্য হয়ে দেখলেন যে, তাঁর শত আঘাত দরবেশের ঘাড়ে একটুও আঁচড় কাটতে পারেনি। রাজার বারংবার আঘাতের মধ্যেও দরবেশ তাঁর নামায পড়ে যেতে থাকেন। নিশ্চিন্তে নামায শেষ করার পর দরবেশ রাজাকে বললেন যে নিজের তরবারি ত্যাগ করে আমার তরবারি নিয়ে আমার ঘাড়ে আঘাত করুন। দরবেশের নির্দেশমতো রাজা দরবেশের শিরশ্চেদ করলেন। এভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে মুসলমানদের সবাই শাহাদত বরণ করলেন। যুদ্ধে জয়লাভ করে রাজা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠেন। তাঁর সারা শরীর ও পোশাক রক্তাক্ত হয়ে গিয়েছিল।
যুদ্ধক্ষেত্র থেকে প্রাসাদে প্রত্যাবর্তনের পূর্বে তিনি রক্তাক্ত শরীর ও পোশাক ধুয়ে ফেলতে মনস্থ করলেন। নিকটেই একটি পুকুর ছিল। তিনি সেদিকে এগিয়ে গেলেন। পুকুরের কিনারে পৌঁছে তিনি একের পর এক সমস্ত পোশাক খুলে ধুয়ে ফেললেন। কিন্তু অভাবিত বিজয়ের আনন্দে পোশাক অভ্যন্তরে রাখা কবুতর দু’টির কথা তিনি একেবারেই ভুলে গিয়েছিলেন। রাজার অমনোযোগিতার কারণে কবুতর দু’টি মুক্তি পেয়ে রাজপ্রাসাদ অভিমুখে উড়ে চলে যায়।
ফলে রাজপ্রসাদের রমণীরা সংকেতবাহী কবুতর দেখে অগ্নিকুণ্ডে ঝাঁপিয়ে পড়ল। স্নান শেষে রাজা নিজের ভুল বুঝতে পারলেন। তিনি ত্বরিত গতিতে রাজপ্রাসাদ অভিমুখে ধাবিত হলেন। কিন্তু সেখানে ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যায়। ফিরে গিয়ে রাজা দেখলেন, তাঁর পরিবার-পরিজন সবাই অগ্নিকুণ্ড প্রাণ দিয়েছে। আর কেউ বেঁচে নেই। দুঃখ ও অনুশোচনায় রাজা নিজেও জ্বলন্ত আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এভাবে যুদ্ধে জয়ী হয়ে রাজা বল্লাল সেন সপরিবারে আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণ করে ‘পোড়া রাজা’ উপাধি লাভ করেন। আর অন্যদিকে রাজার হাতে নিহত হয়ে বাবা আদম লাভ করলেন শহীদ উপাধি। দরবেশ শাহাদত বরণ করলেও তাঁর সাধনা ও আদর্শ সজীব হয়। সমগ্র এলাকায় ইসলাম বিজয় লাভ করে।
বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ জেলার আবদুল্লাহপুরে দরবেশের মাযার অবস্থিত। মাযারের অদূরে ‘আদম শহীদের মসজিদ’ নামে একটি মসজিদ রয়েছে। উপরোক্ত বিবরণ আজও রামপাল এলাকার মানুষের মাঝে জনশ্রুতি হিসেবে প্রচারিত হচ্ছে। এবং স্থানীয়রা ঘটনার পক্ষে সাক্ষ্য দেন। লেখক বাবা আদম শহীদের মাজার পরিদর্শনে গেলে আদম শহীদ মসজিদের ইমাম উপরোক্ত ঘটনা সত্য বলে সাক্ষ্য দেন।
অপরদিকে শাহ জালাল (রহ.) এর সাথেও গরু কুরবানীর ঘটনা সম্পৃক্ত। সিলেট শহরের টোলতকর মহল্লায় বাস করতেন বোরহানুদ্দিন নামে এক মুসলমান। সেই মহল্লায় তিনি ছিলেন একমাত্র মুসলমান। জীবনে তার একটাই অভাব ছিল একটি পুত্রসন্তান। তিনি আল্লাহর কাছে সন্তানের জন্য দোয়া করতেন। একদিন গভীর আবেগ নিয়ে তিনি মানত করলেন, যদি আল্লাহ আমাকে একটি পুত্রসন্তান দান করেন, তবে আমি তার সন্তুষ্টির জন্য গরু কুরবানি করব।
আল্লাহ তায়ালা তার দোয়া কবুল করলেন। কিছুদিন পর তার ঘর আলো করে একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। তার মন আনন্দে ভরে উঠল। তবে নিজের মানতের কথা তিনি ভুললেন না। কিন্তু পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তার আশপাশের সবাই হিন্দু; গরু কুরবানীকে তারা গর্হিত অপরাধ মনে করে। তাই তিনি গোপনে কুরবানি সম্পন্ন করলেন।
কোরবানির এই খবর পৌঁছে যায় তৎকালীন সিলেটের হিন্দু রাজা গৌড়গোবিন্দের দরবারে। রাজা প্রচণ্ড ত্রুদ্ধ হয়ে উঠেন। সঙ্গে সঙ্গে আদেশ হয় বোরহানুদ্দিনকে দরবারে হাজির করা হোক। দরবারে উপস্থিত হয়ে বোরহানুদ্দিন স্বীকার করলেন, আল্লাহর উদ্দেশে মানত পূরণের জন্য তিনি গরু কুরবানি করেছেন। তার স্বীকারোক্তির পর নেমে এলো নির্মম শাস্তি। নিষ্ঠুর আদেশে তার নিষ্পাপ শিশুপুত্রকে হত্যা করা হয়, আর বোরহানুদ্দিনের একটি হাত কেটে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: ঈদের নামাজের আগে কী কোরবানি করা যায়, শরিয়তের বিধান কী
সেই সময় বাংলার মসনদে অধিষ্ঠিত ছিলেন সুলতান শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ। গৌড়নগরে ছিল তার রাজদরবার। নির্মম ঘটনার ভার বইতে না পেরে আহত ও শোকাহত বোরহানুদ্দিন গেলেন সুলতানের দরবারে। সুলতান এই সংবাদ শুনে গভীরভাবে মর্মাহত হন। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, এই জুলুমের প্রতিকার করতেই হবে। সুলতানের নির্দেশে সেনাপতি সিকান্দার খান গাজীর নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী সিলেটের দিকে অগ্রসর হয়। শুরু হয় সংঘর্ষ। কিন্তু গৌড়গোবিন্দের দুর্গম রাজ্য, তার সুসজ্জিত সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় প্রতিরোধের সামনে প্রথম অভিযানগুলো সফল হয়নি।
ঠিক সেই সময় আগমন ঘটে শাহজালাল রহ. এর। শাহজালালের আগমন শুধু একটি সামরিক অভিযানে নতুন শক্তিই যোগ করেনি; এটি মানুষের মনে সাহস, আত্মবিশ্বাস ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় সৃষ্টি করেছিল। তার আত্মিক প্রেরণা, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। অবশেষে গৌড়গোবিন্দের শক্তি পরাজিত হয়, আর সিলেটে প্রতিষ্ঠিত হলো মুসলিম শাসন।
ব্রিটিশ শাসনামলেও হিন্দু জমিদারীতে গরু কুরবানী নিষিদ্ধ ছিল ফলে মানুষ বকরি বা ছাগল দিয়ে কুরবানি আদায় করতো। ফলে কুরবানির ঈদ বকরি ঈদ নামে পরিচিতি পায়। একুশ শতকে এসেও ভারতে বিজেপি সরকার গরুকে মা আখ্যা দিয়ে গরু কুরবানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
বাংলার ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করলে যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, এই ভুখণ্ডে ইসলামের বিস্তার কেবল রাজনৈতিক ঘটনা ছিল না; এটি ছিল একটি বহুমাত্রিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক রূপান্তরের প্রক্রিয়া। বাংলায় ইসলাম প্রচারের ইতিহাস একদিকে যেমন সুফিবাদ, মানবতা ও সাম্যের ইতিহাস, অন্যদিকে এটি ত্যাগ, সংগ্রাম ও প্রতিরোধের ইতিহাসও বটে। আর এই ইতিহাসের কেন্দ্রে রয়েছে কুরবানির চেতনা, যে চেতনা মানুষকে আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে মুক্ত করে সত্য, ন্যায় ও মানবকল্যাণের পথে পরিচালিত করে।
ইসলামে কুরবানী কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি মানুষের আত্মিক পরিশুদ্ধির শিক্ষা। হযরত ইবরাহিম (আ.) যখন আল্লাহর আদেশে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় সন্তানকে ত্যাগ করতে প্রস্তুত হন, তখন মানবজাতির সামনে এক মহান আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হয়, তা হল আদর্শ ও সত্যের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের আদর্শ। এই ত্যাগের শিক্ষা পরবর্তীকালে ইসলামের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে প্রতিফলিত হয়েছে। বাংলায় ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রেও এই ত্যাগ ও সংগ্রামের চেতনা গভীরভাবে কাজ করেছে। বাংলার মানুষ ইসলামকে কেবল একটি নতুন ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করেনি; বরং এটি তাদের জন্য হয়ে উঠেছিল মানবমর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং আত্মিক মুক্তির এক নতুন দিগন্ত।
লেখক : মো. ইসমাইল হোসাইন, প্রভাষক, ইতিহাস বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।