০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৯

খোলা মাঠে জুমার নামাজ আদায় করা যাবে কি?

প্রতীকী ছবি  © টিডিসি ফটো/এআই

জুমার নামাজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, এটি মুসলমানদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদ। এই নামাজ আদায়ে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। তবে বাস্তবতায় অনেক সময় মসজিদের বাইরে, বিশেষ করে খোলা মাঠে জুমা আদায়ের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ অবস্থায় খোলা স্থানে জুমার নামাজ আদায় করা বৈধ কি না এ প্রশ্নে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে কৌতূহল দীর্ঘদিনের। ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে এ বিষয়ে কী নির্দেশনা রয়েছে, তা নিয়েই আলোচনা উঠে এসেছে।

ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী জুমার নামাজের জন্য যেসব শর্ত জরুরি

  • স্থানটি শহর বা উপশহর হতে হবে;
  • জামায়াত থাকতে হবে (ইমামসহ ন্যূনতম চারজন মুসল্লি);
  • যোহরের সময়ের মধ্যে নামাজ আদায় করতে হবে;
  • সাধারণ মুসল্লিদের জন্য উন্মুক্ত অনুমতি থাকতে হবে;
  • খুতবা প্রদান করতে হবে।

এ বিষয়ে ইসলামিক স্কলারদের মতে, ‘শহর বা উপশহর‘ বলতে এমন এলাকা বোঝায় যেখানে ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা ও প্রশাসনিক উপস্থিতি রয়েছে। সে হিসেবে বাংলাদেশের অধিকাংশ গ্রাম, যেখানে এসব সুবিধা বিদ্যমান, তা উপশহরের অন্তর্ভুক্ত ধরা যেতে পারে।

গ্রাম ও দুর্গম এলাকার বিধান ভিন্ন:
তবে সম্পূর্ণ দুর্গম, জনবিচ্ছিন্ন এলাকা যেমন পাহাড়ি গভীর জঙ্গল বা মরু অঞ্চলের ক্যাম্প এসব স্থানে জুমার নামাজ আদায় করার বিধান নেই। সেখানে মুসল্লিদের যোহরের নামাজ আদায় করতে হবে।

হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে আলেমগণ উল্লেখ করেন, হযরত আলী (রা.) ও হযরত হুযাইফা (রা.)-এর বর্ণনায় শহরকেন্দ্রিক জুমার নামাজের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একইভাবে, প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী (রহ.)-ও জুমার জন্য জামায়াত ও সভ্য সমাজের উপস্থিতিকে শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

কুরআনের নির্দেশনা:
এ বিষয়ে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, জুমার দিনে আজান হলে মুসল্লিদের দ্রুত আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হতে এবং বেচাকেনা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে (সূরা জুমা: ৯)। তাফসিরকারদের মতে, এখানে ‘যিকরুল্লাহ‘ বলতে খুতবাকেই বোঝানো হয়েছে।

আলেমদের মতে, জুমার নামাজের মূল বিষয় হলো নির্ধারিত শর্তগুলো নিশ্চিত করা। তাই মসজিদ না থাকলেও, যদি শহর বা উপশহর এলাকায় সব শর্ত পূরণ হয়, তাহলে খোলা মাঠেও জুমার নামাজ আদায় করা সম্পূর্ণ বৈধ। তবে জনবিচ্ছিন্ন বা অনুন্নত এলাকায় এ বিধান প্রযোজ্য নয়। [সূত্র: ইসলামী মাসয়ালা]