জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ৫ টি বিশেষ আমল
সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন পবিত্র জুমুআ। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে এই দিনটি মুমিন মুসলমানের জন্য অত্যন্ত বরকতময়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা (সূর্যাস্ত) থেকে শুরু করে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ২৪ ঘণ্টা সময় ইবাদতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি এক বিশেষ আলোচনায় জুমুআর দিনের ১৪টি আমলের মধ্য থেকে অতি গুরুত্বপূর্ণ ৫টি আমলের কথা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছেন প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।
১. অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ
জুমুআর দিনের সবচেয়ে প্রধান আমল হলো নবী করীম (সা.)-এর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন জুমুআর দিন ও রাতে যেন উম্মতরা বেশি বেশি দরুদ পড়ে। কারণ, আল্লাহর একদল ফেরেশতা নিয়োজিত আছেন যারা পাঠকারীর নাম ও পরিচয়সহ এই দরুদ নবীজীর রওজায় পেশ করেন। ওজু ছাড়াও যেকোনো অবস্থায় ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’-এর মতো সংক্ষিপ্ত দরুদও পাঠ করা যায়।
২. ফজরের নামাজ জামাতে আদায়
সপ্তাহের সকল নামাজের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে উত্তম ও শ্রেষ্ঠ নামাজ হলো জুমুআর দিনের ফজরের নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা। এই ফজিলত লাভের জন্য বৃহস্পতিবার রাতেই আগে আগে ঘুমানো এবং প্রয়োজনে অ্যালার্ম দিয়ে বা অন্যের সহযোগিতা নিয়ে হলেও জামাতে শরিক হওয়ার জন্য জোরালো তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
৩. সূরা কাহাফ তেলাওয়াত
জুমুআর দিন সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করা মুমিনের জন্য নূর বা আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে। হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি জুমুআর দিন এই সূরা পড়বে, তার জন্য কিয়ামতের কঠিন অন্ধকারে আলোর ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া এক জুমুআয় এই সূরা পাঠ করলে পরবর্তী জুমুআ পর্যন্ত তার জীবন ঈমানি নূরে আলোকিত থাকে এবং এটি দাজ্জালের ফিতনা থেকেও হিফাজত করে। যারা পড়তে পারেন না, তারা অন্যের তেলাওয়াত শুনেও সওয়াব পেতে পারেন।
৪. মসজিদে আগে যাওয়া ও প্রতিটি কদমে এক বছরের সওয়াব
এটি দুনিয়ার সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ আমলগুলোর একটি। জুমুআর দিন আগে আগে ঘুম থেকে ওঠা, উত্তমরূপে গোসল করা, পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া (বাহনে না চড়া), ইমামের কাছাকাছি বসা এবং অনর্থক কাজ না করে জিকির-আজকারে মশগুল থাকা—এই শর্তগুলো পূরণ করলে প্রতিটি কদমের বিনিময়ে এক বছর নফল রোজা এবং এক বছর রাতভর তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার সওয়াব আমলনামায় যুক্ত হয়।
৫. দোয়া কবুলের বিশেষ সময়ে মোনাজাত
জুমুআর দিনের একটি বিশেষ সময়ে আল্লাহ বান্দার কোনো দোয়া ফিরিয়ে দেন না। যদিও সময়টি হাদিসে সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবে অধিকাংশ ইসলামিক স্কলার ও হাদিস বিশ্লেষকদের মতে, জুমুআর দিনের শেষ প্রহর অর্থাৎ আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত সময়টিই দোয়া কবুলের সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। তাই এই সময়ে বেশি বেশি কান্নাকাটি ও আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, এই ৫টি আমল নিয়মিত করার মাধ্যমে একজন মুমিন তার সারা সপ্তাহের ঈমানি শক্তি রিচার্জ করতে পারেন। জীবনকে সুন্দর ও পরকালকে আলোকিত করতে এই আমলগুলো নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সাথেও শেয়ার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।