পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের সঠিক নিয়ম, নিয়ত ও তাকবির
দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার শেষে আজ শনিবার সারা দেশে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের দিনের প্রধান আকর্ষণ ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ। দীর্ঘ এক বছর পর এই নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ায় অনেকেই এর নিয়ম ও অতিরিক্ত তাকবির সম্পর্কে দ্বিধায় থাকেন। পাঠকদের সুবিধার্থে ঈদের নামাজের নিয়ম, নিয়ত ও তাকবির সংবাদের ভাষায় নিচে তুলে ধরা হলো:
ঈদের নামাজের নিয়ত
ঈদের নামাজের জন্য মনে মনে নিয়ত করাই যথেষ্ট, তবে মুখে উচ্চারণ করতে চাইলে আরবি বা বাংলায় এভাবে বলা যেতে পারে:
আরবি নিয়ত: نَوَيْتُ أنْ أصَلِّي للهِ تَعَالىَ رَكْعَتَيْنِ صَلَاةِ الْعِيْدِ الْفِطْرِ مَعَ سِتِّ التَকْبِيْرَاتِ وَاجِبُ اللهِ تَعَالَى اِقْتَضَيْتُ بِهَذَا الْاِمَامِ مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْকَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اللهُ اَكْبَرْ।
বাংলা উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকাআতাইন সালাতিল ইদিল ফিতরি মাআ সিত্তাতিত তাকবিরাতি ওয়াজিবুল্লাহি তা’আলা ইকতাদাইতু বিহাজাল ইমামি মুতাওয়াঝঝিহান ইলা ঝিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।
অর্থ: আমি এই ইমামের পেছনে কেবলামুখী হয়ে অতিরিক্ত ৬ তাকবিরসহ ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের নিয়ত করছি।
প্রথম রাকাতের নিয়ম
নামাজ শুরুর সময় ইমাম সাহেব 'আল্লাহু আকবার' বলে হাত বাঁধবেন, মুক্তাদিরাও একইভাবে হাত বেঁধে ছানা (সুবহানাকা আল্লাহুম্মা...) পড়বেন। এরপর ইমাম সাহেব অতিরিক্ত ৩টি তাকবির দেবেন। প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবিরের সময় হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে। তৃতীয় তাকবিরের সময় হাত উঠিয়ে তাকবিরে তাহরিমার মতো বেঁধে নিতে হবে। এরপর ইমাম সাহেব সুরা ফাতিহা ও অন্য একটি সুরা পাঠ করবেন এবং স্বাভাবিক নামাজের মতোই রুকু ও সিজদা করে প্রথম রাকাত শেষ করবেন।
দ্বিতীয় রাকাতের নিয়ম
দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে ইমাম সাহেব প্রথমে সুরা ফাতিহা ও অন্য একটি সুরা পাঠ করবেন। সুরা পাঠ শেষে রুকুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত ৩টি তাকবির দেওয়া হবে। এই তিন তাকবিরের প্রতিবারই হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে। এরপর চতুর্থবার 'আল্লাহু আকবার' বলে রুকুতে যেতে হবে। এরপর স্বাভাবিক নিয়মেই সিজদা ও শেষ বৈঠকের মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন করতে হবে।
নামাজ পরবর্তী আমল ও খুতবা
ঈদের নামাজের সালাম ফেরানোর পর মুসল্লিরা তাকবির পাঠ করবেন। তাকবিরটি হলো: ‘আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবর, ওয়া-লিল্লাহিল হামদ্।’
উল্লেখ্য, ঈদের নামাজের পর ইমাম সাহেব দুটি খুতবা প্রদান করবেন। জুমার নামাজের খুতবা শোনা যেমন ওয়াজিব, ঈদের খুতবা শোনাও তেমনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খুতবা চলাকালীন কোনো প্রকার কথা বলা বা অন্য কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থেকে মনোযোগ সহকারে খুতবা শোনার জন্য শরিয়তের নির্দেশনা রয়েছে।