২০ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৭

ঈদুল ফিতর উদযাপন শুরু হয় কখন থেকে, ইতিহাস ও তাৎপর্য কী?

শনিবার বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন হবে  © ফাইল ছবি

পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এক মাস সিয়াম সাধনার পর রোজাদারদের জন্য আনন্দ ও কৃতজ্ঞতার বার্তা নিয়ে আসে এই দিনটি। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে ইসলামের ইতিহাসে ঠিক কখন থেকে ঈদুল ফিতর উদযাপন শুরু হয়? ইতিহাসবিদ ও ইসলামী গবেষকদের মতে, ইসলামী বর্ষপঞ্জি অর্থাৎ হিজরি সন চালু হওয়ার পর থেকেই ঈদুল ফিতর উদযাপনের প্রথা শুরু হয়।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) যখন মক্কা থেকে ৬২২ খ্রিস্টাব্দে হিজরত করে মদিনায় যান, সেই সময়টিকে ভিত্তি ধরে হিজরী সাল গণনা করা হয়। এ ঘটনার স্মরণে যে হিজরি বর্ষপঞ্জি চালু হয়, তার প্রথম বছর থেকেই মুসলমানদের মাঝে ঈদুল ফিতর পালনের প্রচলন শুরু হয় বলে ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।

মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়্যতের প্রথম ১৩ বছরের জীবনে রোজা ও ঈদের বিধান প্রচলিত ছিল না। তার হিজরতের আগে মদিনায় নওরোজ ও মেহেরজান নামে দুটি উৎসব প্রচলিত ছিল। মদিনাবাসীরা নববর্ষ উপলক্ষে নওরোজ এবং বসন্ত উপলক্ষে মেহেরজান পালন করত।

এ বিষয়ে রাসুল স. এর সাহাবী হযরত আনাস বিন মালিক (রা.) বলেন, প্রতি বছর মুশরিকদের জন্যে দুটি দিন ছিল, সেদিন তারা আনন্দ-উৎসব করতো। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় আসেন তখন তিনি বলেন, তোমাদের ওই দুটি উৎসবের চেয়ে আরও উত্তম দুটি আনন্দের দিন দেয়া হলো। ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা। (সুনানে নাসায়ি, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা নম্বর-১৭৭, সুনানে আবু দাউদ, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা নম্বর-১৬১, হাদিস নম্বর-নম্বর-১১৩৬)।

ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, দ্বিতীয় হিজরি সালে মুসলমানদের ওপর রমজান মাসের রোজা ফরজ করা হয়। সেই বছরই রোজা শেষে প্রথমবারের মতো ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। অর্থাৎ রমজানের সিয়াম সাধনার পর শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে মুসলমানরা আনন্দ ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে এ উৎসব পালন করতে শুরু করেন।

আরও পড়ুন: ঈদুল ফিতর উদযাপন শুরু হয় কখন থেকে, ইতিহাস ও তাৎপর্য কী?

ঈদুল ফিতর শুধু আনন্দের উৎসবই নয়; বরং এটি মুসলমানদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুশাসনের অংশ। রোজার মাধ্যমে আত্মসংযম, ধৈর্য ও তাকওয়া অর্জনের পর এ দিনে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি সমাজের দরিদ্র মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য ঈদের আগে সাদকাতুল ফিতর আদায়ের বিধান রয়েছে।

ঐতিহাসিক বর্ণনায় জানা যায়, মদিনায় অবস্থানকালে মহানবী (সা.) মুসলমানদের দুটি উৎসবের দিন নির্ধারণ করে দেন ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। এরপর থেকেই মুসলিম বিশ্বে এই দুটি ঈদ ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব মুসলিম অধ্যুষিত দেশসহ বাংলাদেশেও ধর্মীয় মর্যাদা ও আনন্দঘন পরিবেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়। ঈদের দিন মুসলমানরা ঈদের নামাজ আদায় করেন, একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। ইসলামের ইতিহাস ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় যুগের পর যুগ ধরে ঈদুল ফিতর মুসলমানদের জীবনে আধ্যাত্মিকতা, ভ্রাতৃত্ব ও আনন্দের এক অনন্য প্রতীক হয়ে রয়েছে।