আপন ভাই ও বোনকে জাকাত দেওয়া যাবে কী?
ইসলামে যাকাত একটি ফরজ ইবাদত, যা সম্পদের পবিত্রতা ও সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রতি বছর নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক মুসলমানদের জন্য জাকাত আদায় করা বাধ্যতামূলক। তবে জাকাত কারা পেতে পারে এবং কাকে দেওয়া যাবে এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই নানা প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে অনেকেই জানতে চান, নিজের আপন ভাই বা বোনকে জাকাত দেওয়া বৈধ কি না।
ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, যদি কোনো ভাই বা বোন আর্থিকভাবে অসচ্ছল হন এবং তারা জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হন, তাহলে তাদেরকে জাকাত দেওয়া বৈধ। বরং অনেক আলেমের মতে, আত্মীয়স্বজনের মধ্যে যারা অভাবগ্রস্ত, তাদেরকে জাকাত দেওয়া অধিক সওয়াবের কাজ। কারণ এতে একদিকে যেমন ফরজ ইবাদত আদায় হয়, অন্যদিকে আত্মীয়তার সম্পর্কও দৃঢ় হয়।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিজের ওপর বর্তায়, তাদেরকে জাকাত দেওয়া যায় না। যেমন বাবা-মা, দাদা-দাদি, সন্তান বা নাতি-নাতনিদের জাকাত দেওয়া বৈধ নয়। কিন্তু ভাই-বোন সাধারণত একজনের ওপর আরেকজনের ভরণপোষণের দায়িত্বে পড়েন না। তাই তারা যদি দরিদ্র হন, তাহলে তাদেরকে জাকাত দেওয়া জায়েজ।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘সাধারণ মিসকিনকে সাদাকাহ দিলে তা শুধু সাদাকাহ; আর অভাবী-আত্মীয়কে দেওয়া একই সঙ্গে দুটি সৎকর্ম সাদাকাহ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা।’ (সুনান নাসায়ী, হাদীস নম্বর: ২৫৮২;
ভাই- বোনের ব্যয়ভার যদি যাকাতদাতার উপর শরঈ ভাবে আবশ্যক হয়, যেমন পিতার অবর্তমানে কিংবা তার অসামর্থ্যতায় উপার্জন- অক্ষম ভাই-বোনের দায়িত্ব যদি তিনি বহন করেন, সেক্ষেত্রে যাকাতের অর্থে তাদের ভরণপোষণ দিলে যাকাত আদায় হবে না, তবে তাদের অন্যান্য খরচ বাবদ দেওয়া যেতে পারে।
আপন ভাই যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হলে তাকে যাকাতের টাকা দেয়া যাবে। বরং উত্তম। কেননা, তাকে দিলে দুটি সওয়াবের অধিকারী হবেন। সদাকার সাওয়াব ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার সওয়াব।
হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ বলেন, মিসকিনকে যাকাত দেওয়া সদকা। আর আত্মীয়কে দেওয়া সদকা ও আত্মীয়তার হক আদায়। (মুসনাদে আহমাদ ১৫৭৯৪ সুনানে নাসাঈ ২৫৮২)।