ফিতরা (সাদাকাতুল ফিতর) কী, নিসাব, দেওয়ার নিয়ম ও ফজিলত
ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ দান হলো সাদাকাতুল ফিতর বা ফিতরা। এটি রমজান মাস শেষে ঈদুল ফিতরের আগে গরীব-মিসকিনদেরকে দেওয়া ওয়াজিব দান।
১. ফিতরা কী
ফিতরা হলো রমজান শেষে ঈদের নামাজের আগে মুসলমানদের পক্ষ থেকে গরীব-দুঃখীদের জন্য নির্ধারিত দান।
হাদিসে এসেছে:
রাসুলুল্লাহ ﷺ সাদাকাতুল ফিতর ফরজ (ওয়াজিব) করেছেন—যাতে রোজাদারদের অনর্থক কথা ও গুনাহ থেকে পবিত্র করা হয় এবং গরীবদের খাবারের ব্যবস্থা হয়। (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)
২. ফিতরার নিসাব
যে ব্যক্তি যাকাতের নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক, তার উপর ফিতরা ওয়াজিব।
নিসাব:
সোনা ≈ ৭.৫ ভরি (প্রায় ৮৭.৫ গ্রাম)
অথবা
রূপা ≈ ৫২.৫ ভরি (প্রায় ৬১২ গ্রাম)
যার কাছে ঈদের দিন নিজের প্রয়োজনের অতিরিক্ত এই পরিমাণ সম্পদ বা সমমূল্যের টাকা আছে, তার উপর ফিতরা ওয়াজিব।
➡ পরিবারে যার উপর ফিতরা ওয়াজিব, তাকে দিতে হবে:
নিজের জন্য
স্ত্রী
নাবালক সন্তানের জন্য
৩. ফিতরার পরিমাণ
হাদিস অনুযায়ী ফিতরা দেওয়া হয় এক সা’খাদ্যশস্য।
১ সা’≈ প্রায় ২.৫–৩ কেজি খাদ্যশস্য।
সাধারণত দেওয়া যায়:
গম
চাল
খেজুর
যব
কিশমিশ
বর্তমানে অধিকাংশ জায়গায় খাদ্যের মূল্য অনুযায়ী টাকা দিয়ে ফিতরা দেওয়া হয়।
৪. ফিতরা দেওয়ার সময়
ফিতরা দেওয়ার সময় তিনভাবে বলা হয়—
১️.উত্তম সময়:
রমজানের শেষ দিন বা ঈদের নামাজের আগে।
২️.জায়েজ সময়:
রমজানের মাঝামাঝি থেকে দেওয়া যায়।
৩️.মাকরুহ:
ঈদের নামাজের পরে দিলে গুনাহ হবে, তবে আদায় হয়ে যাবে।
৫. ফিতরা দেওয়ার নিয়ম
গরীব ও মিসকিনদের দিতে হবে
যাকাতের হকদারদের দেওয়া যায়
আত্মীয় গরীব হলে তাদের দেওয়া উত্তম (মা-বাবা ও সন্তান ছাড়া)
নগদ টাকা বা খাদ্য—উভয়ভাবেই দেওয়া যায়
৬. ফিতরার ফজিলত
১️.রোজার ত্রুটি ও গুনাহ মাফের কারণ হয়
২️.গরীবদের ঈদের আনন্দে শরিক করে
৩️.সমাজে সহমর্মিতা সৃষ্টি করে
৪️.আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ হয়
রাসূল ﷺ বলেছেন:‘ফিতরা রোজাদারের অপূর্ণতা দূর করে এবং মিসকিনদের খাদ্যের ব্যবস্থা করে।’ (আবু দাউদ)
সংক্ষেপে: ফিতরা হলো ঈদের আগে গরীবদের জন্য নির্ধারিত ওয়াজিব দান, যা রোজার পূর্ণতা আনে এবং সমাজে সহমর্মিতা সৃষ্টি করে।