১৩ মার্চ ২০২৬, ১৪:১০

ইতিকাফে নবীজির আদর্শ: নির্জনে ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও লাইলাতুল কদরের সন্ধান

প্রতীকী ছবি  © টিডিসি ফটো

পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশক মুসলমানদের জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ সময়। এ সময় আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং লাইলাতুল কদরের সন্ধানে অনেক মুসল্লি মসজিদে ইতিকাফে বসেন। ইতিকাফ শুধু একটি ইবাদতই নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি, ধ্যান ও আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলার এক অনন্য সুযোগ। ইসলামের ইতিহাসে ইতিকাফের সর্বোত্তম আদর্শ স্থাপন করেছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

ইসলামী সূত্রগুলোতে উল্লেখ আছে, মহানবী (সা.) লাইলাতুল কদরের সন্ধানে এক সময় রমজানের প্রথম দশকে ইতিকাফ করেছিলেন। পরে মাঝের দশকেও ইতিকাফ করেন। পরবর্তীতে তাঁর কাছে প্রতীয়মান হয় যে, লাইলাতুল কদর রমজানের শেষ দশকে নিহিত। এরপর থেকে তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিয়মিত শেষ দশকে ইতিকাফ পালন করেছেন।

হাদিসে বর্ণিত আছে, একবার কোনো কারণে তিনি শেষ দশকে ইতিকাফ করতে না পারায় পরবর্তীতে শাওয়াল মাসে তার কাজা আদায় করেন। আবার যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন, সে বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেছিলেন। আলেমরা বলেন, সম্ভবত মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসার আভাস পেয়ে তিনি ইবাদতে আরও বেশি মনোনিবেশ করেছিলেন।

ইতিকাফে মহানবী (সা.)-এর জীবনাচরণ ছিল অত্যন্ত সরল ও আত্মনিবেদিত। তিনি মসজিদের ভেতরে একটি ছোট তাবু বা নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করতেন, যাতে মানুষের ভিড় থেকে দূরে থেকে পুরো সময় আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করতে পারেন। প্রয়োজন ছাড়া তিনি মসজিদ থেকে বের হতেন না।

হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, ইতিকাফ অবস্থায় নবী করিম (সা.) কেবল প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়া ঘরে আসতেন না। তবে তিনি পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও যত্নবান ছিলেন। কখনো কখনো তিনি মসজিদ থেকে মাথা ঘরের দিকে বাড়িয়ে দিতেন, আর আয়েশা (রা.) তাঁর মাথা ধুয়ে দিতেন বা চিরুনি করে দিতেন।

ইতিকাফ অবস্থায় মহানবী (সা.) সাধারণ সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকেও নিজেকে বিরত রাখতেন। তিনি রোগী দেখতে যেতেন না কিংবা জানাজায় অংশগ্রহণ করতেন না যাতে করে পুরো সময় আল্লাহর ইবাদত, জিকির ও কোরআন তিলাওয়াতে নিবিষ্ট থাকতে পারেন। ইসলামী শিক্ষায় এটিই ইতিকাফের মূল উদ্দেশ্য মানুষের ব্যস্ততা থেকে দূরে সরে গিয়ে আল্লাহর দিকে সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করা। তবে প্রয়োজন হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারতেন।

হাদিসে এসেছে, একবার তাঁর স্ত্রী হজরত সাফিয়া (রা.) রাতে মসজিদে এসে তাঁর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন। পরে যখন তিনি চলে যেতে ওঠেন, তখন মহানবী (সা.) নিজেই তাঁকে পৌঁছে দিতে মসজিদের বাইরে পর্যন্ত গিয়েছিলেন।

ইসলামিক স্কলাররা বলেন, নবী করিম (সা.)-এর ইতিকাফ ছিল সহজ, স্বাভাবিক এবং কৃত্রিমতা ও জটিলতামুক্ত। পুরো সময় তিনি আল্লাহর জিকির, ইবাদত এবং লাইলাতুল কদরের সন্ধানে নিমগ্ন থাকতেন। এভাবেই তিনি উম্মতের সামনে ইতিকাফের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও আদর্শ তুলে ধরেছেন যেখানে রয়েছে আত্মসংযম, নির্জনতা এবং আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা। [সূত্র: ইসলাম জিঙ্গাসা ও জবাব]