রমজানে নফল ইবাদতের গুরুত্ব
পবিত্র রমজান মাস শুধু রোজা রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি, তাওবা, কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া-জিকির ও নফল ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময়। ইসলামিক স্কলারদের মতে, এ মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। একটি নফল ইবাদত অন্য সময়ের একটি ফরজ আমলের সমান সওয়াব এনে দেয় বলেও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘যে ব্যক্তি রমজানে একটি নফল ইবাদত করে, সে অন্য সময়ের একটি ফরজ আমলের সওয়াব পায়; আর যে ফরজ আদায় করে, সে অন্য সময়ের সত্তরটি ফরজ আদায়ের সমান সওয়াব লাভ করে।’ (তিরমিজি)। আলেমরা বলেন, এ হাদিস রমজানে নফল ইবাদতের বিশেষ গুরুত্ব তুলে ধরে।
রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান উল্লেখ করে তারা বলেন, এ সময়টিকে সর্বোচ্চ কাজে লাগানো উচিত। বিশেষ করে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়, ইশরাক ও চাশতের নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া-জিকির, সাদকা ও দান—এসব নফল ইবাদত মুমিনের আমলনামাকে সমৃদ্ধ করে।
হাদিসে এসেছে, ‘আল্লাহ সেই বান্দাকে ভালোবাসেন, যে রাতে জাগ্রত হয়ে তাকে ডাকেন।’ (বুখারি)। এছাড়া রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কুরআন পড়ো, কারণ এটি কিয়ামতের দিন তোমার জন্য সুপারিশকারী হবে।’ (মুসলিম)।
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি আহ্বানকারীকে তার আহ্বানের জবাব দিই, যখন সে আমাকে ডাকে।’ (সূরা বাকারা: ১৮৬)। এ আয়াত রমজানে বেশি বেশি দোয়া ও জিকিরের প্রতি উৎসাহ জোগায়।
রমজানের শেষ দশককে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়। হাদিস অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) এ সময় ইবাদতে অধিক মনোযোগী হতেন এবং পরিবার-পরিজনকেও ইবাদতে উদ্বুদ্ধ করতেন। এ দশকের মধ্যেই রয়েছে লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম।
আরেক হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি রমজানে ইমান ও আশার সঙ্গে কিয়ামুল লাইল আদায় করবে, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, মুসলিম)।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, রমজান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। নফল ইবাদতের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জন এবং আখিরাতের পাথেয় সঞ্চয়ের এ সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়। তাই এ বরকতময় মাসে বেশি বেশি ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।