পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনেই বোঝা যাবে জামায়াতের উত্থান কতটা স্থায়ী
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন—ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের একজন। আশির দশকের শেষভাগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রিপন দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্ব থেকে বিএনপির জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্বে উঠে এসেছেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময় থেকে শুরু করে দেশের নানা রাজনৈতিক পালাবদল প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি। ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা, দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং জাতীয় রাজনীতির নানা পর্যায়ে সম্পৃক্ততা তার রাজনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে তার অবস্থান তাঁকে দলের অতীত অভিজ্ঞতা, বর্তমান রাজনৈতিক কৌশল এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার একজন প্রাসঙ্গিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ড. আসাদুজ্জামান রিপন দলীয় সংকট, আন্দোলন-সংগ্রাম, নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং নির্বাচনী রাজনীতির নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এগিয়েছেন। বিশেষ করে ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর বিএনপির কঠিন রাজনৈতিক সময়ে দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক পথচলায় উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। সাম্প্রতিক সময়েও দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, সরকার পরিচালনায় দায়িত্বশীলতা, রাজনৈতিক জবাবদিহি এবং জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নিয়ে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তার রাজনৈতিক অবস্থান ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকারের সামনে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ, বিএনপির সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ এবং দলের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে মূল্যায়ন জানতে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস তার একান্ত সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছে। ডেইলি ক্যাম্পাসের বিশেষ প্রতিনিধি তারেক সালমান ও মো. ইমতিয়াজ কবির প্রত্যয়ের সঙ্গে ড. রিপনের দীর্ঘ আলাপের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো-
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: সাম্প্রতিক নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ফলাফলকে অনেকে ডানপন্থী রাজনীতির উত্থান হিসেবে দেখছেন। বিএনপির জন্য এটি কতটা চ্যালেঞ্জ মনে করছেন?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: জামায়াতের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলকে স্থায়ী রাজনৈতিক উত্থান হিসেবে মূল্যায়ন করব কি না, তা পরবর্তী নির্বাচনেই আরও স্পষ্ট হবে। একজন রাজনীতির শিক্ষার্থী হিসেবে আমি দেখতে আগ্রহী, আগামী নির্বাচনে তাদের অবস্থান কোথায় দাঁড়ায়।
রাইট-উইং পলিটিক্সের উত্থান বলতে আপনি যা বোঝাচ্ছেন—যেমন জামায়াত এবার সত্তরের কাছাকাছি আসন পেয়েছে—এটাকে আমি তাদের স্থায়ী উত্থান বলব কি না, সেটা পরবর্তী নির্বাচনে দেখার জন্য আমি খুবই আগ্রহী। একজন রাজনীতির ছাত্র হিসেবে পরবর্তী নির্বাচনে কী হয়, তা দেখার জন্য আমার আগ্রহ আছে।
কোনো রাজনৈতিক দলের ভোট বৃদ্ধি পেলেই সেটিকে স্থায়ী উত্থান বলা যায় না। জনগণের সমর্থন ধরে রাখতে হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হয়। বিএনপি সরকার যদি ভালো কাজ করে, জনগণের সমস্যা সমাধান করে, তাহলে সমর্থন ধরে রাখতে পারবে। আর তা না পারলে মানুষ বিকল্পের দিকে যাবে।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: বিএনপির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিপরীতে জামায়াত ও এনসিপি এখন বিরোধী রাজনীতিতে রয়েছে। তারা সংসদে কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা কতটুকু পালন করতে পারবে?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালেও সংসদে এমন একচেটিয়া অবস্থা ছিল, যেখানে কার্যকর বিরোধী দল ছিল না বললেই চলে। শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংসদে ১০ জনের বেশি সদস্যও বিরোধী দলে ছিলেন না।
আর এবারের নির্বাচনে জামায়াত এত আসন পাবে, সেটাও প্রত্যাশিত ছিল না। নির্বাচনের আগে অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করতেন, বিএনপি কত আসন পাবে? আমার ধারণা ছিল বিএনপি ২২০-এর আশপাশে পাবে—২১৭, ২২০ বা ২২৪-এর মতো। সেই তুলনায় পাঁচ-সাতটা আসন কম হয়েছে।
জামায়াত সংসদের প্রধান বিরোধী দলের রাজনীতিতে আগে সেভাবে ছিল না। আমাদের সঙ্গে যখন ছিল, তখন জোটে ছিল; আর যখন আমাদের সঙ্গে ছিল না, তখন তাদের বড়জোর দুই বা ১৮টি আসন ছিল। সুতরাং সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে রাজনীতি করার অভিজ্ঞতা তাদের কম।
বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্র চায়, জনগণের ইস্যুতে কথা বলা দেখতে চায়। তবে ধর্মীয় প্রশ্নে জামায়াতকে মানুষ সব সময় একটু ভিন্নভাবে দেখে।
আরেকটা কথা হচ্ছে, কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকার যদি যথাযথভাবে কাজ করতে না পারে, জনগণের আশা পূরণ করতে না পারে, তখন জনগণ বিকল্প খোঁজে। আমি যদি পাঁচ বছরের মধ্যে জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারি, তাহলে পরবর্তী নির্বাচনে জনসমর্থন ধরে রাখতে পারব অথবা আরও বাড়াতে পারব। আবার যদি মনে করি, আমি পারছি না, ব্যর্থ হচ্ছি—তখন তো একটা কথা আছে, ‘নেচার ডাজ নট অ্যালাউ এনি ভ্যাকুয়াম’। জনগণই তখন নিজেদের প্রয়োজনে বিকল্প তৈরি করে নেবে।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: রাজনৈতিক মেরুকরণ ও আদর্শিক পরিবর্তনকে কীভাবে দেখছেন?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: মানুষের আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে গণতন্ত্র। মানুষ নিজের পছন্দ অনুযায়ী প্রতিনিধি নির্বাচন করতে চায়। সংবিধানেও আছে, জনগণ তার স্বাধীন ইচ্ছায় প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। মানুষ মুক্তভাবে কথা বলতে চায়।
গত সাড়ে ১৫ বছরে বাংলাদেশে এমন একটি শাসনব্যবস্থা ছিল, যেখানে নির্বাচন নিয়ে মানুষের প্রশ্ন ছিল। আমি তখন বলতাম, ‘ইট ইজ আ ফেক অপোজিশন’। ভুয়া নির্বাচন যেমন আছে, তেমনি ভুয়া বিরোধী দলও আছে। একটা সংসদীয় মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল, সেখানে স্পিকার থাকতেন, সদস্যরা বক্তৃতা দিতেন, কিন্তু কার্যকর বিরোধী রাজনীতি ছিল না।
মানুষ কথা বলতে চায়, লিখতে চায়, স্বাধীনভাবে চলাচল করতে চায়। মানুষ নিজেকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের নাগরিক ভাবতে চায়। তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে কেউ খাটো করলে মানুষ সেটা পছন্দ করে না।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতা, ধর্মীয় পরিচয় এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উত্থান নিয়ে আলোচনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির অবস্থান কী?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: আমি নিজেও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম। চারটি মূলনীতি কীভাবে গৃহীত হয়েছিল, তা নিয়ে চর্চা করেছি। ’৭২ সালে সংসদ ছিল না, ছিল গণপরিষদ। সেই গণপরিষদ একটি লিখিত সংবিধান তৈরি করেছিল, যা ’৭২ সালে গৃহীত হয়।
আমার প্রশ্নটা মৌলিক—যারা গণপরিষদে বসে চারটি মূলনীতি নির্ধারণ করলেন, তাদের এই মূলনীতিগুলো নির্ধারণের ম্যান্ডেট কে দিয়েছিল? জনগণের মতামত নেওয়া হয়েছিল কি?
’৭০ সালের নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের কাঠামোর অধীনে নির্বাচন করেছিলেন। তারা নির্বাচনের সময় জনগণকে বলেননি যে, নির্বাচিত হলে দেশটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হবে, কিংবা রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবেন। সাধারণ মানুষ তখন সমাজতন্ত্র সম্পর্কে কতটা জানত, সেটাও প্রশ্ন।
আমি ধর্মনিরপেক্ষতার বিরোধিতা করছি বলে বাংলাদেশকে ধর্মীয় রাষ্ট্র বা থিওক্রেটিক স্টেট বানাতে বলছি না। সেটা আমাদের অবস্থান নয়। শহীদ জিয়াউর রহমান ’৭৮ সালে সংবিধান সংশোধনের সময় ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ যুক্ত করেছিলেন।
আমেরিকা তাদের মুদ্রায় ‘ইন গড উই ট্রাস্ট’ বলার পরেও যদি মৌলবাদী না হয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ ‘ইন আল্লাহ উই ট্রাস্ট’ বললেই কেন সাম্প্রদায়িক বা মৌলবাদী রাষ্ট্র হয়ে যাবে?
আমি বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষতা নয়, একটি ‘ধর্মসহিষ্ণু’ রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই। একজন মানুষ নিজের ধর্ম পালন করবেন, অন্য ধর্মের মানুষও তাদের ধর্ম পালন করবেন—এটাই স্বাভাবিক। ধর্মবিশ্বাসের কারণে অন্যের অধিকার খর্ব করা যাবে না।
একজন মানুষ তার ধর্মের প্রতি গভীর বিশ্বাস রাখতেই পারেন। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, অন্য ধর্মের মানুষ, অন্য মতের মানুষ কিংবা ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষকে দমন করতে হবে। প্রত্যেকের নিজস্ব বিশ্বাস ও মত প্রকাশের অধিকার থাকা উচিত।
বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় হচ্ছে বাংলাদেশি পরিচয়। আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রয়েছে। এই বৈচিত্র্যকে সম্মান করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। কোনো দল বা গোষ্ঠীকে শুধু তাদের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার পক্ষে আমি নই।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: ডানপন্থী রাজনীতির উত্থান, ধর্মীয় পরিচয় এবং ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: ধর্মের ব্যাপারে একজন মানুষ একনিষ্ঠ হতে পারেন। সেটা তার বিশ্বাস। কিন্তু এর মানে এই নয় যে অন্য ধর্মের মানুষ বা অন্য মতের মানুষকে দমন করবেন, তাদের ধর্ম পালন কিংবা সংস্কৃতিকে দমন করবেন। নট অ্যাট অল!
বাংলাদেশে ‘সাম্প্রদায়িক’ ও ‘অসাম্প্রদায়িক’—এ ধরনের শব্দ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। কিন্তু এ দেশে তো অনেক সম্প্রদায় আছে। বিভিন্ন জাতি, গোষ্ঠী, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষ আছে। এক অঞ্চলের ভাষা অন্য অঞ্চলের মানুষ বুঝতে পারেন না। বৈচিত্র্য তো আছেই। কিন্তু বৃহত্তর পরিচয়ে আমি কে? আমি বাংলাদেশি।
আমি যখন দলের মুখপাত্র ছিলাম, তখন একটা নতুন শব্দ চালু করেছিলাম—বাংলাদেশ হচ্ছে একটি ‘ধর্মসহিষ্ণু রাষ্ট্র’। এখানে যার যার ধর্ম সে পালন করবে। পাশের হিন্দু পরিবারে পূজার ঘণ্টা বাজলে কেউ তাদের থামতে বলে না। আবার হিন্দু এলাকায় আজান হলে কেউ বলে না, আজান বন্ধ করো।
তাই বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র নয়, আবার সোকল্ড অসাম্প্রদায়িক বা ধর্মহীন রাষ্ট্রও নয়। এই দেশ হচ্ছে ধর্মসহিষ্ণু। যার যার ধর্ম সবাই স্বাধীনভাবে পালন করতে পারে, নিজের মত ও পথ ধারণ করতে পারে।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: মেয়াদ শেষে বিএনপি সরকারের সফলতা-ব্যর্থতা কীভাবে মূল্যায়ন করা উচিত বলে মনে করেন?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: সরকারের সফলতা অবশ্যই তার কাজের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হবে। দীর্ঘ সময়ের শাসনের পর দেশের অর্থনীতি, প্রশাসন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে সময় প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে সরকারের সামনে তিনটি কাজ রয়েছে—রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিবিল্ডিং। অর্থাৎ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা, প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুদ্ধার করা এবং নতুন করে কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।
একটি স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নেওয়া সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংকটের পর দায়িত্ব নেওয়া সরকারের চ্যালেঞ্জ এক নয়। তবে এই বাস্তবতার কথা বললেই সরকার দায়মুক্তি পাবে না। সরকারকে কাজ করতে হবে, মানুষের জীবনমান উন্নত করতে হবে এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
সরকারের উচিত জনগণকে বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া। পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও প্রবাসী কার্ডের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতির সুফল পৌঁছে দিতে হবে।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আপনি নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। এখন বিএনপি ক্ষমতায়। রাজনৈতিক ত্যাগের বিনিময়ে পদ-পদবি বা সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাশা করা কতটা যৌক্তিক?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: আমি রাজনীতি করেছি দেশের পরিবর্তন দরকার বলে। আমি মনে করেছি, দেশের ব্যবস্থা ঠিক করতে হবে। কেউ আমাকে জোর করে রাজনীতিতে আনেনি; আমি নিজের সিদ্ধান্তে রাজনীতিতে এসেছি।
অনেকে মনে করেন, রাজনীতি করে দীর্ঘদিন কষ্ট করেছেন, জেলে গেছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন—তাই বিনিময়ে কিছু পাওয়া উচিত। আমি এই ধারণার সঙ্গে একমত নই। রাজনীতি মানুষের জন্য কাজ করার জায়গা। রাজনীতি করে ব্যক্তিগত সম্পদ বাড়াতে হবে, দামি গাড়ি কিনতে হবে কিংবা সুযোগ-সুবিধা নিতে হবে—এমন কোনো কথা নেই। এ ধরনের ধারণা থেকে রাজনীতি করার কোনো অর্থ নেই।
আমি সাধারণ জীবনযাপন করতে পছন্দ করি। রাজনীতিতে এসেছি মানুষের জন্য কাজ করতে, নিজের বৈষয়িক স্বার্থ হাসিল করতে নয়। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, মানুষ আমাকে কীভাবে মূল্যায়ন করে। মানুষের আস্থা ও সম্মান অর্জন করতে পারাটাই একজন রাজনীতিকের বড় প্রাপ্তি।
আমার রাজনৈতিক জীবনে কী পেলাম বা কী পেলাম না, তা নিয়ে আমার মধ্যে কোনো হতাশা নেই। আমি বিশ্বাস করি, যারা মানুষের সঙ্গে থাকতে চান এবং মানুষের কথা বলেন, মানুষ তাদের সম্মান করে। রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশের জন্য কাজ করা এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকা।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আসাদুজ্জামান রিপন: আশা করি ইউ আন্ডারস্ট্যান্ড।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: জি, অবশ্যই।
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: আপনাকেও ধন্যবাদ...