২৭ অক্টোবর ২০২৬, ২০:২০

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপিকে কেউ ঠেকাতে পারবে না

ড. আসাদুজ্জামান রিপন  © টিডিসি সম্পাদিত

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন দেশের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। আশির দশকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই রাজনীতিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক পালাবদলের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। বিএনপির আপদকালীন সময়ে দলের মুখপাত্র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলীয় সংকট, আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্বাচন ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে তার অবস্থান আলোচনায় এসেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করার পর দেশের রাজনৈতিক মেরুকরণ, বিরোধী দলের ভূমিকা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সাংবিধানিক সংস্কার, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং সরকারের জবাবদিহি নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিএনপির এই নেতার মতে, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, সরকার জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হলে জনগণ বিকল্প খুঁজবে। এসব বিষয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের বিশেষ প্রতিনিধি তারেক সালমান ও মো. ইমতিয়াজ কবির প্রত্যয় সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় কথা বলেছেন ড. আসাদুজ্জামান রিপন। সাক্ষাৎকারের নির্বাচিত অংশ তুলে ধরা হলো-

‘জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই বিএনপির দায়িত্ব’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় থাকার কারণে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংস্কারে বিএনপির ওপর বড় দায়িত্ব রয়েছে। সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার কোনো উদ্যোগ কি সরকার নেবে, নাকি বিএনপি নিজেদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেই অগ্রাধিকার দেবে?

বিএনপির নিজস্ব নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রয়েছে এবং দল সেটি বাস্তবায়ন করবে। আমাদের ৩১ দফায় প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, সংসদে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়পাল সৃষ্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যসহ সাংবিধানিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করছি আগামী শীতকালীন অধিবেশনে বেশ কিছু বড় মাপের সংবিধান সংশোধনী আনতে পারব।

এ ক্ষেত্রে সংবিধানের মৌলিক চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিষয়গুলো কীভাবে সমন্বয় করা যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চকক্ষ গঠিত হলে রাষ্ট্রপতি কীভাবে নির্বাচিত হবেন, নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষের সদস্যদের ভূমিকা কী হবে—এসব প্রশ্নের সাংবিধানিক সমাধান প্রয়োজন।

জনতুষ্টি অর্জন করা সহজ মন্তব্য করে ড. রিপন বলেন, বিএনপি শুধু সবাইকে খুশি করার জন্য সংস্কার করবে না। জনগণের কাছে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা কঠিন হলেও বাস্তবায়ন করা আমাদের দায়িত্ব। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে জনগণই আমাদের প্রশ্ন করবে।

এ ক্ষেত্রে সংবিধানের মৌলিক চরিত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়েও ভাবনা আছে। যেমন, বর্তমান সরকার নিম্নকক্ষ থেকে নির্বাচিত হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীও নির্বাচিত হয়েছেন। এখন যখন ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠিত হবে, তখন রাষ্ট্রপতি কীভাবে নির্বাচিত হবেন? শুধু নিম্নকক্ষের ৩০০ সদস্যের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন, নাকি উচ্চকক্ষের ১০০ ও নিম্নকক্ষের ৩০০—মোট ৪০০ সদস্যের ভোটে নির্বাচিত হবেন? এটা একটা বড় পরিবর্তন। এ জন্য বেশ কিছু সাংবিধানিক ধারণা যুক্ত করতে হবে।

আমরা যদি ডিসেম্বরের মধ্যে সংস্কারপ্রক্রিয়া শেষ করতে পারি, তাহলে জানুয়ারিতেই তা কার্যকর হতে পারে। সুতরাং শুধু সবাইকে খুশি করার জন্য নয়; জনগণকে যে ওয়াদা দিয়েছি এবং যেটা বাস্তবায়ন করা আমাদের দায়িত্ব, সেটা বাস্তবায়ন করব। বরং বাস্তবায়ন না করলে মানুষ আমাদের প্রশ্ন করবে।

‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় বিএনপি’

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ, দলটি সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে আমি এভাবে বলতে চাই—দ্য কমিটমেন্ট উই হ্যাভ গিভেন, উই উইল ডেফিনেটলি ইমপ্লিমেন্ট ইট। জুলাই সনদ নিয়ে ইদানীং বিএনপির বিরুদ্ধে একটা ভুল ন্যারেটিভ দাঁড় করানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে, বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না। কিন্তু বিএনপি ১০০ বার বাস্তবায়ন করতে চায়!

আমি গতকাল একটা টকশোতে পরিসংখ্যান দিয়ে বলেছি, ধরুন ৭০ শতাংশ বা ৬৯ শতাংশ মানুষ গণভোটে বা নির্বাচনে ভোট দিয়েছে। এর মধ্যে বিএনপিকে তো ৪৯-৫০ শতাংশ মানুষ দেশ পরিচালনা ও সরকার গঠনের জন্য ভোট দিয়েছে। এখন যদি গণভোটে ৭০ শতাংশ ভোট পড়ে থাকে, এর মধ্যে বিএনপির ভোটারদের ভোট কত? ৭০-এর মধ্যে তো ৫০ শতাংশ ভোটই আমার!

আমিই তো জনগণকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বলেছি। ৫০ শতাংশ জনগণ আমাকে সরকার গঠনের অনুমতি দিয়েছে, আর মোট ৭০ শতাংশ জনগণ গণভোটে ভোট দিয়েছে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হবে, তারাও তো জনগণকে ভোট দেওয়ার জন্য বলেছে। তুমি বলেছ, কিন্তু তোমার এবং অন্যদের মিলিয়ে ভোট হচ্ছে ২০ শতাংশ! তারা ৩৩ শতাংশ দাবি করে, নো, দ্যাট ডাজ নট অ্যাকাউন্ট। আমি যে পরিসংখ্যান দিয়ে কথা বলছি, সেই হিসাবে গণভোটে তাদের ও অন্যদের মিলিয়ে অংশ ২০ শতাংশ, আর আমার অংশ ৫০ শতাংশ। কারণ ৫০ শতাংশ জনগণ আমাকে সরকার গঠনের জন্য রায় দিয়েছে, আবার আমিই জনগণকে গণভোটে ভোট দিতে বলেছি।

নির্বাচনের আগে জনগণকে বলেছি, আমরা ক্ষমতায় গেলে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট করব, ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ সৃষ্টি করব, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনব। আমরা এগুলো বাস্তবায়ন করব বলেছি।

দীর্ঘ দেড় বছর যে সংস্কারপ্রক্রিয়া ও জাতীয় সংলাপের মধ্যে ছিলাম, সেখানে প্রতিটি বিষয়ে আমাদের সুস্পষ্ট অবস্থান ছিল। এমন তো নয় যে সংলাপে বলে এসেছি ‘হ্যাঁ’, আর এখানে এসে বলছি ‘না’; অথবা সেখানে ‘না’ বলেছি, এখানে এসে বলছি ‘হ্যাঁ’। সংলাপে আমরা যেসব বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ বলেছি এবং নোট অব ডিসেন্ট ছাড়া একমত হয়েছি, সেগুলোই বাস্তবায়ন করব।

জুলাই সনদ দিয়ে বিএনপিকে যারা ঘায়েল করার চেষ্টা করছেন, তাদের উদ্দেশে বলি—বিএনপি যা বলেছে, তার বাইরে গেলে সেটাই হবে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা। যেমন, বিএনপি স্পষ্ট বলেছে, ভোটের আনুপাতিক হারে বা পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ করবে না। এখন বিএনপি যদি হঠাৎ আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষ করে, সেটা তো জনগণের সঙ্গে প্রতারণা হবে! কারণ জনগণের কাছে বিএনপি বলেছে, আসন অনুপাতে উচ্চকক্ষ করবে এবং জনগণ সেই অবস্থানের ওপরই বিএনপিকে ভোট দিয়েছে। প্রতিপক্ষের ভুল ন্যারেটিভের বিপরীতে সঠিক উত্তরটা দিতে হবে।

‘সরকার ব্যর্থ হলে জনগণ বিকল্প খুঁজবে’

বিএনপি সংসদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। অন্যদিকে এক সময়ের বিএনপির ঘনিষ্ট মিত্র বর্তমানে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী ও নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো সংসদে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কার্যকর বিরোধী দল গড়ে ওঠার সম্ভাবনা কতটা?

সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জামায়াতে ইসলামী আগে বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিন জোটে ছিল। বিএনপির সঙ্গে না থাকলে সংসদে তাদের আসনসংখ্যা খুব বেশি ছিল না। ফলে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদীয় রাজনীতি পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাদের সীমিত।

বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্র চায়। তারা চায়, জনগণের সমস্যাগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা হোক। বিরোধী দল জনগণের ইস্যুতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেটি দেখার বিষয়।

তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে—কোনো সরকার যদি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়, তাহলে মানুষ বিকল্প খুঁজবে। আমি যদি পাঁচ বছরে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারি, তাহলে পরবর্তী নির্বাচনেও সমর্থন ধরে রাখতে পারব, এমনকি বাড়াতেও পারব। আর ব্যর্থ হলে জনগণই বিকল্প তৈরি করবে। মনে রাখতে হবে, রাজনীতিতে শূন্যতা দীর্ঘদিন থাকে না।

‘আওয়ামী লীগের অপরাধের জবাবদিহি থাকতে হবে’

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাখা বা দলটির রাজনীতিতে ফেরার প্রশ্নে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য রয়েছে। আপনার অবস্থান কী? দল হিসেবে দায় নির্ধারণ হবে, নাকি ব্যক্তির অপরাধের ভিত্তিতে বিচার হবে?

যারা গণহত্যা করেছে এবং জনধিকৃত, তাদের রাজনীতি অপরিহার্য—এমন কোনো কথা নেই। জার্মানিতে নাৎসি পার্টি নিষিদ্ধ হওয়ার পর দেশটির উন্নয়ন থেমে যায়নি। মুসলিম লীগও একসময় এ অঞ্চলে বড় রাজনৈতিক শক্তি ছিল, কিন্তু জনগণের সমর্থন হারিয়ে দলটি কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে।

তবে জবাবদিহির বিষয়টি বিভিন্ন স্তরে রয়েছে। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের কাজের জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ। দলের সদস্যরা দলের কাছে, সংসদ সদস্যরা সংসদের কাছে এবং সরকার সামগ্রিকভাবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। সবার আগে নিজের বিবেকের কাছেও জবাবদিহি রয়েছে।

‘জনগণকে সরকারকে প্রশ্ন করার সুযোগ দিতে হবে’

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা। বিএনপি সরকার সেই প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারবে?

২০২৪ সালের পরিবর্তনের বড় তাৎপর্য হচ্ছে, এখন সরকারকে ভাবতে হয়—জনগণ আমাদের পর্যবেক্ষণ করছে। সরকার কী করছে, জনপ্রতিনিধিরা কী করছেন, তা নিয়ে মানুষ কথা বলছে। জনগণের সমালোচনা ও গণমাধ্যমের আলোচনাকে গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।

’২৪ সালে মানুষ যে পরিবর্তনটা এনেছে, সেটা গণতান্ত্রিক পরিবেশে কথা বলার জন্য, নিজেকে সার্বভৌম নাগরিক ভাবার জন্য, নিজের সরকার নিজে গড়ার জন্য। আর যে সরকার বানাব, সেই সরকারকে যেন প্রশ্ন করতে পারি—‘এই, তুমি কী করছ এটা?’

একটি গণতান্ত্রিক সরকারের দায়িত্ব হলো জনগণের কাছে জবাবদিহি করা। নাগরিক সরকারকে প্রশ্ন করতে পারবেন—আপনি কী করছেন, কেন করছেন? সরকারকেও বুঝতে হবে যে জনগণের কাছে তার জবাবদিহি রয়েছে।

আমরা কী দেখলাম? আমরা দেখলাম, মিরপুরে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠায় সরকারী দলের একজন নারী সংসদ সদস্যকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। মাদক বিরোধী অভিযানে রীতিবিরোধী পদক্ষেপ নেয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার প্রেক্ষিতে একজন প্রতিমন্ত্রীকেও স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে হয়েছে।

আপনি তার কাজের ধরণকে সমালোচনা করতে পারেন, কিন্তু উদ্দেশ্যকে না —তবুও জনগণের মানসিকতাকে সম্মান জানিয়ে সরকার প্রধান এ ধরণের কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। আমি মনে করি, এটাই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণে দায়িত্বশীলতা থাকতে হবে। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে আগের মতো দায়িত্বহীন আচরণ করার সুযোগ ক্রমেই কমে আসবে।