৩০ মে ২০২৬, ১৬:৫২

দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা যেতে পারে

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. শামস্ রহমান  © টিডিসি সম্পাদিত

ঈদকে ঘিরে শৈশবের স্মৃতি, পারিবারিক আবহ এবং সামাজিক রীতিনীতি—এসব স্মৃতি যেন এক অন্য সময়ের গল্প বলে। সেই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কথার পরিধি ছড়িয়ে গেল শিক্ষার্থী, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সমাজের পরিবর্তন নিয়ে বিস্তৃত আলোচনায়। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. শামস্ রহমান মনে করেন, সমাজ ও প্রযুক্তি যতই বদলাক, কিছু মৌলিক মূল্যবোধ কখনো বদলায় না। শৈশবের ঈদ, বর্তমান ব্যস্ত জীবনে ঈদ উদ্‌যাপন, শিক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ এবং বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার বাস্তবতা নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সুবর্ণ আসসাইফ-

ভাইস চ্যান্সেলরের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিশ্ববিদ্যাালয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ থাকে, ঈদকে ঘিরে আপনার কোনো স্মৃতি কি আমাদের সঙ্গে শেয়ার করবেন?
ড. শামস্ রহমান: আমার জীবনের স্মৃতি খুব বেশি কাজে লাগবে কিনা জানি না। তবে অভিজ্ঞতা থেকে বলি—সবচেয়ে আগে যেটা দরকার, সেটা হলো ডিসিপ্লিন বা শৃঙ্খলা। এই সমাজটা সময়ের সঙ্গে বদলেছে—আমাদের পিতা-মাতার সময়, দাদা-দাদীর সময়, আর এখনকার সময় এক নয়। প্রযুক্তিও বদলেছে। কিন্তু কিছু জিনিস কখনো বদলায় না। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শৃঙ্খলা।

ডিসিপ্লিন মানে শুধু কথার কথা নয়। ক্লাসে সময়মতো যাওয়া, নির্দিষ্ট কাজ সময়মতো শেষ করা, নিয়ম মেনে চলা—এগুলোই ডিসিপ্লিন। আমরা ছোটবেলায় দেখেছি, ক্লাস শেষ হলেই মাঠে খেলতে যেতাম, আবার সন্ধ্যার আগে পড়তে বসতাম। কারণ সময়ের একটা শৃঙ্খলা ছিল। এখনো আমি শিক্ষার্থীদের বলি, সময়মতো ক্লাসে যাওয়া, দায়িত্ব পালন করা, প্রস্তুতি নেওয়া—এই অভ্যাসগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ।

ড. শামস্ রহমান

দ্বিতীয় বিষয় হলো, মানুষকে স্পেস দেওয়া এবং সম্মান করা। স্পেস দেওয়া মানে আসলে রেসপেক্ট করা। ধরুন, কেউ কথা বলছে—তার কথা মাঝখানে কেটে দেওয়া ঠিক নয়। ক্লাসরুমে কেউ কথা বললে তাকে আগে শুনতে হবে, তারপর নিজের মতামত দিতে হবে। শুধু আবেগ দিয়ে নয়, বস্তুনিষ্ঠভাবে কথা বলতে হবে। শোনার অভ্যাসটাই এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ।

‘‘সরকারের উচিত বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা খাতকে বিবেচনা করা। হয়তো একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা যেতে পারে, যারা উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ দেবে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত উচ্চশিক্ষাকে আরও উন্নত ও প্রতিযোগিতামূলক করা, যাতে আমরা বৈশ্বিক র‍্যাংকিংয়েও এগিয়ে যেতে পারি। বর্তমানে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক—দুই পর্যায়েই আমাদের অবস্থান খুব সন্তোষজনক নয়।’’

তৃতীয় বিষয় হলো ফোকাস। একজন শিক্ষার্থীকে জানতে হবে সে কী হতে চায়। তবে শুধু চাওয়া নয়, বাস্তবতাও বুঝতে হবে। আমি বলি, বড় ছবিটা আগে দেখতে হবে। আপনি যে লক্ষ্য ঠিক করছেন, সেটি বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—সেটা বোঝা জরুরি।

চতুর্থ বিষয় হলো ফ্লেক্সিবিলিটি। জীবনে সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হয় না। কোনো লক্ষ্য না হলে ভেঙে পড়া যাবে না। বিকল্প পথ খুঁজে এগিয়ে যেতে হবে। আমি একটি মফস্বল শহর থেকে শুরু করেছি, তারপর ধাপে ধাপে এগিয়েছি। এখানে শুধু লাক নয়, পরিশ্রম এবং চেষ্টা বড় ভূমিকা রাখে।

আপনার ছোটবেলা কোথায় কেটেছে?
ড. শামস্ রহমান: আমার ছোটবেলা টাঙ্গাইলে কেটেছে। মফস্বল শহর টাঙ্গাইলের আদালতপাড়া এলাকায়। সেখানেই আমার পড়াশোনা, প্রাইমারি স্কুল এবং পরে হাই স্কুল পর্যন্ত—ক্লাস সিক্স-সেভেন পর্যন্ত আমি সেখানেই পড়েছি। সেখানকার এখনো অনেক বন্ধু-বান্ধব আছেন। সেই ছোটবেলার অনেকেই আজ হয়তো জীবিত নেই, অনেকে হয়তো আর নেই, কিন্তু অনেকেই এখনো টাঙ্গাইলেই আছেন। আমি যখনই যাই, যথাসাধ্য তাদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করি। এখন যেহেতু যোগাযোগ অনেক সহজ হয়েছে, ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তাদের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ রাখতে পারি। এটা করতে পারি বলে আমি নিজেকে খুব গর্ববোধ করি—আমার ছোটবেলার বন্ধুদের সঙ্গে এখনো সম্পর্ক বজায় আছে।

ছোটবেলার স্মৃতিগুলো এখনো খুব জীবন্ত। আমরা তখন ক্রিকেট খেলতাম, টেনিস খেলতাম। কোন দলের সঙ্গে হারলাম, কোন দলের সঙ্গে জিতলাম—এসব এখনো মনে পড়ে। দৌড়ে স্কুলে যাওয়া, আবার বিকেলে মাঠে যাওয়া—এগুলো ছিল আমাদের নিত্যদিনের জীবন। অনেক বন্ধু ছিল, যাদের সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার স্মৃতিও আছে। এভাবেই মফস্বল শহরের জীবনে আমাদের বন্ধুত্বগুলো গড়ে উঠেছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে টিকে আছে।

‘‘বর্তমানে দেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় ৫৮টি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় ১১৬টি। কিন্তু প্রশ্ন হলো—শুধু সংখ্যাই কি যথেষ্ট? আমার মতে, এখানে মূল বিষয় হলো মান। সংখ্যার চেয়ে মান অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের উচিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান উন্নয়নের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া, বিশেষ করে গবেষণা, শিক্ষার মান এবং ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে।’’

এরপর আমি সেই স্কুল থেকে ক্যাডেট কলেজে যাই, তারপর পড়াশোনা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাই—আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে। তবে ছোটবেলার এই স্মৃতিগুলো এখনো মনে আছে। বিশেষ করে প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময় আমাদের শিক্ষকরা ট্রেনিং শেষে এসে আমাদের ডিসিপ্লিন এবং রেসপেক্টফুল হওয়া শেখাতেন। এই কথাগুলো এখনো খুব স্পষ্টভাবে মনে আছে। তারা বলতেন, শৃঙ্খলা ও শ্রদ্ধাশীল হওয়া খুব জরুরি। যুগ বদলাবে, সমাজ বদলাবে, অনেক কিছু পরিবর্তন হবে—কিন্তু এই মৌলিক বিষয়গুলো কখনো বদলায় না।

আপনার ছোটবেলার কথা যেহেতু উঠলো, পাশাপাশি এখন ঈদের সময়। জানতে চাচ্ছিলাম—আপনার ছোটবেলায় ঈদ কীভাবে কাটত, শেয়ার করবেন?
ড. শামস্ রহমান: ঈদের যে দুইটা দিন আছে, সেই সময় আমরা সকালে উঠে বাবার সঙ্গে, বড় ভাইদের সঙ্গে, কাজিনদের সঙ্গে মিলেমিশে ঈদের নামাজ পড়তে যেতাম। মাঠে নামাজ পড়া হতো—লিটারেলি মাঠে বা স্টেডিয়ামের মাঠে। আমরা সবাই মিলে সেখানে যেতাম। নামাজ শেষ করে ফেরার পথে আমাদের ফ্যামিলিতে একটা রেওয়াজ ছিল—আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে গিয়ে দেখা করা, সালাম দেওয়া, একটু খাওয়া-দাওয়া করা, বিশেষ করে ফিন্নি খাওয়া। এই জিনিসগুলো আমাদের সংস্কৃতির অংশ ছিল। তারপর আমরা বাসায় ফিরে আসতাম। এরপর একটা সময় হলে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা দেওয়া—এভাবেই ঈদটা উদ্‌যাপিত হতো।

‘‘ছোটবেলার স্মৃতিগুলো এখনো খুব জীবন্ত। আমরা তখন ক্রিকেট খেলতাম, টেনিস খেলতাম। কোন দলের সঙ্গে হারলাম, কোন দলের সঙ্গে জিতলাম—এসব এখনো মনে পড়ে। দৌড়ে স্কুলে যাওয়া, আবার বিকেলে মাঠে যাওয়া—এগুলো ছিল আমাদের নিত্যদিনের জীবন।’’

মূলত প্রথমে একটা ধর্মীয় রিচুয়াল আমরা পালন করতাম—মাঠে গিয়ে নামাজ পড়া, বড়দের সঙ্গে দেখা করা, তাদের কাছ থেকে মোলাকাত নেওয়া, তারপর আত্মীয়দের বাড়িতে যাওয়া। সেখানে বড়দের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করার একটা রেওয়াজ ছিল। চাচা, চাচি, ফুফা, ফুফু—সবাইকে সম্মান করার একটা সংস্কৃতি ছিল। এই জিনিসগুলো আমাদের পরিবার ও সমাজের ভেতরে খুব শক্তভাবে ছিল। এরপর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, খাওয়া-দাওয়া, ঘোরাঘুরি—এভাবেই আমাদের ছোটবেলার ঈদ কেটেছে।

এখনতো অনেক ব্যস্ততা। একটা বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বে আছেন আপনি। বিভিন্ন ব্যস্ততার ভেতর দিয়ে দিন যায়। এখন ঈদগুলো কীভাবে কাটে?
ড. শামস্ রহমান: এখন যেটা হয়, আমি অন্তত কিছুটা চেষ্টা করি আগের মতো কিছু রুটিন ধরে রাখতে। ছোটবেলার মফস্বল শহরে তো সবকিছু কাছাকাছি ছিল—হেঁটেই যাওয়া যেত, বড়জোর রিকশা নেওয়া লাগত। এখন ঢাকা শহরে সেটা আর সম্ভব নয়। আত্মীয়স্বজনরাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন, ট্রাফিকও একটা বড় বিষয়। তাই এখন আমি যেটা করি—ঈদের নামাজ পড়তে যাই। আমি যেখানে থাকি, তার পাশে একটা বড় মসজিদ আছে, সেখানে নামাজ পড়ি। নামাজ শেষে আত্মীয়স্বজনদের ফোন করে খবর নিই, ঈদের শুভেচ্ছা জানাই, ঈদ মোবারক দিই। যেখানে সম্ভব হয়, দু-একজন আত্মীয়ের বাড়িতে যাই। এভাবেই দিনটা কেটে যায়।

শ্রেণিকক্ষে ড. শামস্ রহমান

আগে ঈদে ঘরে রান্নার যে ব্যাপক আয়োজন হতো—মা, দাদি সবাই মিলে যেভাবে রান্না করতেন—এখন সেই মাত্রাটা হয়তো আগের মতো নেই। তবে ধর্মীয় রিচুয়ালটা এখনো থাকে।

আর বিশ্ববিদ্যালয়ের দিক থেকে আমি সবসময় চেষ্টা করি—আমাদের শিক্ষার্থীদের ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে, আর শিক্ষক-সহকর্মীদেরও ঈদ মোবারক জানাতে। এইটুকুর মধ্যেই এখন ঈদ কেটে যায়।

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও শিক্ষার মান উন্নয়নের সুযোগ দেখছেন?
ড. শামস্ রহমান: আমি যেটা দেখে এসেছি, শিক্ষার মানটা বাংলাদেশে যেমন ছিল আমরা সে মানটা ধরে রাখতে পেরেছি কিনা—এ নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। যদি না ধরে রাখতে পারি, তাহলে দেখা যায়—একসময়, বিশেষ করে ষাটের দশকে, আমাদের শিক্ষার মান অনেক ভালো ছিল। তখন আশেপাশের অনেক দেশই ততটা সংগঠিত বা সুসংহত শিক্ষাব্যবস্থায় ছিল না। কিন্তু এখন বাস্তবতা হলো, তারা আমাদেরকে অনেক ক্ষেত্রেই ছাড়িয়ে গেছে।

উদাহরণ হিসেবে মালয়েশিয়া বা থাইল্যান্ডের কথা বলা যায়। একসময় তাদের অনেক শিক্ষার্থী বাংলাদেশে পড়তে আসত। এখনও কিছু শিক্ষার্থী আসে—বিশেষ করে মেডিকেল বা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু এখন চিত্র পাল্টে গেছে। এখন হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ায় যাচ্ছে।

‘‘ছোটবেলার মফস্বল শহরে তো সবকিছু কাছাকাছি ছিল—হেঁটেই যাওয়া যেত, বড়জোর রিকশা নেওয়া লাগত। এখন ঢাকা শহরে সেটা আর সম্ভব নয়। আত্মীয়স্বজনরাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন, ট্রাফিকও একটা বড় বিষয়। তাই এখন আমি যেটা করি—ঈদের নামাজ পড়তে যাই। আমি যেখানে থাকি, তার পাশে একটা বড় মসজিদ আছে, সেখানে নামাজ পড়ি। নামাজ শেষে আত্মীয়স্বজনদের ফোন করে খবর নিই, ঈদের শুভেচ্ছা জানাই, ঈদ মোবারক দিই। যেখানে সম্ভব হয়, দু-একজন আত্মীয়ের বাড়িতে যাই। এভাবেই দিনটা কেটে যায়।’’

আমি ব্যক্তিগতভাবে একবার ব্যাংকের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (AIT) ছিলাম। সেখানে আমি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স–এর কাজ করছিলাম। তখন একটি র‍্যাফেল ড্র আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, এবং আমরা স্পন্সর খুঁজছিলাম। এক পর্যায়ে একটি হোটেলের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দেখলাম, কথার ফাঁকে জানা গেল—সেই প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা আগে বাংলাদেশের রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী ছিলেন।

এই ঘটনাটি আমাকে ভাবিয়েছে—একসময় যারা এখানে পড়তে আসত, এখন তারা নিজেরাই অনেক জায়গায় অবস্থান করছে। আর আমরা তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে পড়ছি। এই বাস্তবতা থেকে বলা যায়, কোনো না কোনো কারণে আমাদের শিক্ষার মানকে আমরা আগের অবস্থায় ধরে রাখতে পারিনি। অনেক দেশ আমাদের ছাড়িয়ে গেছে।

ড. শামস্ রহমান

এই প্রেক্ষাপটে আমি মনে করি, সরকারের উচিত বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা খাতকে বিবেচনা করা। হয়তো একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা যেতে পারে, যারা উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ দেবে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত উচ্চশিক্ষাকে আরও উন্নত ও প্রতিযোগিতামূলক করা, যাতে আমরা বৈশ্বিক র‍্যাংকিংয়েও এগিয়ে যেতে পারি। বর্তমানে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক—দুই পর্যায়েই আমাদের অবস্থান খুব সন্তোষজনক নয়।

শুধু অর্থ বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সেই অর্থ কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে। আমাদের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো জবাবদিহিতা। অর্থ কোথায়, কীভাবে এবং কতটা কার্যকরভাবে ব্যয় হচ্ছে—সেটা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যান্য দেশের মতো জিডিপির ৫-৬ শতাংশ শিক্ষায় ব্যয় করার সক্ষমতা আমাদের বর্তমানে নেই। আমাদের অগ্রাধিকার ভিন্ন। এখন আমরা প্রায় ২ শতাংশের কাছাকাছি আছি। সুতরাং প্রথম ধাপে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত—এই সীমিত ব্যয় যেন সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়।

আমি মনে করি, হঠাৎ করে বড় লক্ষ্য নির্ধারণ না করে ধাপে ধাপে এগোনো উচিত। যেমন, আগামী কয়েক বছরে ২.৫ বা ৩ শতাংশে নেওয়া যেতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে বাস্তবতা বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কারণ, আমাদের এখনো এমন সক্ষমতা তৈরি হয়নি যে বড় বাজেটকে পুরোপুরি কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পারব।

বর্তমানে দেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় ৫৮টি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় ১১৬টি। কিন্তু প্রশ্ন হলো—শুধু সংখ্যাই কি যথেষ্ট? আমার মতে, এখানে মূল বিষয় হলো মান। সংখ্যার চেয়ে মান অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের উচিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান উন্নয়নের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া, বিশেষ করে গবেষণা, শিক্ষার মান এবং ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে।

ঈদ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য আপনার কোনো বার্তা আছে কি?
ড. শামস্ রহমান: আমার পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক রইল। তারা যেন ঈদ আনন্দে বাবা-মা ও বৃহত্তর পরিবারের সঙ্গে মিলেমিশে উদ্‌যাপন করে—এটাই আমার কামনা।

ঈদের এই আনন্দময় সময়টা তারা যেন সুন্দরভাবে উপভোগ করে। আর ঈদের ছুটি শেষে তারা আবার শিক্ষা অঙ্গনে ফিরে এসে সেই আগের মতোই শৃঙ্খলা এবং সম্মানের সঙ্গে নিজেদের শিক্ষাজীবন এগিয়ে নেয়—এটাই আমার প্রত্যাশা।

সবাইকে আবারও ঈদের শুভেচ্ছা জানাই, ধন্যবাদ।