০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৫৪

সরকারের সামনে বিশাল চ্যালেঞ্জ

শহিদুল ইসলাম বাবুল  © টিডিসি সম্পাদিত

শহিদুল ইসলাম বাবুল। ফরিদপুর-৪ (ভাঙা-সদরপুর ও চরভদ্রাসন) থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের বাঁক বদলকারী ২০০৭ সালের ‘ওয়ান ইলেভেনে’ বিএনপির প্রধানতম সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও ক্ষমতাসীন দল বিএনপির অন্যতম অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক তিনি।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকার, সরকারের মন্ত্রিপরিষদ, সরকার প্রতিশ্রুত কৃষি কার্ড, সারাদেশে কৃষি সরঞ্জাম বিশেষ করে সার, সারের ডিলার, ছাত্রদলের নতুন কমিটি সম্পর্কে গুঞ্জনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয় দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি তারেক সালমান ও নিজস্ব প্রতিবেদক সাজ্জাদ হোসেন-

কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের চোখে দীর্ঘ দেড়যুগ পর একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্যদিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকারের সামনে বিশাল চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সরকারের সামনে বিরাট চ্যালেঞ্জ। একটা বিপুল জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব সরকারের উপর পড়েছে। আমরা একটি গণতান্ত্রিক সরকার। বাট দুর্ভাগ্য যে, এই সময়ে একটা গালফ ওয়ার বা উপসাগরের যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। এটা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে একটা বিরাট প্রভাব ফেলবে বলে আমরা মনে করি। যার থেকে আমরাও মুক্তি পাবো না। এটা একটা অস্থির অর্থাৎ টার্বুলেন্ট টাইম আমরা পার করছি, সত্যিকারের অর্থেই।

তিনি বলেন, তো এর মধ্য দিয়েই আমাদেরকে একটা বিধ্বস্ত বাস্তবতার মধ্য দিয়ে দেশেরও একটা বিধ্বস্ত বাস্তবতার মধ্য দিয়ে, আমাদেরকে দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। এই সরকারকে দায়িত্ব নিতে হচ্ছে।

বাবুল বলেন, তো মর্নিং শোজ দ্য ডেজ বলে একটা কথা। এখনও ভোটারদের হাতের ভোটের দাগের কালির দাগ শুকায় নাই কিন্তু সরকার তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কতটা আন্তরিক সেটা আপনি দেখেছেন। আমাদের প্রতিশ্রুত ফ্যামিলি কার্ড ক্ষমতাগ্রহণের কয়দিনের মধ্যেই আমরা বাস্তবায়ন করেছি। তারপরে কৃষকের জন্য কৃষি ঋণ মাফ করে দেওয়া। তারপরে এই যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, পুরোহিত, যাজক তাদেরকে ভাতার আওতায় আনা। অলরেডি কাজগুলো শুরু হয়ে গেছে। তারপরে এই যে কৃষি কার্ডের ব্যাপার সামনে আছে।

তিনি বলেন, তারপরে সবচাইতে বড় কথা দেখেন সারা দুনিয়ায় তেলের বাজার অস্থির। এখন পর্যন্ত সরকার তেলের দাম বৃদ্ধি করে নাই। পৃথিবীর সব দেশে তেলের দাম এখন বাংলাদেশের চাইতে তুলনামূলক হাই, বেশি। কিন্তু সরকার তেলের দাম এক পয়সাও বাড়ায় নাই কিন্তু। প্রতিদিন সরকারকে এজন্যে বিপুল অঙ্কের টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, বিপুল অঙ্কের টাকা। এটা সরকারের জন্য কোষাগারের জন্য একটা বিরাট চাপ। তারপরও সরকার একমাত্র গণবান্ধব জনবান্ধব সরকারের পক্ষেই সম্ভব যে, গণমানুষের কথা চিন্তা করে। না হলে এর মধ্যে তিনবার তেলের দাম কিন্তু বাড়বার কথা, তেলের দাম কিন্তু বাড়ে নাই।

বাবুল বলেন, এইজন্য আমি মনে করি যে, এ সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ একমাত্র সরকার। সেজন্য জনগণের তুষ্টির জন্য সরকারী ব্যয় সাশ্রয় করার প্রক্রিয়া কিন্তু প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সবাই নিয়েছে। আমরা সেটা করছি এবং আমরা আশাবাদী যে, যদি শুধু এই যুদ্ধটা থেমে যায় তাহলে আমাদের অর্থনীতি বা দেশের জন্য আরও ইতিবাচক হবে।

বাবুলের কাছে প্রশ্ন ছিল, তেলের দাম না বাড়ানোকে সরকারের বড় একটা সাফল্য বলে মনে করেন কীনা? জবাবে বাবুল বলেন, সাফল্য কিনা আমি জানিনা, তবে মানুষের যাতে কষ্ট না হয় মানুষের উপর চাপ যাতে না পড়ে, সেজন্য সরকার প্রচেষ্টাটা গ্রহণ করেছে। এটা সরকারকে অন্যভাবে সেটা মেকআপ করতে হচ্ছে। 

টুকু-আলিম নেতৃত্বাধীন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে আপনারা পাঁচজন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিষয়টিকে কাকতালীয় মনে করেন কীনা জানতে চাইলে ওই কমিটির সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্বপালন করা বাবুল বলেন,  না না, থ্যাংক ইউ। আপনি আমাদের দীর্ঘদিন লড়াই সংগ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী, সহযোগী এবং অংশীদার বলে আমরা (বিএনপি) মনে করি। অনেক রক্ত, অনেক ত্যাগ, অনেক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আজকের একটা গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। একটা সার্বভৌম পার্লামেন্ট হয়েছে আল্লাহর ইচ্ছায়। সেই পার্লামেন্টে আমি একজন সদস্য হিসেবে সুযোগ পেয়েছি। এজন্য আমি সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালার কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার নির্বাচনি এলাকার মানুষ যারা আমাকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছেন, ভালো বেসেছেন, ভোট দিয়েছেন তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার দলের প্রতি, বিশেষ করে আজকের যিনি প্রধানমন্ত্রী যিনি একসময় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি আমাকে সার্বক্ষণিক স্নেহ-আদর দিয়েছেন। আমাকে দলের মনোনয়ন দিয়েছেন। সেজন্য আমি তার কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই।

বাবুল বলেন, আমাদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়াকে কাকতালীয় বলা যাবে না। আমাদের যে কমিটি ছিল; আপনি তো সব জানেন। আপনি একজন দাপটে সাংবাদিক। তখন থেকেই আজ থেকে প্রায় আরও ১৪-১৫ বছর আগের কথা। আমাদের ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি সর্বশেষ আমি যে কমিটিতে ছিলাম সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট। আমার প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারিসহ আরও কয়েকজন আমরা এই কমিটি থেকে ৬-৭ জন আমরা এই পার্লামেন্টে আসছি এবং যারা আসছে প্রত্যেকেই তার মেধা এবং যোগ্যতা প্রমাণ করেই এখানে এসেছে। তাদের কন্ট্রিবিউশন বা অবদান রেখেই এখানে এসেছে এবং এই নেতৃত্ব যারা, আপনি যদি তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড হিসাব করেন আপনি দেখবেন প্রত্যেকের সাথেই জেল, জুলুম, মামলা, হামলা, নিপীড়নের সাথে এবং আন্দোলন সংগ্রামের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার সঙ্গে তারা জড়িত ছিলেন। তাদের এলাকায় তারা তাদের ভূমিকা রেখেছেন মানুষের জন্যে। সেই জন্য দলও তাদের মূল্যায়ন করেছে এবং এলাকার মানুষও তাদেরকে ভোট দিয়ে পার্লামেন্টে পাঠিয়েছে। এটা একটা আমি কাকতালীয় মনে করছি না। এটা একটা মানে কি বলব, ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এটা হয়েছে। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে।

আপনারা সুযোগ পেয়েছেন, দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। কিন্তু আপনাদের অনেক ত্যাগী, নির্যাতিত সহযোদ্ধা দলের সমর্থন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার অপরাধে দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন। অথচ তারাও দেশের গণতন্ত্র ফেরাতে জেল-জুলুম, হামলা-মামলা সহ্য করেছে। তাদের বিষয়ে আপনার মতামত কি?

জবাবে নতুন সংসদের এই এমপি বলেন, না পরিণতি হয়েছে কি, হ্যাঁ যারা বহিষ্কার হয়েছে তাদেরও অনেক অবদান আছে, এটা সত্য। কিন্তু দল অনেক সময় নানান পরিবেশ, পরিস্থিতি, প্রেক্ষাপট, বাস্তবতা বিবেচনা করে একজনকে মনোনয়ন দিতে পারে। সেই ক্ষেত্রে দল অনেক সময় হেল্পলেস বা আন্ডারডান অবস্থায় থাকে। কিন্তু দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিলে নিশ্চয়ই দল ভিন্ন কোন প্রক্রিয়া প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাদেরকে সম্মানিত করতে পারত বা পারে। এটা আমি বিশ্বাস করি এবং প্রত্যেকেরই উচিত দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলা। দলের সিদ্ধান্ত মেনে না চললে বা দলের যেটা শৃঙ্খলা মেনে না চললে দলের তো কিছু করবার থাকে না। অনেক সময় দলকে অনিচ্ছাকৃতভাবে অনেক নির্মম নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয় দলীয় শৃঙ্খলার স্বার্থে। তো দলের যেটা করবার সেটা করেছে। আবার যদি তারা নিশ্চয়ই তাদের বিগত দিনের অবদানের কথা বিবেচনা করে তারা দুঃখ প্রকাশ করে দল নিশ্চয়ই বিবেচনা করতেও পারে। তাদেরকে ভিন্নভাবে সম্মান দিতে পারে।

তিনি বলেন, দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে আমি বলব, দল আসলে অনেকের ত্যাগ, অনেকের কন্ট্রিবিউশন বা অবদান, এগুলি মূল্যায়ন করেই সিদ্ধান্ত নেয়। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অত্যন্ত দূরদর্শী এবং বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অনেকেই হয়তো মনে করেছিলেন যে অমুক মনোনয়ন পাবে বা তমুক পাবে। কিন্তু দল যাকে যোগ্য মনে করেছে তাকেই মনোনয়ন দিয়েছে। দলের এই সিদ্ধান্তের প্রতি আমাদের সকলেরই শ্রদ্ধা থাকা উচিত। যারা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন বা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কাজ করেছেন, দল কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। এটা প্রয়োজন ছিল। কারণ রাজনীতিতে শৃঙ্খলা না থাকলে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রশ্ন ছিল বহিষ্কৃতরা ক্ষমা চাইলে অথবা দলে ফিরে আসতে চাইলে আপনি তার পক্ষে কীনা? জবাবে বাবুল বলেন, না এটা আমার বক্তব্য তো না। আমি তো আর দল না। দল একটা প্রতিষ্ঠান। সকলে মিলেই একটা দল। দলে এককভাবে কেউ কখনো সিদ্ধান্ত নেয় না। বিএনপি একটা বৃহৎ রাজনৈতিক দল। তারা যে ভুল করেছে এটা একটা নজির বা দৃষ্টান্তের প্রয়োজন ছিল। সেটা দল করেছে। এখন দল আগামী দিনে কীভাবে বিবেচনা করবে সমন্বিতভাবে তারা অ্যাপ্লিকেশন যদি করে সময়েরও প্রয়োজন আছে নিশ্চয়ই। তারা তাদের ভুল বুঝে ক্ষমা চাইলে, অনুতপ্ত হইলে দল সেটা বিবেচনা করতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি।

তবে আমি বিশ্বাস করি, যারা ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং ক্ষমা চেয়ে দলে ফিরতে চান, দল নিশ্চয়ই তাদের বিষয়টি বিবেচনা করবে। কারণ ক্ষমা একটি মহৎ গুণ এবং দলও চায় সকলে মিলেমিশে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে। তবে এর জন্য একটা প্রক্রিয়ার প্রয়োজন আছে, আপনি জানেন সময়েরও প্রয়োজন আছে।

নিজের নির্বাচনি এলাকা সম্পর্কে ভাঙা-সদরপুর-চরভদ্রাসনের এই এমপি বলেন, আপনি জানেন যে আমার যেটা মূল নির্বাচনি এলাকা আমার জন্মস্থান সেখানে আমি মনোনয়ন পাইনি। আমাকে পাশের ভিন্ন একটা আসনে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। আমার চেয়ারম্যান দিয়েছিলেন। তখন আমার মন খারাপ হয়েছিল, এটা ঠিক। কিন্তু পরে দেখলাম যে আমার চেয়ারম্যান তিনি অত্যন্ত চমৎকার কুশলী একটা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। যেহেতু আমরা একই জায়গায় দুইজন ক্যান্ডিডেট ছিলাম। তো পার্টি আমাকেও হয়তো চেয়েছে, ভিন্নভাবে চেয়েছে। তো সেখানে দিয়েছিল। আমি নতুন মানুষ সেখানে গিয়েছিলাম। যদিও আমার থেকে দূরে না, আমার কাছেই পাশেই। পাশের ইউনিয়ন থেকেই শুরু। তো সেখানে আমি গিয়েছিলাম তো আসলে শূন্য হাতে। খালি হাতে আমি গিয়েছিলাম। মানুষ আমাকে বিপুলভাবে সমর্থন জানিয়েছে। দুহাত ভরে আমাকে দিয়েছে। হৃদয় উজাড় করে আমাকে ভালোবাসা দিয়েছেন। যে কারণে আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। ৫৩ হাজারেরও বেশি ভোটে, এটা একটা রেকর্ড। ৩টা উপজেলা আমার এলাকায়। ২৫টা ইউনিয়ন একটা পৌরসভা। মাঝখানে ২টা নদী পদ্মা এবং আড়িয়াল খাঁ। বিস্তীর্ণ এলাকা, ৭৬ কিলোমিটার এর দৈর্ঘ্য। প্রস্থ প্রায় ৬৮ কিলোমিটার এবং কয়েকটা জেলার সীমানা। তো এমন একটা নির্বাচনি এলাকা যে এলাকা যে আসলে খুবই কঠিন নতুন মানুষ হিসেবে নির্বাচন করা। তো আমি কিছু সময় পেয়েছিলাম। যেহেতু আমার পার্টি আমাকে আগে থেকেই সেখানে পাঠিয়েছিল। সেজন্যে আমি দিনরাত সারাক্ষণ অমানুষিক পরিশ্রম করে মানুষের ভালোবাসা অর্জনের চেষ্টা করেছি। তাদের কাছে যাবার চেষ্টা করেছি। তাদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেছি এবং তারাও আমাকে গ্রহণ করেছে তাদের সন্তান হিসেবে। এখন আমার সমস্ত পরিকল্পনা, আমার ধ্যান-জ্ঞান, ভালোবাসা এই এলাকাকে কেন্দ্র করেই। যেহেতু তারা আমাকে বিরাট একটা আমানত বা ভোট দিয়েছে। এটা রেকর্ড পরিমাণের ভোট। সেই জন্যে আমি আমার সমস্ত কিছু, আমার অস্তিত্ব, আমার স্বপ্ন, আমার সাধনা, আমার ভালোবাসা এই ফরিদপুর-৪ ভাঙা-সদরপুর-চরভদ্রাসনকে কেন্দ্র করে তাদের ভালো-মন্দের সাথে তাদের দুঃখ-বেদনা সবকিছু আনন্দ হাসি-কান্না সবকিছুর সাথেই আমি থাকতে চাই আমৃত্যু এবং সেভাবে নির্বাচনের পরেও আমি কাজ করছি।

প্রত্যেকটা এলাকায় যাচ্ছি, মানুষের সাথে কাজ করছি। আমি জানিনা একজন এমপির তো আর সব করে দিতে পারে না। এটা কোন সুইচের ব্যাপার না। তবে পর্যায়ক্রমে এখানে আসলে গ্রামীণ জনপদে উন্নয়ন তেমন হয়নি। বেকারত্ব আছে, হাহাকার আছে, নারীদের বঞ্চনা আছে, তীব্র একটা মাদকের ভয়াবহতা আছে সর্বব্যাপী। এইসব নিয়ে কাজ করছি বিরাট নির্বাচনি এলাকা। মূলত এটা দুইটা নির্বাচনি এলাকা ছিল ২০০৮ সালের আগে। দুইটা নির্বাচনি এলাকা একটা নির্বাচনি এলাকা করা হয়েছে। তো তারপরও আমি চেষ্টা করছি মানুষের প্রত্যাশা পূরণের জন্য। একটা তৃতীয় বিশ্বের দেশ, গরিব দেশ, আবার যুদ্ধ শুরু হয়েছে, মানুষের বিপুল আকাঙ্ক্ষা এবং প্রত্যাশা। তার মধ্যে আমাদের সামর্থ্য যতটুকু আছে আমি চেষ্টা করছি সমন্বয় করবার জন্য। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি। আমার স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এলজিআরডি মন্ত্রী মাননীয় মহাসচিব তার কাছে গিয়েছি। তারা আমাকে আশ্বাস দিয়েছে এবং সাহায্য করছে যে আমার এলাকার মানুষের আমার যেসব প্রতিশ্রুতি, সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। আমি আশাবাদী ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, আসলে আমরা তো আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছি এবং আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল যে দেশে একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। মানুষ তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। তো মানুষ সেই ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে এবং তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছে। এটার জন্য আমি সব ভোটারদের ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে আমার নির্বাচনি এলাকার জনগণ যারা আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছে। আমাকে তারা তাদের হৃদয়ের ভালোবাসা দিয়েছে, তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছে। আমি তাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। আমার নির্বাচনি এলাকা নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন আছে। এটি একটি বিশাল এলাকা। এখানে অনেক সমস্যাও আছে। বিশেষ করে নদীভাঙন, বেকারত্ব, রাস্তাঘাটের সমস্যা এবং মাদকের যে বিস্তার, এগুলো নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। নির্বাচনি প্রচারণার সময় আমি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়েছি। তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনেছি। তারা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, যে বিশ্বাস আমার উপর রেখেছেন, আমি আমার সমস্ত সামর্থ্য দিয়ে সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখার চেষ্টা করব। আমি কোনো জাদুর কাঠি নিয়ে আসিনি যে এক রাতেই সব বদলে দেব। তবে আমি আশাবাদী। আমাদের সরকার আছে, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক। আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সাথে কথা বলেছি। তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। আমরা সবাই মিলে যদি সততা এবং নিষ্ঠার সাথে কাজ করি, তাহলে অবশ্যই আমরা এই এলাকার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারব। আমি আমৃত্যু এই এলাকার মানুষের সেবা করে যেতে চাই।

আপনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল থেকে উঠে আসা নেতা। আজ জাতীয় সংসদে এসেছেন। কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েছেন। তো বিএনপির অন্যতম সহযোগী সংগঠন আপনাদের সেই ছাত্রদলের বর্তমানে দুরবস্থা! ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের পতনে ও পরবর্তিতেও ছাত্রদল নিজেদের পূর্বের ঐতিহ্য অনুযায়ী ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বলে সমালোচনা আছে। এ বিষয়ে একজন সাবেক ছাত্রদল নেতা হিসেবে আপনার বক্তব্য কী, জানতে চাইলে শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, দেখুন, আমি এখনও নিজেকে ছাত্রদলের একজন বলেই মনে করি। আপনি আমাদের খুব কাছ থেকে দেখেছেন, ছাত্ররাজনীতিতে। আমি মনে করি-ওয়ান্স ছাত্রদল অলওয়েজ ছাত্রদল। তো, অনেকে মনে করে হয়ত বর্তমান ছাত্রদল আগের মতো রাজনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারেনি। কিন্তু আপনিতো দেখেছেন, বিগত ফ্যাসিস্টের শাসনামলে আমাদের শান্তিপূর্ণ রাজনীতিটুকুও করতে দেয়া হয়নি। দেশ চলেছে স্বৈরাচারী হাসিনার একক সিদ্ধান্তে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কিন্তু তারপরও মাঠে ছিল। সাধ্যমতো গণতন্ত্র উত্তরণে ভূমিকা রেখেছে। হামলা-মামলা-নির্যাতন, গুম-খুন, জেল-জুলুমের শিকার হয়েছে। দেশকে গণতন্ত্রের পথে ফেরাতে দীর্ঘ বছরের পর বছর রাজপথে থেকেছে। তাই আমি মনে করি ছাত্রদল ব্যর্থ নয়। 

তিনি বলেন, ছাত্রদলের বর্তমান কমিটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। আমি মনে করি, আমার মতামত যদিও সিদ্ধান্ত নেবেন আমাদের চেয়ারম্যান; তিনি জানেন কে ছাত্রদলের নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্য। কে দেশের সকল শিক্ষাঙ্গণে সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য। কার মধ্যে নেতৃত্বগুণ রয়েছে, সর্বোপরি কে কে ত্যাগী ও নির্যাতিত। তাদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব আসবে বলে আমি মনে করি।

দেশে বিদ্যমান অন্য ছাত্রসংগঠনগুলোর মতো ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বও যাদের ছাত্রত্ব আছে তাদের থেকে চান কীনা, জানতে চাইলে ছাত্রদলের সাবেক এই নেতা বলেন, দেখুন, ছাত্রদল একটি বৃহৎ সংগঠন। এই সংগঠনে নেতৃত্ব দিতে শুধু ছাত্রত্ব থাকাটাই মুখ্য বিষয় না। ছাত্রদলের মতো সংগঠনের নেতৃত্ব দিতে অভিজ্ঞতারও প্রয়োজন হয়। তাছাড়া, আপনি দেখেন, কোন ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের ছাত্রত্ব আছে? গুপ্ত সংগঠন জামায়াতের অঙ্গ সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের কি ছাত্রত্ব আছে? নাই। অন্যদেরও একই অবস্থা। ছাত্রদলের নেতৃত্ব অভিজ্ঞতার আলোকেই আসা উচিত। তারপরও যাদের ছাত্রত্ব আছে, তাদের থেকে নেতৃত্ব আসলে সংগঠনের জন্য ভালো হয়। কারণে সেই নেতৃত্ব সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে ‘টাচে’ থাকে। তাদের মনোভাব বুঝতে পারে। সেই মোতাবেক সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিতে পারে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সবকয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের ভরাডুবির বিষয়ে জানতে চাইলে বাবুল বলেন, ছাত্রদল কোনো ক্যাম্পাসে নিজেদের রাজনীতিটা করতে পারেনি। হলে থাকতে পারেনি। শিক্ষাঙ্গণে থাকতে পারেনি। সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে মিশতে পারেনি। আপনি খুব কাছ থেকে এসব দেখেছেন। অন্য সংগঠনের (শিবির) ভালো করার কারণ হচ্ছে-তারাতো ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে ছিল। তাদের সহযোগী ছিল। গুপ্তভাবে ছিল। তারা হলে থাকতে পারত। সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে মিশতে পারত। তো, সাধারণ ছাত্ররাতো ছাত্রদলতে নিজেদের কাছে পায়নি। পেয়েছে সেই গুপ্তদের। তারা মনে করেছে, বিগত সময়ে এরা আমাদের কাছে ছিল, পাশে ছিল। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে ছিল। তাদের ভোট দেই। সেই কারণে গুপ্তরা বিজয়ী হয়েছে। আমি মনে করি, ছাত্রদল এ থেকে উত্তোরণ করবে। ভবিষ্যতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল সাধারণ ছাত্রদের গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে।

নতুন মন্ত্রিপরিষদে সিনিয়র নেতাদের চেয়েছে ‘অনুগত’ ও অপেক্ষাকৃত নবীনদের প্রাধান্যের বিষয়ে শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান দীর্ঘকালই দলকে দেখেন। এই দলটা তো...দলটাকে নিঃশেষ করে দেওয়ার জন্যে, ভেঙে চুরমার করবার জন্যে হেন কোনো ষড়যন্ত্র নাই যা হয় নাই ১৭ বছর ব্যাপী। তার আগেও হয়েছে। কিন্তু আমাদের চেয়ারম্যান অত্যন্ত কুশলী এবং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এই বিষয়গুলাকে মোকাবিলা করেছেন। বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। এক এবং অভিন্ন রেখেছেন। তিনি এই দলের সবকিছু জানেন আদ্যোপান্ত। মানে টপ টু বটম সব তার জানা। তার চাইতে বেশি সময় কেউ দেয়নি। তো সেইজন্যে উনি নতুন যে মন্ত্রিসভা করেছেন, উনার নিশ্চয়ই চিন্তা আছে নবীন, প্রবীণ এবং অভিজ্ঞ বিভিন্ন অ্যাকাডেমিশিয়ান মিলিয়ে একটা মন্ত্রিসভা উনি করেছেন। আমি বিশ্বাস করি যে, এই মন্ত্রিসভা সব মিলিয়ে একটা চমৎকার মন্ত্রিসভা উনি করেছেন। 

তিনি বলেন, হয়তো এটাই তো শেষ কথা না, উনি প্রয়োজনে এটাকে কলেবর বৃদ্ধি করতে পারেন, রদবদলও করতে পারবেন। প্রত্যেকের পারফরমেন্স দেখে সময় অনুযায়ী। তো আমরা মনে করছি দেশবাসী আশাবাদী হচ্ছে তার অ্যাক্টিভিটিজ, সরকারের যে অ্যাক্টিভিটিজ এবং যে যাত্রা। অনেকগুলো গণমুখী কর্মসূচি যেগুলো নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সেগুলো অলরেডি শুরু করা হয়ে গেছে অনেকগুলো এবং মানুষ আস্থাশীল হয়ে উঠছে। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদের বা এমপি যারা, তাদেরকে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। তাদেরকে বলা হচ্ছে যে বিগত আমলের মতো কোন শাসন আমরা চাই না। যেহেতু মানুষ ভোট দিয়েছে, গণমুখী...জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে তাদেরকে কাজ করতে হবে দিনরাত এবং সেভাবেই কিন্তু কাজ শুরু হয়েছে। বিগত সময়ে সময়ে যে লুণ্ঠন হয়েছে, মানুষ খুন হয়েছে, জবরদস্তি হয়েছে, সেই রাজনীতি বাংলাদেশে আর আসবে না। এটা আমরা প্রত্যাশা করি এবং প্রধানমন্ত্রী যেভাবে শুরু করেছেন...। মানে ট্রেনের লাইনের মতো। সামনের লাইন যেভাবে যাবে পিছনের লাইন তো একইভাবে যায়। হ্যাঁ, আশা করি যে এই সরকার মানুষের প্রত্যাশা শতভাগ পূরণ না করলেও একটা বিশাল মানে বড় অঙ্কের প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হবে।

সিনিয়রদের বাদ পড়ার বিষয়ে বাবুল আরও বলেন, না, সে পারসেপশন এক জিনিস। পারসেপশন এক জিনিস আর প্র্যাকটিক্যাল অন্য জিনিস। প্রধানমন্ত্রী যিনি হন তাকে নানান বিধি বিষয়ে জাতীয়, আন্তর্জাতিক অনেকগুলো প্রেক্ষাপট চিন্তা করতে হয়। চিন্তা করে উনি করেছেন। হ্যাঁ, আপনি বলেছেন সিনিয়র কেউ কেউ বাদ পড়েছেন। এটা ঠিক। প্রত্যেককে নিয়ে উনার হয়তো পরিকল্পনা আছে। প্রত্যেকেরই অবদান আছে। নিশ্চয়ই কাউকে একেকজনকে দলের কাজেও লাগাইতে পারেন বা উনার ভিন্ন পরিকল্পনাও থাকতে পারে তাদেরকে নিয়ে। আমি বিশ্বাস করি যে...মানে সকলেই তার মেধা যোগ্যতা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সম্মানিত হবেন, মূল্যায়িত হবেন।

কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কৃষকদের কল্যাণে কি কি পদক্ষেপ নেবেন বা সরকারকে প্রভাবিত করবেন জানতে চাইলে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল বলেন, আমার চিন্তাভাবনা আমার সংগঠন। সরকার এক ব্যাপার, সংগঠন আর এক ব্যাপার। একটা বৃহৎ এই কৃষক সংগঠন আল্লাহর রহমতে এখন একটা ব্যাপ্তি, কলেবর অনেক প্রসারিত হয়েছে আগের চাইতে। সেটা আমরা করেছি। এটা হলো সংগঠনের ব্যাপার। আমার কথা হলো বাংলাদেশের কৃষককে বাদ দিয়ে তো কোন কিছু হয় না। আমাদের এখনো আপনি যাই বলেন গার্মেন্টস বলেন, রেমিট্যান্স বলেন, বাংলাদেশের কৃষি খাত যদি না থাকে সবকিছুই ধসে পড়বে। একটা বৃহৎ আমাদের অর্থনীতি, আমাদের জিডিপির চালিকাশক্তির এখনো ৫০ ভাগের উপর বা ৬০ ভাগ কৃষির উপর নির্ভরশীল। তো বাট এই কৃষকরা প্রায়ই অবহেলিত উপেক্ষিত থাকেন। বলা হয় যে কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কিন্তু বাস্তবতা কৃষককে উপেক্ষা সহ্য করতে হয়, কৃষককে নিপীড়ন সহ্য করতে হয়। সত্যি অর্থে কৃষকবান্ধব সরকার খুব কমই এসেছে। 

তিনি বলেন, তো আমি ধন্যবাদ জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে তিনি ক্ষমতায় এসে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে বাংলাদেশের ১২ লক্ষ কৃষকের ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার কৃষি ঋণ মাফ করে দিয়েছেন। এবং কৃষকদের জন্যে কৃষি কার্ডের ব্যবস্থা এই মাসে... এপ্রিল মাসে উদ্বোধন করা হবে। বাংলাদেশের কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যে সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করণীয় সেটা করা হবে। আর আমাদের কাজ কৃষক সংগঠনকে নিয়ে। কৃষক সংগঠনকে তৈরি করা, তাদেরকে সচেতন করা। তাদের অধিকার সম্পর্কে তাদেরকে সংগঠিত করা এবং তাদের দাবির বিষয়ে সমন্বিতভাবে... যেমন শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন থাকে। তারা স্ট্রাইক করতে পারে, ধর্মঘট করতে পারে, হরতাল করতে পারে, তারা তাদের দাবি আদায় করতে পারে। কিন্তু কৃষক সেটা পারে না। কৃষক পারে না। কৃষক হরতাল করতে পারে না, ধর্মঘট করতে পারে না, ধুঁকে ধুঁকে মরে। কৃষক তার বাবার...বৃদ্ধ বাবার চিকিৎসা করতে পারে না, কৃষক তার সন্তানকে ভালো স্কুলে পড়াইতে পারে না। কৃষক প্রতিবছর জমি বিক্রি করে করে তাকে সংসার চালাইতে হয়। এই যে যে একটা করুণ বাস্তবতা, এই বাস্তবতা বা কৃষকের অধিকার নিয়ে তাদেরকে সচেতন করা, তাদেরকে সংগঠিত করা এবং তাদের অধিকারের বিষয়ে সোচ্চার থাকা, এটাই আমাদের কাজ। কৃষক সংগঠনের কাজ।

সরকারের প্রতিশ্রুত কৃষক কার্ড কারা পাবে জানতে চাইলে বাবুল বলেন, না, কৃষক কার্ড যেটা হচ্ছে যারা কৃষক, বাংলাদেশের প্রকৃত কৃষক, তাদের প্রত্যেকেরই একটা কার্ড থাকবে। সেই কার্ডের মধ্যে এই কৃষকের কি পরিমাণ জমি আছে, সেটা একটা ডেটাবেজ থাকবে। ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তা আছে, সহকর্মীরা আছে, তারা কাজ শুরু করেছেন। আরো লোকবল নিয়োগ দেওয়া হবে প্রয়োজনে। মানে একজন কৃষকের কি পরিমাণ জমি আছে, কে প্রান্তিক কৃষক, কে মাঝারি কৃষক, কে উচ্চবিত্ত কৃষক। কোন কৃষককে অনেক সময় দেখা গেল একজন কৃষক অল্প স্বল্প জমির কৃষক, সে তার সর্ব সহায়-সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। তাদেরকে কীভাবে একটু সাপোর্ট দেওয়া যায় সরকারের পক্ষ থেকে সে...কোন কৃষক কি ফসল উৎপাদন করেন বা এখানে আরো পরিকল্পনা আছে যেসব ফসলের কারণে আমাদেরকে বৈদেশিক মুদ্রা...এর উপর চাপ পড়ে। যেমন ধরেন সয়াবিন। সয়াবিন যদি বাংলাদেশে উৎপাদন বেশি হয় তাহলে আমাদের ইমপোর্টের উপর চাপ কম পড়বে। চরাঞ্চল আছে বা বাংলাদেশের বিস্তৃত চরাঞ্চল। কৃষকদেরকে উৎসাহিত করে কীভাবে সয়াবিনের চাষ করা যায়। আরো এসব...তারপরে কৃষক যাতে ন্যায্য মূল্যে তার পণ্যটা কিনতে...বেচতে পারে। আবার কৃষি উৎপাদনের যে সামগ্রী সেইটাও যাতে কৃষক ন্যায্যমূল্যে ক্রয় করতে পারে। এরকমও চিন্তা আছে সরকারের। 

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা কি ধরনের সহায়তা পাবেন, জানতে চাইলে কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, যারা একটু কম জমির কৃষক তাদেরকে টিকিয়ে রাখার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কিছু প্রণোদনা ফসল উৎপাদনের...তিনটা ফসলের একটা ফসল উৎপাদনের প্রণোদনা বা খরচ তাকে কীভাবে দেওয়া যায়, সেই পরিকল্পনা সরকারের মাথায় আছে। মানে কৃষকবান্ধব এবং এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষক সরকারি অফিস আদালতে যাতে একটা সম্মান পান, মর্যাদা পান, সেই বিষয়টাও মাথায় নিয়ে সরকার ও আমরা কাজ করছি।

তিনি বলেন, কৃষক কার্ড হলো বেসিক্যালি কৃষককে এমনি তো প্রণোদনা দেওয়া হয় কম-বেশি। সেই প্রণোদনাটা যাতে প্রকৃত কৃষক পায়, সরাসরি তার কাছে যায়, এটা হলো একটা বিষয়। আরেকটা বিষয় হলো কৃষককে ওইভাবে তো টাকা দেওয়ার গয়রহ কোনো সুযোগ নাই। হয়তো যার প্রয়োজন, যেই কৃষক প্রান্তিক কৃষক, যাদের প্রয়োজন পর্যায়ক্রমে তাকে ফসল উৎপাদনের একটা খরচ, হ্যাঁ, তিনটা ফসলের একটা ফসল উৎপাদনের...উৎপাদনের যে খরচ সেই খরচ সরকারের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে এরকম একটা চিন্তা সরকারের মধ্যে আছে।