বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিবিএস পড়ার সুযোগ পেলেন কুষ্টিয়ার শার্নিকা মিম
ইরাক সরকারের শতভাগ স্কলারশিপ অর্জন করেছেন কুষ্টিয়ার মেয়ে শার্নিকা মিম। এর মধ্য দিয়ে দেশটির বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব মেডিসিনে এমবিবিএস পড়ার সুযোগ পেলেন তিনি। তার এমন সুযোগে পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
শার্নিকা মিমের বাড়ি জেলার দৌলতপুর উপজেলায়। সেখানকার মহিষকুন্ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০২২ সালে এসএসসি ও রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ থেকে ২০২৪ সালে এইচএসসি পাস করেছেন।
একটি সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা সার্নিকা মিমের ছোটবেলা থেকেই নিজ এবং বাবা-মায়ের একটাই স্বপ্ন ছিল—মেয়ে একদিন বড় হয়ে ডাক্তার হবে, মানুষের সেবা করবে। কিন্তু সবার স্বপ্ন তো আর সব সময় ধরা দেয় না। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে মিমের দেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার যুদ্ধটাতে যখন কাঙ্ক্ষিত ফল এলো না, চারপাশটা যখন নিস্তব্ধ হয়ে আসছিল। তখন নানা প্রতিকূলতা আর শত বাধা ডিঙিয়েও তিনি তার স্বপ্নের ওপর বিশ্বাস হারাননি।
মিম বিশ্বাস করতেন, কঠোর পরিশ্রম আর চেষ্টার কোনো বিকল্প নেই। তাই তিনি হাল না ছেড়ে নিজের প্রস্তুতি ও চেষ্টা চালিয়ে গেছেন শেষ পর্যন্ত। আর তার এই অদম্য জেদ ও চেষ্টার ফলও মিলল হাতেনাতে। সব বাধাকে পেছনে ফেলে তিনি এবার ইরাকের স্বনামধন্য মেডিকেল কলেজে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ নিয়ে এমবিবিএস পড়ার সুযোগ অর্জন করেছেন।
নিজের এই অর্জনের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে শার্নিকা মিম বলেন, উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে সরকারি মেডিকেলে প্রথমবার-দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দিয়েও উত্তীর্ণ হইনি। তখন অনেক কান্না করছিলাম, স্বপ্ন শেষ ভেবেছিলাম। পরে বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপের বিষয়টি জেনেছি। সেখানে আবেদন করে এই স্কলারশিপ অর্জন করেছি। আজ বাবা-মায়ের সেই বুকভরা স্বপ্ন পূরণের দোরগোড়ায় এসেছি। এখন এমবিবিএস শেষ করলে সেই স্বপ্ন পূরণ হবে।
মনের জোর আর অদম্য ইচ্ছা থাকলে কোনো বাধাই জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, মনে করেন শার্নিকা মিম।