০৫ জুন ২০২৬, ১৮:১৫

মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, পুনরায় পরীক্ষার খবর শুনতেই ছাত্রীর আত্মহত্যা 

প্রতীকী ছবি  © সংগৃহীত

ভারতে সাম্প্রতিক মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিতর্ক এবং এর জেরে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার তীব্র মানসিক চাপ সইতে না পেরে নাগপুরে ১৮ বছর বয়সী এক তরণী পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহননকারী ওই ছাত্রীর নাম আকাঙ্ক্ষা চতুর্বেদী, যিনি একজন চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। গত ২০ মে নাগপুরের আম্বাজারি থানা এলাকার অজয় নগরে নিজের বাড়িতে তিনি আত্মহত্যা করেন। তবে ঘটনাটি দীর্ঘ দুই সপ্তাহ পর প্রকাশ্যে আসে । খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার

আত্মহত্যার আগে লেখা এক আবেগঘন সুইসাইড নোটে আকাঙ্ক্ষা বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে লিখেছেন, ‘তোমরা আমার ওপর অনেক ভরসা রেখেছিলে, কিন্তু এই চরম পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি প্রথমবার নিট পরীক্ষায় অনেক ভালো করেছিলাম, কিন্তু দ্বিতীয়বার আবারও এই পরীক্ষায় বসার মতো মানসিক সাহস আমার নেই। আমি তোমাদের সব অর্থ ও সম্পদ শেষ করে দিয়েছি। তোমাদের ওপর এত চাপ সৃষ্টি করার জন্য আমাকে ক্ষমা করো।’

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আকাঙ্ক্ষার বাবা ব্যাংক ও আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে প্রায় ১৬ লাখ রুপি ঋণ নিয়ে মেয়ের কোচিং ও পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছিলেন। দুই মাস আগে তার বাবা প্যারালাইসিস (পক্ষাঘাত) আক্রান্ত হওয়ায় পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। গত ৩ মে প্রথমবার পরীক্ষা দিয়ে আকাঙ্ক্ষা অত্যন্ত সফল হবেন বলে আত্মবিশ্বাসী ও উচ্ছ্বসিত ছিলেন। কিন্তু দেশজুড়ে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি পরীক্ষা বাতিল করে আগামী ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দিলে আকাঙ্ক্ষা মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন। 

পুনরায় কঠিন এই পরীক্ষায় বসার প্রচণ্ড ট্রমা এবং পরিবারের ওপর ঋণের বোঝার কারণে তিনি এই পথ বেছে নেন। ঘটনার দিন দুপুরে পরিবারের অন্য সদস্যরা যখন ঘুমাচ্ছিলেন, তখন তিনি আত্মহত্যা করেন এবং পরদিন ২১ মে পরিবার তার সুইসাইড নোটটি উদ্ধার করে।

এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ভারতের জাতীয় রাজনীতিতেও তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দেশটির বিরোধী দলীয় নেতারা এই মৃত্যুর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার পদ্ধতিগত ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন। লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, প্রশ্ন ফাঁসের কারণে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে এবং লাখ লাখ শিক্ষার্থীর জীবন বিপন্ন। 

অন্যদিকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া কোনো সমাধান বা বিচার নয়; শিক্ষা মাফিয়াদের কারণে মধ্যবিত্ত পরিবারের স্বপ্ন এভাবে অকালে ঝরে যাচ্ছে।’ 

এই ঘটনাটি প্রশ্ন ফাঁসের জেরে তৈরি হওয়া শিক্ষার্থীদের গভীর মানসিক সংকট ও তীব্র সামাজিক উদ্বেগকে আবারও সামনে এনেছে।