পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন বিষয়ক কর্মশালা সমাপ্ত
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সমাপ্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ইউজিসি অডিটোরিয়ামে কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় ৩০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দলে ছিলেন পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) খন্দকার শফিকুল হাসান (রতন) এবং অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) নাছির উদ্দিন ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এর আগে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইউজিসি অডিটোরিয়ামে কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অডিট আপত্তি শূন্য পর্যায়ে নামিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, পুরোনো অডিট আপত্তিগুলো ধীরে ধীরে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি নতুন করে যাতে কোনো আপত্তি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রতিবছর অডিট আপত্তির সংখ্যা বাড়ছে। এ বছর বৃদ্ধির হার গত বছরের চেয়েও বেশি। এসব বিষয় প্রকাশ্যে এলে সরকারি অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়। এ অবস্থায় ইউজিসির লক্ষ্য শূন্য অডিট আপত্তিতে পৌঁছানো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতার প্রসঙ্গে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় সংজ্ঞাগতভাবেই একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং এর প্রশাসনিক, একাডেমিক ও আর্থিক স্বাধীনতা থাকা উচিত। তবে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাস্তবে মূলত একাডেমিক স্বাধীনতা ভোগ করলেও প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা পুরোপুরি ভোগ করতে পারে না।
তিনি বলেন, আর্থিক স্বাধীনতা নিজ উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি সরকারের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ শৃঙ্খলার সঙ্গে আইন ও বিধিবিধান মেনে ব্যয় করা এবং সেই ব্যয়ের যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারার ওপর নির্ভর করে। সরকার আইন ও বিধি প্রণয়ন করে এবং বিশ্ববিদ্যালয় তা বাস্তবায়ন করে। এ ক্ষেত্রে ইউজিসি সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করে।
নিয়োগ, পদোন্নতি ও সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, অতীতের অনিয়মের কারণে সৃষ্ট জটিলতাগুলো নিয়মের মধ্যে থেকে সমাধানের চেষ্টা চলছে। এখন থেকে নতুন কোনো অনিয়ম যাতে না হয়, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।
উচ্চশিক্ষার রূপান্তরে ইউজিসির কৌশলগত পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে বর্তমান বাজেট বা উন্নয়ন বরাদ্দের কাছাকাছি কিংবা তার চেয়েও বেশি অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। এজন্য আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে সরকার, সমাজ ও রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর আস্থা রাখবে। তখন অর্থায়ন কোনো বড় সমস্যা হবে না। শুধু আস্থা অর্জন করলেই হবে না, জনগণের কাছে সেই আস্থা দৃশ্যমান করতে হবে।
কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন বলেন, দেশে ৬০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত হয়েছে; এর মধ্যে ৫৭টির কার্যক্রম চলমান। এ ধরনের কর্মশালা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে।
তিনি যৌক্তিক চাহিদা দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারি আইন, বিধি ও প্রবিধান যথাযথভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব ও অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন ইউজিসির সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অর্থ, হিসাব ও বাজেট বিভাগের উপপরিচালক মো. এমদাদুল হক।
এ ছাড়া অর্থ, হিসাব ও বাজেট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন এবং একই বিভাগের উপপরিচালক মো. এমদাদুল হক ও মো. হাফিজুর রহমান কর্মশালার বিভিন্ন সেশনে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ও প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন।
দুই দিনব্যাপী কর্মশালায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সরকারি আইন, বিধি ও প্রবিধান অনুসরণ এবং অডিট আপত্তি নিষ্পত্তিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।