২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৫:২৬

রুয়েটের জমি পুনরুদ্ধারে দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

তালাইমারি এলাকায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে মানববন্ধনে রুয়েট শিক্ষার্থীরা  © টিডিসি

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) নিজস্ব জমি পুনরুদ্ধার, সীমানা সুরক্ষা এবং অননুমোদিত স্থাপনা অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে র‌্যালি বের করে তালাইমারি এলাকায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে এ মানববন্ধন করেন তিন শতাধিক শিক্ষার্থী।

‘রুয়েটের জমি রক্ষা করুন—সীমানা সুরক্ষিত করুন; অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করুন’ স্লোগান সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থীরা দুটি দাবি জানান। দাবিগুলো হলো রুয়েটের মালিকানাধীন জমিতে নির্মিত পাবলিক টয়লেটসহ সব অননুমোদিত স্থাপনা অপসারণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও সীমানাপ্রাচীর সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ভ্রাম্যমাণ দোকানসহ অন্যান্য অননুমোদিত স্থাপনা উচ্ছেদ করা।

কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ‘রুয়েটের সীমানাপ্রাচীর মুক্ত করো’, ‘অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘আমাদের দুই দফা মানতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তালাইমারি এলাকায় রুয়েটের মালিকানাধীন জমিতে সীমানাপ্রাচীর ভেঙে একটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থাপনাটি সেখানে থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি পুনরুদ্ধারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে টয়লেটটির পাশেই পুরকৌশল অনুষদের ১০ তলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। ফলে স্থাপনাটির কারণে শিক্ষার পরিবেশ, নিরাপত্তা, চলাচল ও ক্যাম্পাসের নান্দনিকতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানান তারা।

মানববন্ধনে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মিরাত শাফিন তুর্য্য বলেন, রুয়েটের সীমানার ভেতরে কোনো অননুমোদিত স্থাপনা থাকা উচিত নয়। জনসাধারণের জন্য পাবলিক টয়লেট প্রয়োজন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির বাইরে উপযুক্ত স্থানে তা নির্মাণ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে থাকা দোকান ও অন্যান্য স্থাপনার কারণে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধান সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল করে। অথচ ফুটপাত দখল হয়ে থাকায় শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। তাই অননুমোদিত স্থাপনা সরিয়ে ফুটপাতটি পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান তিনি।

মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা সাত দিনের সময়সীমা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পাবলিক টয়লেট, দোকানপাটসহ অন্যান্য অননুমোদিত স্থাপনা দ্রুত অপসারণের দাবি জানান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরবর্তী সময়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা নেবেন না বলেও তাঁরা জানান।

এ সময় শিক্ষার্থীরা রুয়েটের জমি ও সীমানা সুরক্ষায় স্থায়ী নজরদারি ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান। তাদের মতে, দেশের অন্যতম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রুয়েটের প্রতিটি ইঞ্চি জমি ও অবকাঠামো রক্ষা করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব। দীর্ঘদিন ধরে কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিতে এসব স্থাপনা গড়ে উঠেছে, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও সীমানাপ্রাচীরের পাশে থাকা ভ্রাম্যমাণ দোকান ও অন্যান্য স্থাপনা ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য ও পরিবেশের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচলেও বাধা সৃষ্টি করছে। এসব স্থাপনা অপসারণ করে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তাঁরা।

উল্লেখ্য, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হওয়ার পর গত ২২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর ছয় দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা। এতে রুয়েটের জমিতে নির্মিত অননুমোদিত ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণ, সীমানাপ্রাচীর ভেঙে জমি দখল বা অবৈধ ব্যবহারের স্থান চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা পুনর্নির্ধারণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্থানে সীমানাপ্রাচীর সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের দাবিও তুলে ধরা হয়।

শনিবারের মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি ও সীমানা সুরক্ষিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।