আন্দোলনে ঢাবিসহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য দীর্ঘ, জুলাইয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) কোচিং সেন্টারের সঙ্গে তুলনা করে দেওয়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের একটি বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তার এই বক্তব্যে বিতর্কের মূল অংশ ছিল দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে গবেষণার তুলনা। সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত নিজের বক্তব্য প্রত্যাহারও করে নিলেও বর্তমানে অনলাইন ও অফলাইনে পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় দ্বন্দ্ব চলমান রয়েছে।
আজ সোমবার (১ জুন) বিকেলে রাজধানী তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, দেশের আন্দোলন-সংগ্রামে সুদীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে ঢাকাসহ দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের। তবে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলো যাত্রা কিন্তু শুরু হয়েছিল ১৯৯২ সাল থেকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়। স্বাভাবিকভাবে তাদের সেই সুদীর্ঘ ঐতিহ্যটুকু নেই। তবে আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেখেছি।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাবলিক ইউনিভার্সিটিগুলোর যে অসাধারণ ভূমিকা রয়েছে ইতিহাসের প্রতিটি পরতে পরতে তা প্রমাণিত। ৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭১’এ মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০’এ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, ২৪’এ গণঅভ্যুত্থান। প্রতিটা ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে অনন্য অসাধারণ ভূমিকা। এটি বাস্তবতা এবং আজকে আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা রয়েছেন তাদেরও একটি বিশাল অংশে রয়েছেন মেধার ভিত্তিতে যোগ্যতার ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে উঠে আসা।
‘‘রাষ্ট্রযন্ত্রেও অনেকেই রয়েছেন যারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন পাবলিক ইউনিভার্সিটি থেকে পড়ে এসেছেন। আর প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলো যাত্রা কিন্তু শুরু হয়েছিল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় ১৯৯২ সাল থেকে। স্বাভাবিকভাবে তাদের সেই সুদীর্ঘ ঐতিহ্যটুকু নেই। তবে সময়ের প্রবাহে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলো ভালো করছে।’’
মাহদী আমিন বলেন, আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেখেছি, সূচনা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। যেটা প্রাথমিকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল দেশের প্রতিটা পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে। তারপর কিন্তু খুব কঠিন একটা সময় প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে পাবলিক ইউনিভার্সিটি, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি—সব শ্রেণিপেশার মানুষকে একসাথে নিয়ে।
‘‘তার মানে বর্তমান সরকার মনে করে, এই যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ভার্সেস প্রাইভেট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এভাবে আমরা চিন্তা করি না। আমরা মনে করি, প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রত্যেকটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—প্রাতিষ্ঠানিকভাবে একে অপরের পরিপূরক, কম্পিটিশন না। তারা প্রত্যেকে একজন আরেকজনকে কমপ্লিমেন্ট করে। যার কারণে আমরা দেখি অনেকেই হয়তো ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স করছে নর্থ সাউথ থেকে মাস্টার্স করছে, অনেকেই ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স করছে ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাস্টার্স করছে।’’
তিনি বলেন, তার মানে কি? আমরা সবাই মিলে তো বাংলাদেশ প্রতিটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই তো মেধার ভিত্তিতে, যোগ্যতার ভিত্তিতে—আমাদের আগামী বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। যেখানে আমাদের নতুন প্রজন্মে যারা রয়েছেন তারা মেধাবী হবেন। তাদের দক্ষতা তৈরি হবে। তাদের মাঝে সুনাগরিকের গুণাবলী তৈরি থাকবে।’’
তিনি আরও বলেন, আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে বিশ্বাস করি, আগামীর বাংলাদেশকে যদি আমাদের একসাথে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় তাহলে কে কোন ইউনিভার্সিটির সেটা বিবেচ্য নয়। আমরা সততা দক্ষতা যোগ্যতার মাধ্যমে মেধার মূল্যায়ন করে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ থেকে করে তুলতে চাই। যেখানে সরকারের দিক থেকে সর্বোচ্চ নীতিগত সহযোগিতা থাকবে প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য।