অনার্স-মাস্টার্সে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট, রয়েছে পিএইচডি-বিদেশি ডিগ্রি—দায়িত্ব পালন করেছেন প্রো-ভিসিরও
অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) নতুন ভিসি। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার এন্ড রিসার্চের (আইএসডব্লিউআর)। স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে অর্জন করেছেন প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান। পরবর্তীতে সুইডেনের গোথেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকর্ম নিয়ে আন্তর্জাতিক মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তাছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রিও লাভ করেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ড. গোলাম রব্বানীকে নোবিপ্রবির ৭ম ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেদিনই তিনি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যোগদান করেছেন। পরদিন গতকাল শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে তিনি ক্যাম্পাসে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।
ড. রাব্বানীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৮ বছরেরও বেশি শিক্ষকতা, গবেষণা এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসিরও দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএসডব্লিউআরে একজন ছাত্রবান্ধব শিক্ষক হিসেবে সুপরিচিত ড. রাব্বানী ছাত্র ও শিক্ষকতা উভয় জীবনেই একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্বের সুনাম রয়েছে। পাশাপাশি ক্রীড়াপ্রেমী হিসেবেও তিনি সুপরিচিত। টেনিসে টানা ১০ বছর চ্যাম্পিয়ান, ফুটবলেও চ্যাম্পিয়ান এবং সেরা খেলোয়াড় ছিলেন ড. গোলাম রব্বানী।
ড. রব্বানী বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক বিষয়ে স্বনামধন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নাল থেকে ৪০টিরও বেশি গবেষণা প্রকল্প এবং জার্নাল প্রবন্ধ সম্পন্ন ও প্রকাশ করেছেন। তিনি গবেষণাপত্র উপস্থাপক, মূল বক্তা, আলোচক এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে অনেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মেলন, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছেন এবং আয়োজন করেছেন। জীবিকা, পুনর্বাসন, সামাজিক সুরক্ষাজাল, জলবায়ু সহনশীলতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর (এডিবি, আইএফএডি, জাইকা ইত্যাদি) গবেষণা প্রকল্প করার ক্ষেত্রে তাঁর উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে।
জানা গেছে, ড. রব্বানী ১৯৯৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকল্যাণে ব্যাচেলর অব সোশ্যাল সায়েন্স এবং ১৯৯৪ সালে মাস্টার্স অব সোশ্যাল সায়েন্স উভয় একাডেমিক প্রোগ্রামে প্রথম শ্রেণিতে অসাধারণ ফলাফল (প্রথম স্থান এবং ফ্যাকাল্টি ফার্স্ট) অর্জন করে সম্পন্ন করেন। এর আগে ১৯৯০ সালে তিনি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কুমিল্লা বোর্ড থেকে ফোর্থ স্ট্যান্ড করেন। তিনি ১৯৯৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০১৪ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।
তিনি ২০০৬ সালে সুইডেনের গোথেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকর্মে আন্তর্জাতিক মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ২০১৩ সালে সমাজকল্যাণে ডক্টর অফ ফিলোসফি (পিএইচডি) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
উপ-উপাচার্যসহ যত প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা
১৯৯৮ সাল থেকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিভিন্ন একাডেমিক, প্রশাসনিক এবং সহ-পাঠ্যক্রমিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, (অক্টোবর ২০২৪ থেকে মে ২০২৫ পর্যন্ত); অধ্যাপক (২০১৪ থেকে বর্তমান), সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর, শিল্প সম্পর্ক ও শ্রম শিক্ষা, সমাজকল্যাণে প্রফেশনাল মাস্টার্স প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর; ঢাবির কবি জসীমউদ্দিন হলের হাউস টিউটর (২০০১-২০০৫); সচিব (২০১৪-১৫) এবং সহ-সভাপতি (২০১৭-২০১৮), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব; সদস্য, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; সদস্য, সম্পাদকীয় বোর্ড, দ্য জার্নাল অফ সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট; প্রাক্তন নির্বাহী সদস্য, জাতিসংঘ অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ; উপদেষ্টা, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।
ড. রব্বানী বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে মাস্টার অব সোশ্যাল সায়েন্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণি (প্রথম স্থান) অর্জন করার স্বীকৃতিস্বরূপ স্বর্ণপদক লাভ করেছেন। তাঁর গবেষণার আগ্রহের বিষয়গুলো হলো সামাজিক উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবিকা, শিল্প সম্পর্ক এবং শ্রম কল্যাণ। ড. রব্বানী একটি অত্যন্ত ভালো একাডেমিক রেকর্ড অর্জন করেছেন এবং তিনি জাতীয়, আন্তর্জাতিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের অনেক সহযোগিতামূলক গবেষণা প্রকল্পে জড়িত ছিলেন।
ক্রীড়াপ্রেমী ড. রব্বানী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মধ্যে টানা ১০ বছর লন টেনিসে চ্যাম্পিয়ান হওয়ার বিরল কৃতিত্ব অর্জন এবং গত বছর রানার্সআপ ছিলেন নবনিযুক্ত উপাচার্য ড. রব্বানী। তার ক্রীড়ার প্রতি তার গভীর আগ্রহ এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নোবিপ্রবির ক্রীড়াঙ্গনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলাধুলা চর্চা আরও গতিশীল হবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ উঠবে এমন প্রত্যাশা।
ক্রীড়াপ্রেমী—টেনিসে টানা ১০ বছর চ্যাম্পিয়ান
গতকাল নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াঙ্গনকে উৎসবমুখর করার আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট একজন মানুষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মধ্যে দীর্ঘদিন লন টেনিসে চ্যাম্পিয়ন ছিলাম এবং গত বছর রানার্সআপ ছিলাম। নোবিপ্রবিতে দায়িত্ব পালনকালে আমি ক্যাম্পাসে খেলাধুলার পরিবেশকে গতিশীল ও উৎসবমুখর করে তুলতে কাজ করব।
তিনি আরও বলেন, ‘নোবিপ্রবিতে ফুটবল-ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, অ্যাথলেটিক প্রতিযোগিতাসহ সব ধরনের খেলাধুলাকে প্রতিবছর খুব উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজন করার চেষ্টা করব। শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলায় গুরুত্ব দিবে গুরুত্ব দিবে, এতে শরীর মন ভালো থাকবে।’