০১ মার্চ ২০২৬, ২২:২৫

ইরানে সামরিক আগ্রাসন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের, ৬ দাবি জানাল ডাকসু

বিবৃতি  © টিডিসি সম্পাদিত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। রোববার (১ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে জানায়, চলমান কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই সামরিক হামলা পরিচালনা আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সম্পৃক্ততার মৌলিক ভূমিকা ক্ষুণ্ন করেছে। আলোচনা চলাকালীন সামরিক শক্তি প্রয়োগ দায়িত্বজ্ঞানহীন উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং কূটনীতির ওপর বৈশ্বিক আস্থা নষ্ট করে বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

এতে বলা হয়, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরানে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং পুরো অঞ্চলে গভীর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ডাকসু মনে করে, তার মৃত্যু এই সংঘাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যা আরও অস্থিতিশীলতা ও ভোগান্তির কারণ হতে পারে।

ডাকসু নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে জানায়, হামলায় শিশু ও শিক্ষার্থীরাও প্রাণ হারিয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে স্কুল ও আবাসিক এলাকায় হামলার ফলে মর্মান্তিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে শিশুদেরও প্রাণহানি হয়েছে। বেসামরিক জনগণ, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক আইন ও নৈতিকতার মৌলিক নীতি বলে উল্লেখ করা হয়।

দাবিগুলো হলো—

১. অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধে কার্যকর ও আন্তরিক কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ এবং তা অগ্রাধিকার দেওয়া।
২. ইরানের রাষ্ট্রপ্রধান ও বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনা।
৩. আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা এবং শিশু, শিক্ষার্থী ও নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকসহ সকল মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
৪. আন্তর্জাতিক মানদণ্ড লঙ্ঘন ও বেসামরিক জনগোষ্ঠীর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
৫. আহত, বাস্তুচ্যুত ও শোকাহত জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা জোরদার করা।
৬. সংঘাত নিরসনে সহিংসতার পথ পরিহার করে আলোচনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার ক্ষেত্র প্রসারিত করা।

ডাকসু ইরান ও বৃহত্তর অঞ্চলের শিক্ষার্থী, পরিবার ও শান্তিকামী মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে জানিয়েছে, সামরিক আগ্রাসন বন্ধ এবং মানবজীবন ও মর্যাদাকে সম্মান জানায় এমন কূটনৈতিক পথ পুনরুজ্জীবিত করা জরুরি।