কতটা গরম চা খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে
নিয়মিত চা পান করলে হৃদরোগ ও রক্তনালির অসুখের ঝুঁকি কমতে পারে। তবে চা কতটা গরম, তার ওপরও নির্ভর করে এই উপকারিতা। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত চা পানকারীদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ কম। অন্যদিকে, অতিরিক্ত গরম বা ধোঁয়া ওঠা চা পান করলে হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি হতে পারে। তাই চা পানের অভ্যাস থাকলেও এর তাপমাত্রার দিকে নজর রাখা জরুরি।
‘জার্নাল অব ইন্টারনাল মেডিসিন’-এ প্রকাশিত গবেষণায় চীনের ৩০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী ৪ লাখ ৮৫ হাজারেরও বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকেরা। প্রায় ৯ বছর ধরে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। এ সময় তারা কত ঘন ঘন চা পান করেন, কোন ধরনের চা খান, চায়ের ঘনত্ব এবং তাপমাত্রা কেমন—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়।
গবেষণা চলাকালে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ বিভিন্ন ধরনের হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার ১৪ হাজার ৮০০টিরও বেশি ঘটনা ঘটে। গবেষকেরা এসব তথ্যও বিশ্লেষণ করেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত চা পান করেন, তাদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ কম। তবে চায়ের তাপমাত্রার সঙ্গে এ ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। যারা অত্যন্ত গরম বা ধোঁয়া ওঠা চা পান করেন, তাদের ক্ষেত্রে হৃদরোগের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, ঘরের তাপমাত্রায় রাখা চা পান করলে এ ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকে। তাই চা পান করার আগে তা কিছুটা ঠান্ডা করে নেওয়া ভালো।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, গ্রিন টির তুলনায় ব্ল্যাক টি হৃদ্যন্ত্রের জন্য বেশি উপকারী হতে পারে। তবে গ্রিন টিতেও শরীরের জন্য উপকারী বিভিন্ন উপাদান রয়েছে। গবেষকদের মতে, সপ্তাহে নিয়মিত ৬ থেকে ৮ কাপ চা পান করলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমতে পারে। যদিও অতিরিক্ত গরম বা ফুটন্ত পানীয় পান করা যে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তা আগের বিভিন্ন গবেষণাতেও উঠে এসেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার পানীয় পান করলে খাদ্যনালির ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। দিনের পর দিন অতিরিক্ত গরম পানীয় পান করলে খাদ্যনালির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
অন্যদিকে, চায়ের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু চা পান করলেই হৃদরোগের ঝুঁকি কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম এবং সক্রিয় জীবনযাপন জরুরি। তাই চা পানের অভ্যাস বজায় রাখলেও অতিরিক্ত গরম চা এড়িয়ে চলা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।