বিএমইউতে প্রখ্যাত লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মবিন খানের মৃত্যুবার্ষিকীতে বৈজ্ঞানিক সেমিনার
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) প্রখ্যাত লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মবিন খানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। একই সঙ্গে ‘ফ্রম কন্ট্রোল টু কিউর: দ্য এইচবিভি থেরাপিউরেটিক রিভ্যুলেশন বিপিরোভারসেন অ্যান্ড বিয়ন্ড’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ৫ম তলার লেকচার হলে হেপাটোলজি বিভাগের উদ্যোগে এসব অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘অধ্যাপক ডা. মবিন খান স্যার আমার সরাসরি শিক্ষক ছিলেন। তিনি আমার অনুপ্রেরণা ছিলেন এফসিপিএস করার। আমি ১৯৮৩ সালে আইপিজিএমআর এ ইন্টার্নশিপ করতে এসে তাকে পেয়েছি। তিনি তখন অস্ট্রেলিয়া থেকে হেপাটোলোজিতে মাস্টার্স করে ফিরে আসেন এবং হেপাটোলজি বিভাগ খুলতে চান। এরপর তিনি ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে বদলী হন। দুই বছর পর তিনি আবার আইপিজিএমআর-এ ফিরে এসে হেপাটোলজি বিভাগ খুলতে এসে সংগ্রাম করেছেন।’
অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি আজ আনন্দিত ও উদ্বেলিত যে একটি ফাংশনাল ওষুধ সামনে আসছে। যেটি ফাংশনাল। যা একসময় অবিশ্বাস্য মনে হতো।’
সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, ‘অধ্যাপক ডা. মবিন খান অসাধারণ মানুষ ছিলেন। তিনি সারা বছরের প্রতিদিনই সময়ে আসতেন। তিনি হাসপাতালে আসতেন সকাল ৭টার সময়ে। হাসপাতালে আসার আগে একশ রোগী দেখে আসতেন। সারা দিন আমরা তার সাথেই থাকতাম। কখনোই তার কোন ব্যক্তিজীবন ছিল না। সব জায়গায় তিনি ট্রান্সপারেন্ট ছিলেন। অধ্যাপক ডা. মবিন খান সাবজেক্ট খুলেছেন, কোর্স খুলেছেন এবং মেডিকেল কলেজগুলোতে বিভাগ খুলেছেন। লিভার বিভাগ কখনোই গবেষণায় পিছিয়ে ছিল না। তারই ধারাবাহিকতায় আজ এই সেমিনার। আজ আমরা একটি প্রোটোকল নিয়ে আলোচনা করছিলাম। শেষ পর্যন্ত এসে তিনটি প্রোটোকল নিয়ে আলোচনা করতে হলো। সবারই উদ্দেশ্যে হলো রোগীর চিকিৎসা ব্যয় কমানো।’
অনুষ্ঠানে হেপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এসকে নাজমুল হাসান ‘সাইলেন্সিং এইচবিপি, আনলকিং কিউর: দ্য প্রোমোসিস অব বিপরোভারসেন’ এবং স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ট হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মো. ফরহাদ হোসেন ‘দ্য ফাংশনাল কিউর ট্রায়াল: বিপরোভারসেন ভিএস, পেগিলেটেড ইন্টারফেরন’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
সেমিনারে মডারেটর হিসেবে ছিলেন হেপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম এলিন। তিনি অধ্যাপক ডা. মবিন খানের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন নিয়ে একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডা. তানভীর আহমাদ এবং সঞ্চালনা করেন ডা. তাহরিনা মাহাবুব।
সেমিনারে প্যানেল অব এক্সপার্ট হিসেবে বারডেমের হেপাটোলোজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. গোলাম আজম, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের হেপাটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের হেপাটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আল ফারুক, ঢাকা মেডিকেল কলেজের হেপাটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এবিএম শাকিল গনি, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের হেপাটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ফজল করিম, বিএমইউর গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ বি এম ছফিউল্লাহ, অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান, মুগদা মেডিকেল কলেজের হেপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান বিশেষজ্ঞ মতামত প্রদান করেন।