মেডিকেল কলেজের শিক্ষক সংকট নিরসনে অবসরপ্রাপ্তদের যুক্ত করার সিদ্ধান্ত
মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষক সংকট নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পুনরায় যুক্ত করা এবং তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ১৫তম মেডিকেল বায়োকেমিস্ট্রি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিকেল বায়োকেমিস্ট এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী তরুণ চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মুক্তভাবে চিন্তা করার সুযোগ তৈরির পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, দেশের তরুণ চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বিশাল মেধা ও স্বপ্নকে কোনো নির্দিষ্ট ছাঁচে বা বাক্সে বন্দি না করে তাদের মুক্তভাবে চিন্তা করার সুযোগ করে দিতে হবে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের গতানুগতিক ধারার বাইরে তরুণদের নিজস্ব স্বপ্নের ক্যারিয়ার গড়ার পথ তৈরি করতে হবে এবং এক্ষেত্রে নীতিনির্ধারক ও শিক্ষকরা কেবল সহায়ক বা অনুঘটকের ভূমিকা পালন করবেন।
তরুণদের বিশ্বমানের গবেষক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. এম এ মুহিত বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিশেষ করে মলিকুলার বায়োলজি এবং জেনেটিকস বা জিনতত্ত্বের ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসছে। হিউম্যান জিনোম প্রজেক্টের মতো বৈশ্বিক উদ্যোগে উন্নত বিশ্বের বাইরে বেশিরভাগ উন্নয়নশীল দেশের পর্যাপ্ত ডাটা অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এখনো বিশাল কাজের সুযোগ রয়েছে। এ দেশের মেধাবী তরুণ চিকিৎসকরা একটু সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে বিশ্বমানের গবেষক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অধ্যাপক লিয়াকত আলীর অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা সীমিত থাকলেও একাগ্রতা ও ভিশন নিয়ে কিভাবে আন্তর্জাতিক মানের গবেষক হতে হয়, তিনি তার উজ্জ্বল উদাহরণ।
সম্মেলনে মেডিকেল বায়োকেমিস্ট্রি খাতের বিভিন্ন সংকটের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০০ সালের দিকে সরকারের একটি সঠিক নীতিগত সিদ্ধান্তের ফলেই আজ দেশে মেডিকেল বায়োকেমিস্ট্রিতে পোস্ট-গ্রাজুয়েট কোয়ালিফিকেশনধারী চিকিৎসকের সংখ্যা ৫৩০ ছাড়িয়েছে এবং সোসাইটির সদস্য সংখ্যা প্রায় ছয়শতে উন্নীত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে সঠিক পলিসি ইন্টারভেনশন কীভাবে একটি অবহেলিত খাতকে বদলে দিতে পারে।
অনুষ্ঠানে চিকিৎসা শিক্ষা, নার্সিং, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং ডায়াগনস্টিক সার্ভিস—এই চারটি মূল স্তম্ভকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি বলেন, দেশের আধুনিক চিকিৎসা সেবা সরবরাহের ক্ষেত্রে এই চারটি স্তম্ভ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম স্তম্ভ তথা মেডিকেল ডাক্তার ও বিভিন্ন শাখার বিশেষজ্ঞদের ক্ষেত্রে আমাদের দেশে কিছুটা ভারসাম্যহীন পরিস্থিতি রয়েছে। বিশেষ করে পোস্ট-গ্রাজুয়েট চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে ফিজিওলজি বা বায়োকেমিস্ট্রির মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সংখ্যা অত্যন্ত কম, যা আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নিয়মিত চ্যালেঞ্জ।
সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হলেন অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম পামি, বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিকেল বায়োকেমিস্টের সভাপতি প্রফেসর মেজর জেনারেল (অব.) ডা. দেবাশীষ সাহা ও মহাসচিব অধ্যাপক ডা. সৈয়দা শাহীনা সোবহান মিতু প্রমুখ।