স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে চিকিৎসা শিক্ষা-নার্সিং-ফার্মাসিউটিক্যাল-ডায়াগনস্টিক সার্ভিস শক্তিশালী করতে হবে
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে চিকিৎসা শিক্ষা, নার্সিং, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং ডায়াগনস্টিক সার্ভিস—এই চারটি মূল স্তম্ভকে আরও শক্তিশালী করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিকেল বায়োকেমিস্ট্রির ১৫তম মেডিকেল বায়োকেমিস্ট্রি সম্মেলন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দেশের আধুনিক চিকিৎসা সেবা সরবরাহের ক্ষেত্রে এই চারটি স্তম্ভ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম স্তম্ভ তথা মেডিকেল ডাক্তার ও বিভিন্ন শাখার বিশেষজ্ঞদের ক্ষেত্রে আমাদের দেশে কিছুটা ভারসাম্যহীন পরিস্থিতি রয়েছে। বিশেষ করে পোস্ট-গ্রাজুয়েট চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে ফিজিওলজি বা বায়োকেমিস্ট্রির মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সংখ্যা অত্যন্ত কম, যা আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নিয়মিত চ্যালেঞ্জ।
দ্বিতীয় স্তম্ভ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি খাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রেও বড় সমস্যা রয়েছে। সংখ্যায় খুব কম না হলেও এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কারিকুলাম এবং শিক্ষার মান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার এই খাতে মানোন্নয়নের কাজ শুরু করে দিয়েছে।
তৃতীয় স্তম্ভ ফার্মাসিউটিক্যাল বা ওষুধ শিল্প অন্যান্য খাতের তুলনায় বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, ভ্যাকসিন উৎপাদনকে লেভেল-২ থেকে লেভেল-৩ এ উন্নীত করতে বর্তমানে ডব্লিউএইচওর সঙ্গে কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীও দ্রুততম সময়ের মধ্যে একে লেভেল-৩ এ নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।
ডায়াগনস্টিক সার্ভিসেস নিয়ে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন পরিদর্শনের সময় তিনি দেখেছেন, প্রধান ম্যান্ডেট অনুযায়ী ল্যাবরেটরি সেবার মান নিয়ন্ত্রণ ও রেফারেন্স ল্যাব হিসেবে কাজ করার পরিবর্তে এটি মূলত একটি সাধারণ সার্ভিস ডেলিভারি ইনস্টিটিউটে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন জায়গা থেকে এখানে টেস্ট করতে আসায় গবেষণা ও মান নিয়ন্ত্রণের মূল কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ডায়াগনস্টিক সার্ভিসগুলোকে বিশ্বমানের না হলেও অন্তত দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মানে উন্নীত করতে হবে। এ লক্ষ্যে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) কাছে কারিগরি সহায়তা চাওয়া হয়েছে এবং ন্যাশনাল ডায়াগনস্টিক নেটওয়ার্ককে আধুনিকায়নে তারা বেঞ্চমার্কিং করে সুপারিশ প্রদান করবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন সুমন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম পামি, অন্তর্বর্তীলীন সরকারের সময়ে গঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ডা. শাহিনা সোবহান মিতু এবং ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. দেবাশীষ সাহা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।