বিএমইউতে বিশ্ব সোরিয়াসিস দিবস পালিত
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) বিশ্ব সোরিয়াসিস দিবস পালিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সোরিয়াসিস অ্যাওয়ারনেস ক্লাব ও বাংলাদেশ ডার্মাটোলজিস্ট সোসাইটির উদ্যোগে ‘‘ত্বকের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষটিকে দেখুন’ বা ‘লুক বিয়ন্ড মাই স্কিন’ প্রতিপাদ্যে দিবসটি পালিত হয়। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। পরে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, সোরিয়েসিস একটি দৃশ্যমান স্কিন ডিজিজ। এ রোগে আক্রান্ত রোগীদের কাছ থেকে ক্লোজ রিলেটিভ পরিবারের সদস্য, সমাজ বা কর্মক্ষেত্রে একটু দূরে থাকতে চান। এই সোরিয়েসিস অ্যাওয়ারনেস ক্লাবের উদ্দেশ্যই হচ্ছে, মানুষকে সচেতন করা। এই রোগটি কোন অবস্থাতেই ছোঁয়াচে রোগ নয়। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে এমন কোনো আচরণ করা যাবে না, যাতে তাঁরা নিজেদের বিচ্ছিন্ন বা অবহেলিত মনে করেন।
অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী বলেন, এ রোগের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এটি ত্বকে দৃশ্যমান হয়। এই রোগীদের এক তৃতীয়াংশ আর্থ্রাইটিস রোগে ভুগেন। এই আর্থ্রাইটিস যদি প্রথম অবস্থায় ডায়াগনোসিস করা যায় এবং সেটির সঠিক চিকিৎসা দেয়া হয়, তাহলে সেই আর্থ্রাইটিসটি ভালোভাবে কন্ট্রোল করা সম্ভব। একই সাথে সোরিয়েসিস খুব ভালভাবে কন্ট্রোল করা সম্ভব হয়। এটি যদি করা না যায়, তবে আর্থ্রাইটিসটি খুব ডিস্ট্রাকটিভ হয়। তখন এই আথ্রাইটিস মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে-মেরুদণ্ডে আক্রান্ত করে, মানুষের চলাচলে হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
তিনি বলেন, যুগের অগ্রগতির সাথে অনেক আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি চলে এসেছে। সেই চিকিৎসাগুলো যদি রোগীদের দিতে পারি, তাহলে সোরিয়াসিস হলেও এই রোগীরা সুন্দর স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে। সেজন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে এই রোগের সচেতনতা সৃষ্টির জন্য আমাদের চিকিৎসকরা, গণমাধ্যমের কর্মীরা এই ম্যাসেজ ছড়িয়ে দেবেন, এই রোগ চিকিৎসা করে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে স্বাভাবিক চলার মতো অসুখ। এটি কোন অবস্থাতেই ছোঁয়াচে রোগ নয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমি, রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশীদ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী।
অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান ও মেডিকেল টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এম আবু হেনা চৌধুরী, বাংলাদেশ ডার্মাটোলজিস্ট সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ মুনীর রশিদ, সোরিয়াসিস সচেতনতা ক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সামিউল হক, বিএমইউর চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. লুবনা খন্দকার, ডা. একেএম রেজাউল হক, ডা. মোস্তাক মাহমুদ, ডা. শারমিন সুলতানা, ডা. মোহাম্মদ আবু নাছের প্রমুখ।