দুর্নীতিতে দলকে ঢাল হিসেবে ব্যবহারকারীদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানের পরামর্শ দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতার পদত্যাগ
অনিয়ম ও দুর্নীতিতে দলকে ঢাল হিসেবে ব্যবহারকারীদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) সমর্থিত স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের সংগঠন ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের (এনএইচএ) মুখ্য সংগঠক ডা. ইউসুফ জামিল তিহান। আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) সংগঠনটির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এক পদত্যাগপত্র দিয়েছেন তিনি।
পদত্যাগপত্রে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে পদত্যাগের কথা বলা হলেও ‘পরামর্শ’ দেওয়া নিয়ে সংগঠনটির মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এনএইচএর একটি সূত্রের দাবি, সংগঠনটির সদস্য সচিব ডা. আব্দুল আহাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং তার সঙ্গে কমিটি গঠন নিয়ে মতবিরোধের জেরে এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে।
পদত্যাপত্রে ডা. ইউসুফ জামিল তিহান লিখেছেন, ‘আসসালামুয়ালাইকুম। আশা করি আল্লাহর রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন। আমি ডা, ইউসুফ জামিল তিহান, ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্স (এনএইচএ)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে এই দায়িত্ব পালন আর সম্ভবপর নয়। আমি আজ ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ হতে এই দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছি।’
তিন লিখেছেন, ‘জুলাই বিপ্লব পরবর্তী দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন দেশ গঠনে এনসিপি ও এনএইচএর পথ চলায় আমাকে সম্পৃক্ত করার জন্য এবং কাজ করার সুযোগ প্রদান করার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আপনাদের জন্য আমার অবিরাম ভালোবাসা ও নিরন্তর শুভকামনা থাকবে।’
‘পরিশেষে পরামর্শ’ দিয়ে ডা. তিহান লিখেছেন, ‘অনিয়ম ও দুর্নীতিতে দলকে ঢাল হিসেবে ব্যবহারকারীদের ব্যাপারে আপনারা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবেন।’
জানতে চাইলে ডা. ইউসুফ জামিল তিহান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, পদত্যাগপত্রে আমি বলেছি যে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কারণে আমি আর থাকতে পারছি না।
দুর্নীতি-অনিয়মের কথা উল্লেখ থাকা এবং সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নির্দিষ্ট কারো কারণে পদত্যাগের কথা অস্বীকার করেছেন ডা. তিহান। তিনি বলেন, দুর্নীতির এগেইনস্টে আমরা সবাই। দুর্নীতি-বৈষম্যের বিরুদ্ধেই তো আমরা ছিলাম। তবে দলের কিছু দুর্নীতির বিষয় তো আছে, অনেকেই জানে। আমার সব সময়ই এক্সপেক্টেশন থাকে যাদের নামে এসব এলিগেশন আছে, তাদের ব্যাপারে দল পদক্ষেপ নেবে, যেন কেউ পেট্রোনাইজ না করে।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনএইচএর শীর্ষ একজন নেতা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই সদস্য সচিব ডা. আব্দুল আহাদের সঙ্গে ডা. ইউসুফ জামিল তিহানের বিরোধ চলে আসছিল। সদস্য সচিব ডা. আহাদ আর্থিক দুর্নীতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বদলি বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন বলে সংগঠনের মধ্যে আলোচনা আছে। এ নিয়ে ডা. তিহান এনসিপির পেশাজীবী সংগঠনগুলোর তত্ত্বাবধায়ক ড. আতিক মুজাহিদের কাছে বেশ কয়েকবার অভিযোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আসন্ন কমিটিতে ডা. আহাদকে নেতৃত্বে রাখলে তিনি পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছিলেন।
জানতে চাইলে ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের (এনএইচএ) ডা. আব্দুল আহাদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, কেউ পদত্যাগ করলে তা দপ্তর বরাবর আসতে হবে। ডা. তিহান হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ দিয়েছেন, কিন্তু কোনো দাপ্তরিক চিঠি পাইনি। আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের বিষয়ে আমি জানি না। আমি এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত নই।
এ বিষয়ে জানতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোর তত্ত্বাবধায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপির হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।