২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৫৩

বিএম‌ইউ হাসপাতালের ৮ তলা থেকে পড়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি

এই ভবনের ৮ তলার জানালা দিয়ে পড়ে মৃত্যু হয় স্কুলছাত্রীর  © টিডিসি ছবি

রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএম‌ইউ) ৮ তলা থেকে পড়ে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্কুলপড়ুয়া মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আবু নূর মাসুদ রানাকে।

আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে অতিরিক্ত পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. হাসনাত আহসান সুমন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এই তথ্য জানিয়েছেন। তদন্ত কমিটির অপর সদস্যরা হলেন— সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. ইকবাল রহিম স্বাধীন ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ।

অতিরিক্ত পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. হাসনাত আহসান সুমন বলেন, মেয়েটা কীভাবে মারা গেল, এর কারণ উদ্ঘাটন করার জন্য একটা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে আমাদেরকে জানাবে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে হাসপাতালের সি ব্লকের ৮ তলায় গাইনি অ্যান্ড অবস বিভাগের একটি কক্ষ থেকে পড়ে মৃত্যু হয় সামিয়া নুরের (১৫)। তিনি গাজীপুরের কামারজুরী ইউসুফ আলী হাই স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নিঃসন্তান নুরুন্নবী ও পারুল আক্তার সামিয়াকে ৩ বছর বয়সে দত্তক নিয়েছিলেন। নুরুন্নবী গাজীপুর বোর্ডবাজার সাইনবোর্ড বাদে কলমেশ্বর এলাকায় একটি কনফেকশনারির দোকান করেন।

নিহত সামিয়ার দত্তক বাবা নুরুন্নবী গণমাধ্যমকে বলেন, আমার স্ত্রী জরায়ু টিউমারের চিকিৎসার জন্য ৫-৬ দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হন। ২৮ তারিখে তার অপারেশন হওয়ার কথা ছিল।

তিনি বলেন, আমার মেয়ে বাইরে ছিল। বাইরে থেকে এসে মাকে বলে মা ভাত দাও, ক্ষুধা লেগেছে আমার। পরে আমার মেয়ে ভাত খেয়ে বেড থেকে সামান্য একটু দূরে কোমর সমান একটি বড় জানালার মতো জায়গা ছিল, সেখানে গিয়ে বসেছে। এদিকে, আমার স্ত্রী বেডের নিচে বসে ভাত খাচ্ছিল। ওই সময় আমার মেয়ে ওই জায়গায় গিয়ে বসে নিচের দিকে তাকালে তার মাথা চক্কর দিয়ে অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে (ওসেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নুরুন্নবী চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বলেন, আমার মেয়ের ঘাড় এবং একটি হাত ভেঙে গেছে। কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। তার ভিতরেও ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। ভিতরেও অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে।