২৩ অক্টোবর ২০২৬, ২১:২৩

ইউরোপজুড়ে প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কবার্তা

শ্যামোন্ডা ভাইরাসের কবলে ইউরোপ  © সংগৃহীত

করোনাভাইরাসের আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই শামোন্ডা ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গবাদি পশুর শরীরে সংক্রমণ ঘটানো এই ভাইরাসের একটি প্রজাতি ফ্রান্সে এক ব্যক্তির শরীরে শনাক্ত হয়েছে। দেশটিতে ষাটোর্ধ্ব ওই ব্যক্তির মৃত্যুর পর বিষয়টি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তবে ভাইরাসটি কীভাবে তার শরীরে প্রবেশ করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

১৯৬০ সালে নাইজেরিয়ার একটি খামারে প্রথম শামোন্ডা ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া যায়। গরু, ছাগল, ভেড়া ও ঘোড়ার মতো গবাদি পশুর শরীরে এই ভাইরাস সংক্রমণ ঘটাতে পারে। তবে মানুষের শরীরে এর সংক্রমণের ঘটনা বিরল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৃত ব্যক্তির রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে শামোন্ডা ভাইরাসের একটি প্রজাতির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। কীভাবে তিনি সংক্রমিত হয়েছিলেন, তা জানতে তদন্ত চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো আক্রান্ত পশু থেকে ভাইরাসটি তার শরীরে প্রবেশ করে থাকতে পারে।

কী এই শামোন্ডা ভাইরাস?

শামোন্ডা ভাইরাস মূলত গবাদি পশুকে আক্রান্ত করে। এর সংক্রমণে পশুর প্রজননজনিত সমস্যা, জ্বর, ডায়রিয়া, ত্বকের সংক্রমণ, দুধ উৎপাদন কমে যাওয়া এবং স্নায়বিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ভাইরাসটি সাধারণত কীভাবে ছড়ায়, সে বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। কিছু ক্ষেত্রে মশা বা অন্যান্য বাহক পোকার মাধ্যমে পশুর মধ্যে এ ধরনের ভাইরাস ছড়াতে পারে। তবে ফ্রান্সে মৃত ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসটি কীভাবে প্রবেশ করেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

কতটা ভয়াবহ হতে পারে?

শামোন্ডা ভাইরাসের কারণে মানুষের মধ্যে গুরুতর অসুস্থতা বা মৃত্যুর ঝুঁকি কতটা, তা নির্ধারণের মতো পর্যাপ্ত তথ্য এখনো নেই। ফ্রান্সের ঘটনাটি বিরল হওয়ায় ভাইরাসটির মানুষের শরীরে সংক্রমণ, রোগের তীব্রতা এবং মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানোর সক্ষমতা নিয়ে আরও অনুসন্ধান প্রয়োজন।

ইউরোপের কয়েকটি দেশে ভাইরাসটির বিভিন্ন প্রজাতির উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। তবে ফ্রান্সের ঘটনাটি ছাড়া মানুষের শরীরে সংক্রমণের আর কোনো ঘটনার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

গবেষকদের আশঙ্কা, ভাইরাসটির মানুষের শরীরে সংক্রমণের ঘটনা ভবিষ্যতে আবারও ঘটতে পারে। তবে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে অন্যদের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়াবে—এমন প্রমাণ এখনো নিশ্চিত নয়। তাই সংক্রমণের উৎস ও বিস্তারের ধরন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।