রামেক হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট, অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি।
আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) সংগঠনটির সভাপতি ডা. এস.এম. তপু, সাধারণ সম্পাদক ডা. মুশফিকুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. জামিল আক্তার, কোষাধ্যক্ষ ডা. রাকিবুল ইসলাম এবং নারী বিষয়ক সম্পাদক ডা. তাসনিয়া রিশা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির নেতৃবৃন্দ জানান, হাসপাতালের ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জামের চরম ঘাটতি চলছে। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত দর্শনার্থী বা রোগীর স্বজনদের অবাধ প্রবেশ এবং দায়িত্বে থাকা আনসার বাহিনীর চরম অবহেলার কারণে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা প্রতিনিয়ত মবের শিকার হচ্ছেন। ইতোমধ্যে একাধিক ইন্টার্ন চিকিৎসককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি রোগীর লোকজনের উগ্র আচরণ ও হুমকির মুখে একজন নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে বাধ্য হয়ে সিভিল ড্রেসে ওয়ার্ড ত্যাগ করার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া হাসপাতালে অবজারভেশন রুম ও ক্যাজুয়ালিটি বিভাগ চালু না থাকায় ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তারা আরও জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বারবার এসব সমস্যার কথা জানানো হলেও তারা কেবল আশ্বাসই দিয়ে গেছেন, কিন্তু অদ্যাবধি কোনো কার্যকর বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা ভর্তি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা, চিকিৎসকদের সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়া, রোগীর সাথে সর্বোচ্চ ২ জনের বেশি স্বজনকে ঢুকতে না দেওয়া, ভর্তি ও ভর্তির পরবর্তী দিনগুলোতে সকল ওয়ার্ডে আনসার সদস্যদের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং অনতিবিলম্বে ক্যাজুয়ালিটি বিভাগ চালু করার দাবি জানিয়েছেন।
এসব যুক্তিসঙ্গত দাবি ও বিদ্যমান সমস্যার দ্রুত সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে এবং দাবি মেনে না নিলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শামীম আহমেদ বলেন, তারা পরিস্থিতি নিরসনে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিয়ে সভা করছেন। পাশাপাশি ওয়ার্ডগুলোতে মিডলেভেল চিকিৎসকেরা দায়িত্ব পালন করছেন এবং ওয়ার্ডে রোগীদের কোনো ধরনের ভোগান্তি হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।
কর্মবিরতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে। ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী, রফিকুল ইসলাম জানান, সকাল থেকে একটু দুশ্চিন্তায় থাকলেও মিডলেভেল ডাক্তাররা এসে দেখে গেছেন এবং ওষুধ ও প্রাথমিক চিকিৎসা ঠিকঠাকই পাওয়া গেছে। তবে অন্য এক পুরুষ রোগী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ইন্টার্ন ডাক্তাররা না থাকায় নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা দেরি হচ্ছে এবং হাসপাতালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন, যাতে সাধারণ রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।
চিকিৎসাধীন নারী রোগী সুফিয়া বেগম বলেন, ডাক্তারদের নিরাপত্তাহীনতা বা ওষুধ সংকটের বিষয়টি সত্যি চিন্তার বিষয়, তবে জ্যেষ্ঠ ডাক্তাররা চিকিৎসাসেবা দেওয়ায় বড় কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি।
আরেক নারী রোগী রহিমা খাতুন বলেন, ওয়ার্ডে অতিরিক্ত ভিড় সত্যিই চিকিৎসায় ব্যাঘাত ঘটায়, তবে ডাক্তারদের আন্দোলনের কারণে যাতে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে না হয়, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।