১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:০২

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরে জাতীয় হ্যাকাথন, রেজিস্ট্রেশন শুরু

বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত  © সংগৃহীত

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক, সহজ ও কার্যকর করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ইন্টারস্পিড অ্যাক্টিভেশন লিমিটেড যৌথভাবে চালু করেছে জাতীয় পর্যায়ের আয়োজন ‘ই-হেলথ হ্যাকাথন ২০২৬’। আজ রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অংশীদারত্বে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এ কর্মসূচির বিস্তারিত রূপরেখা ঘোষণা করেন।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যসেবার ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে উদ্ভাবনী ডিজিটাল সমাধানের সুযোগ নিয়ে আয়োজিত হচ্ছে এই হ্যাকাথন। আজ ১৮ অক্টোবর এর নিবন্ধন শুরু হয়েছে, যা চলবে এক মাসব্যাপী। নিবন্ধন ও বাছাই পর্ব শেষে নির্বাচিত দলগুলোকে নিয়ে রাজধানী ঢাকায় তিন দিনব্যাপী একটি নিবিড় ‘বুটক্যাম্প’ অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সরাসরি তরুণদের মেন্টরশিপ প্রদান করবেন, যাতে তাদের প্রাথমিক ধারণাগুলো টেকসই ও কার্যকর বাস্তব রূপ পায়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাস্থ্য খাতে আমরা সুনির্দিষ্ট ২০টি অঙ্গীকার করেছিলাম, যে অঙ্গীকারগুলো পূরণ করলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একটি নতুন রূপে আবির্ভূত হবে এবং জনগণের দোরগোড়ায় আমরা একটি ভালো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পৌঁছে দিতে পারব। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ধারণাটিকে নিয়ে আমরা এসেছি, সেটি হচ্ছে ই-হেলথ কার্ড এবং ই-হেলথ সিস্টেম। এই হ্যাকাথনের আয়োজনটি সেই ই-হেলথ কার্ড বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

সিম্পোজিয়ামে আমন্ত্রিত অতিথিরা

তিনি বলেন, আমরা যখন দায়িত্ব নেওয়ার পর ই-হেলথ কার্ড নিয়ে কাজ শুরু করি, তখন অনেকেই আলাদাভাবে নানা চমৎকার আইডিয়া নিয়ে আসছিলেন। কিন্তু বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে স্বাস্থ্য খাতের একেকটি উদ্যোগ আলাদা ‘সাইলো’ বা গণ্ডিতে আটকে থাকে, যা পরবর্তীতে সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। ডিজিটাল সিস্টেমে প্রতিটি বিভাগ যেন পরস্পরের সাথে সংযুক্ত হতে পারে (ইন্টারঅপারেবিলিটি), সে লক্ষ্যেই এই হ্যাকাথনের মাধ্যমে সবাইকে একটি সমন্বিত ও স্বচ্ছ প্ল্যাটফর্মে আনা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, একবার কল্পনা করুন—২০ কোটি মানুষের একটি বিশাল স্বাস্থ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরি হচ্ছে। একজন নাগরিক যতবার চিকিৎসকের কাছে যাবেন, যতবার ডিসপেনসারি থেকে ওষুধ কিনবেন কিংবা ল্যাব টেস্ট করাবেন—সব মেডিকেল রেকর্ড সেখানে নিয়মিত যুক্ত হতে থাকবে। এই বিপুল ডেটাসেট নিজেই স্বাস্থ্য গবেষণার এক বিশাল রিসোর্স। বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোও এ ধরনের ডেটাবেসে বিনিয়োগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মেশিন লার্নিং মডেলে ব্যবহারের আগ্রহ দেখাচ্ছে। তবে আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব এবং তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা (ডেটা সিকিউরিটি) নিশ্চিত করেই এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে তদবির বা নেপোটিজমের সুযোগ বন্ধ করে সবার জন্য সমান সুযোগ ও স্বচ্ছতা তৈরিতে এমন উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা দারুণ ভূমিকা রাখবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঢাকার বাইরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক তরুণের সেরা উদ্ভাবনী ভাবনাও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলো।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাত আনুমানিক ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল বাজার, যা সঠিক তথ্যের অভাবে এখনও পুরোপুরি মূল্যায়িত হয়নি। স্বাস্থ্য খাত ডিজিটালাইজড হলে এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরি হলে দেশি-বিদেশি বড় বড় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার অপার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. রাজেশ নারওয়াল, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) দিল আফরোজা, ইউনিসেফের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মালালা আহমাদজাই, এডিএন টেলিকম লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ, বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের (বিএমআরসি) পরিচালক ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেন্নুর এবং বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অপারেশনস অফিসার ইফফাত মাহমুদ। অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য দেন ইন্টারস্পিড অ্যাডভার্টাইজিং লিমিটেডের গ্রুপ ডিরেক্টর আদনান করিম ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) শ্বাসতন্ত্রের রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মানাল মিজানুর রহমান।