ইন্টার্ন ও মিডলেভেল চিকিৎসকদের ভাতা পুনর্নির্ধারণসহ ৫ দফা দাবি
দেশের স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার, চিকিৎসকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের দাবিতে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (এসএইচএসএমসি) পরিচালক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে ইন্টার্ন ও মিডলেভেল চিকিৎসকদের ভাতা পুনর্নির্ধারণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা গোলাম সারোয়ার মুনের কাছে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। হাসপাতালের এসএইচ-১৬ ও এসএইচডি-১০-এর (২০২০-২১ সেশন) ইন্টার্ন চিকিৎসকরা এই স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপিতে চিকিৎসকদের দাবিগুলো হলো— ইন্টার্ন ও মিডলেভেল ভাতা পুনর্নির্ধারণ, বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতের বেতন কাঠামো ও এফসিপিএস ভাতা নিশ্চিত, চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কার ও ৬ দফা বাস্তবায়ন এবং ভুয়া চিকিৎসক উচ্ছেদে মোবাইল কোর্ট।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের লিখিত প্রতিশ্রুতি সাপেক্ষে নতুন পে স্কেল অনুযায়ী ইন্টার্ন ভাতা ৯ম গ্রেডের বেসিক এবং মিডলেভেলের (ট্রেইনি, ডিপ্লোমা, রেসিডেন্ট, নন-রেসিডেন্ট) ভাতা ৯ম গ্রেডের সকল সুবিধাসহ আনুপাতিক হারে কার্যকর করতে হবে। একইসাথে নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতে সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো প্রণয়ন এবং গত ৮ জুনের সাচিবিক সভার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এফসিপিএসের ভাতা নিয়মিত প্রতিমাসে প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।
এতে আরও বলা হয়, কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে জাতীয় সংসদে 'চিকিৎসক সুরক্ষা আইন' পাশ করতে হবে।
৬ দফা দাবি প্রসঙ্গে স্মারকলিপিতে বলা হয়, পোস্টগ্রাজুয়েশন পরীক্ষায় (ফেইজ এ, বি ফাইনাল, এফসিপিএস মিডটার্ম/ফাইনাল পরীক্ষার যে কোনো সেগমেন্টে) আংশিক উত্তীর্ণ হওয়ার বিধান চালুর পাশাপাশি চলতি বছরের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত সাচিবিক সভায় প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ছাত্র-চিকিৎসক সমাজের উত্থাপিত ঐতিহাসিক ৬ দফার বাকি অন্যান্য যৌক্তিক দাবিগুলোর দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
এছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইনের ২৯ ধারা অনুযায়ী অপচিকিৎসা ও ভুয়া ডাক্তারদের বিরুদ্ধে প্রতিমাসে অন্তত একবার দেশব্যাপী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার দাবিও জানানো হয়েছে স্মারকলিপিতে।
এসব দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা না হলে চিকিৎসক সমাজ বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে এবং এর সমস্ত দায়দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে এতে।