বাতের ব্যথার জন্য দায়ী খাওয়াদাওয়া, কী বলছে গবেষণা?
অল্প বয়সেই বাতের ব্যথায় ভুগছেন অনেকে। দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকার পর উঠে দাঁড়াতে গেলে হাঁটুতে ব্যথা, পিঠ ও কোমরে অস্বস্তিসহ নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাঁদের। সাধারণত শরীরচর্চার অভাব ও অলস জীবনযাপনকে এর কারণ মনে করা হলেও, খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গেও বাতের সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে বলে উঠে এসেছে এক গবেষণায়। ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ (আইসিএমআর) ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউট্রিশনের (এনআইএন) গবেষণায় দেখা গেছে, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শরীরে প্রদাহ বাড়ায় এমন খাবার খাওয়া এবং খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্যের অভাবের সঙ্গে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের সম্পর্ক রয়েছে।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী ৬১৫ জনের খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৩০১ জন রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ছিলেন। গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাদ্যাভ্যাস ছিল অস্বাস্থ্যকর। তাঁদের খাদ্যতালিকায় এমন খাবারের আধিক্য ছিল, যা শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে। এসব খাবারের মধ্যে জাঙ্ক ফুডও রয়েছে।
‘নিউট্রিয়েন্টস’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটিতে খাদ্যাভ্যাসের সামগ্রিক মানের সঙ্গে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হয়েছে। খাবারের গুণমান যাচাই করতে গবেষকেরা তিনটি সূচক ব্যবহার করেছেন। এগুলো হলো—ডায়েটারি ইনফ্ল্যামেটরি ইনডেক্স (ডিআইআই), ডায়েটারি ডাইভারসিটি স্কোর (ডিডিএস) এবং মিন প্রোবাবিলিটি অব অ্যাডিকুয়েসি (এমপিএ)। এসব সূচকের মাধ্যমে খাবার শরীরে কতটা প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, খাদ্যতালিকায় কতটা বৈচিত্র্য রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অণুপুষ্টি উপাদান কতটা পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে, তা মূল্যায়ন করা হয়েছে।
গবেষণায় উঠে এসেছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—
১. প্রদাহ সৃষ্টিকারী খাবারের আধিক্য: সুস্থ ব্যক্তিদের ডায়েটারি ইনফ্ল্যামেটরি ইনডেক্সের (DII) গড় মান ছিল ০.৩৭। অন্যদিকে, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই মান ছিল ২.১৮। অর্থাৎ, আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাদ্যাভ্যাসে প্রদাহ বাড়াতে পারে এমন উপাদানের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি ছিল।
২. খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্যের অভাব: সুস্থ ব্যক্তিদের ডায়েটারি ডাইভারসিটি স্কোর (DDS) ছিল ৭৪.২ শতাংশ। অন্যদিকে, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই স্কোর ছিল ৫০.২ শতাংশ। অর্থাৎ, আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাদ্যতালিকায় খাবারের বৈচিত্র্য তুলনামূলক কম ছিল।
৩. প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি: প্রয়োজনীয় অণুপুষ্টি উপাদান গ্রহণের পর্যাপ্ততা পরিমাপের সূচক মিন প্রোবাবিলিটি অব অ্যাডিকুয়েসি (MPA) সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ছিল ৩২.৯ শতাংশ। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই মান কমে দাঁড়ায় ১৮.৯ শতাংশে।
গবেষণার ফলাফল থেকে বোঝা যায়, প্রদাহ বাড়াতে পারে এমন খাবার বেশি খাওয়া, খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্যের অভাব এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির সঙ্গে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে এ গবেষণার ফলাফল থেকে খাদ্যাভ্যাসই সরাসরি রোগের কারণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
বাতের সমস্যা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সুষম খাবার খাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা করাও জরুরি। খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার রাখা এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের জোগান নিশ্চিত করা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।