হঠাৎ বুক ধড়ফড়, ঘাম আর মাথা ঘোরা—যে ভুলে বাড়তে পারে বিপদ
হঠাৎ বুক ধড়ফড়, ঘাম বা মাথা ঘোরা রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ অবস্থাকে বলা হয় ‘হাইপোগ্লাইসিমিয়া’। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কেউ নিয়মিত ওষুধ বা ইনসুলিন নেওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা আচমকা কমে গেলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এ সময় ভুল পদক্ষেপে বিপদ আরও বাড়তে পারে। কী করবেন আর কী করবেন না, তা জানিয়েছেন চিকিৎসক অন্বিত ভট্টাচার্য।
ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বয়সের তোয়াক্কা না করেই এই রোগ শরীরে হানা দিচ্ছে। একবার এই রোগ শরীরে বাসা বাঁধলে সহজে রেহাই মেলে না। রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয়। ওষুধে কাজ না হলে অনেকের ক্ষেত্রে ইনসুলিনও নিতে হয়।
আবার নিয়ম করে ওষুধ খাওয়া ও ইনসুলিন নেওয়ার পর অনেক সময় রক্তে শর্করার মাত্রা আচমকাই নেমে যেতে পারে। আর তাতেই দেখা দিতে পারে বিপত্তি। রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে সেই অবস্থাকেই বলা হয় ‘হাইপোগ্লাইসিমিয়া’।
হাইপোগ্লাইসিমিয়ায় শরীরে একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। মানুষের মস্তিষ্কের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য গ্লুকোজের প্রয়োজন হয়। শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যক্রম পরিচালনার জন্যও গ্লুকোজ প্রয়োজনীয়। শর্করা শরীরে শক্তি জোগানোর অন্যতম প্রধান উৎস।
তাই রক্তে শর্করার মাত্রা আচমকা কমে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে বুক ধড়ফড়, অতিরিক্ত ঘাম বা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ সময় সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় ভুল পদক্ষেপে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
হাইপোগ্লাইসিমিয়ার উপসর্গ
দেহে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে অনেকটা কমে গেলে বুক ধড়ফড় করতে শুরু করে। শরীর কাঁপতে থাকে। গায়ের চামড়া ফ্যাকাশেও হয়ে যায় অনেকের ক্ষেত্রে। পাখার নীচে থাকলেও শরীর থেকে অত্যধিক ঘাম ঝরতে থেকে। শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। মাথা ঘুরে যায়। হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত বা দ্রুত হতে থাকে। খুব গুরুতর অবস্থায় অনেক সময় রোগীর খিঁচুনিও দেখা দেয়।
চিকিৎসক অন্বিত ভট্টাচার্যের মতে, হাইপোগ্লাইসিমিয়ার উপসর্গ দেখা দিলে অনেকেই এমন কিছু ভুল করে বসেন, যাতে সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। জেনে নিন, কোন ভুলগুলি একেবারেই করা যাবে না।
১) রোগী যদি সজ্ঞানে থাকেন, তা হলে তাঁকে গ্লুকোজ়ের এমন কিছু উৎস দিতে হবে, যাতে তাঁর রক্তে শর্করার মাত্রা চটজলদি বাড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে রোগীকে কোনও মিষ্টি, আধ কাপ জলে ৩-৪ চামচ চিনি গুলে কিংবা গ্লুকোজ়ের গুঁড়ো মিশিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে। তবে এ সময় চকোলেট, আইসক্রিম বা বিস্কুট খাওয়াবেন না। এগুলিতে চিনির পাশাপাশি বেশি মাত্রায় ফ্যাটও থাকে, যার ফলে রক্তের সঙ্গে চিনি মিশতে অনেকটা সময় লেগে যায়।
২) রোগী অজ্ঞান হয়ে পড়লে বা খিঁচুনি হলে মুখে খাবার বা জল দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। এ ক্ষেত্রে শ্বাসনালিতে জল আটকে শ্বাসরোধ হতে পারে। প্রাণহানির ঝুঁকি বেড়ে যায়।
৩) রোগী ঠিক হয়ে যাওয়ার পরেও রোগীকে বিশ্রাম নিতে বলতে হবে, সেই সময় তাঁকে একা ছাড়া যাবে না। কিছুক্ষণ পর সুগার আবার কমে যেতে পারে। তাই সতর্ক থাকতে হবে।
১৫ মিনিট অন্তর বার দুয়েক মিষ্টি বা চিনির শরবত খাওয়ানোর পরেও রোগী স্বাভাবিক না হলে, তাঁর শরীরে অস্বস্তি না কমলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া দরকার। সেই সময় নিজে থেকে কোনও ওষুধ খেলে বা ইনসুলিন নিয়ে নিলে সমস্যা কমবে না, বরং বেড়ে যেতে পারে।