২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:১৮

চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বিএমডিসিকে শক্তিশালী করার তাগিদ ডা. ডোনারের

বক্তব্য রাখছেন ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার  © সংগৃহীত

চিকিৎসকদের পেশাগত অনিয়ম নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলকে (বিএমডিসি) শক্তিশালী করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেছেন ডা. ডোনার।

আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিএমএ ভবনের শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন সভাকক্ষে ‘স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন ২০২৬’ প্রণয়ন বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠক ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. ডোনার চিকিৎসক ও রোগী উভয় পক্ষের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। একইসঙ্গে চিকিৎসকের নামে চিকিৎসা দেওয়া অযোগ্য ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা, চিকিৎসকদের পেশাগত অনিয়মের বিচার নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসেবায় কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা চালু করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, চিকিৎসকদের কিছু ভুল বা কর্তব্যে অবহেলার জন্য যেমন জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন, তেমনি যারা চিকিৎসক নন অথচ চিকিৎসকের নামে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করছেন, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। অনেকে অল্প সময়ের প্রশিক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ অনেক সময় জানেন না যে তিনি প্রকৃত চিকিৎসক নন, ফলে ভুল চিকিৎসা পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে যা আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

চিকিৎসকদের পেশাগত অনিয়মের বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ডা. ডোনার বলেন, চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগের বিচার নিশ্চিত করতে আইন পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

স্বাস্থ্যসেবায় রেফারেল ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় অনেক চিকিৎসককে প্রতিদিন ১০০ জন পর্যন্ত রোগী দেখতে হয়, যার কারণে রোগীদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে রেফারেল ব্যবস্থা চালু হলে চিকিৎসকদের ওপর এই অতিরিক্ত রোগীর চাপ কমবে।

কোনো রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে বা সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকলে চিকিৎসার পাশাপাশি রোগী ও তার স্বজনদের তা বুঝিয়ে বলার জন্য হাসপাতালে কাউন্সেলর রাখার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া বিদেশে রোগী ওষুধ সম্পর্কে জানতে চাইলে যেমন ব্যাখ্যার ব্যবস্থা থাকে, আমাদের দেশেও রোগী বা স্বজনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার এমন ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সামাজিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে ডা. ডোনার বলেন, আগে কেউ অন্যায় করলে আশপাশের মানুষ প্রতিবাদ করতেন, কিন্তু এখন অন্যায়কারীর পক্ষ নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। রিকশাচালক থেকে শুরু করে মুদি দোকান কিংবা সমাজের বিভিন্ন স্তরে তর্ক-বিতর্ক ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে, যা গত ১৭-১৮ বছরে গড়ে উঠেছে এবং বিস্তৃত হচ্ছে।

তিনি বলেন, শুধু আইন করে লাভ নাই। মানুষের মধ্যে বিবেক জাগ্রত না হলে কোনো আইনই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারবে না। আইন সম্পর্কে মানুষ জানলেও অন্তর থেকে দায়িত্ববোধ ও বিবেকের পরিবর্তন না হলে অন্যায় বন্ধ করা কঠিন।

করোনা ভাইরাস মহামারির সময়ের কথা স্মরণ করে ডা. ডোনার বলেন, সারা বিশ্বে যখন করোনায় মানুষ মারা যাচ্ছিল, তখন বাংলাদেশের চিকিৎসকরা প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছেন ও সেবা দিয়েছেন। তাই চিকিৎসকদের প্রতি মানুষের সম্মান ও আস্থা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি চিকিৎসকদেরও নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু, হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন, নেত্রকোণা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক, বিএনপি থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা এবং এনসিপি থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু।

এছাড়া আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামি প্রমুখ।