১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:১৫

বন্ধুদের চাপ ও নিরাপদ বিকল্প ভেবে ই-সিগারেটে আসক্তি বাড়ছে তরুণদের

গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠান  © সংগৃহীত

তরুণদের বড় একটি অংশ ভুল ধারণা এবং বন্ধুদের চাপে পড়ে ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি) ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন ধরনের ক্ষতিকর তামাকপণ্যে আসক্ত হয়ে পড়ছে। তামাক ত্যাগের নিরাপদ বিকল্প ভাবার মানসিকতা ও পিয়ার প্রেশারকে (সঙ্গীদের চাপ) এই ক্ষতিকর আসক্তির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা।

আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশি তরুণদের ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট ও নিকোটিন পাউচ ব্যবহার প্রবণতা’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। ২০২৫ সালের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৫২৪ জন তরুণের ওপর পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা যায়, ২৮ দশমিক ১ শতাংশ তরুণ জীবনে অন্তত একবার এসব পণ্য ব্যবহার করেছেন।

গবেষণার উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বর্তমানে নতুন তামাকপণ্য ব্যবহারকারীদের ৭২.৪ শতাংশই মূলত দুটি প্রধান কারণে এতে জড়িয়েছেন। এর মধ্যে ৩৭.৯ শতাংশ তরুণ সামাজিক অবস্থান বা বন্ধুদের চাপে পড়ে এবং ৩৪.৫ শতাংশ তরুণ প্রচলিত ধূমপান কমানো বা এর ‘নিরাপদ বিকল্প’ হিসেবে এসব তামাকপণ্য ব্যবহার শুরু করেছিলেন। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপানের বিকল্প হিসেবে ভেপিং বা ই-সিগারেটকে বেছে নেওয়া একটি মারাত্মক ভুল ধারণা, যা তরুণদের নতুন করে নিকোটিনের স্থায়ী ঝুঁকিতে ফেলছে।

পণ্য হাতে পাওয়ার ক্ষেত্রে বাজার নিয়ন্ত্রণে শিথিলতার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে গবেষণায়। নতুন ধরনের তামাকপণ্য ব্যবহারকারীদের মধ্যে মাত্র ২৪.১ শতাংশ জানিয়েছেন, কেনার সময় তাদের বয়সের প্রমাণপত্র দেখাতে হয়েছিল। অর্থাৎ, ৭৫.৯ শতাংশ ক্ষেত্রে কোনো বাধা বা যাচাই ছাড়াই যেকোনো বয়সের তরুণের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ভেপ ও নিকোটিন পাউচ। ব্যবহারকারীদের ৩৭.৯ শতাংশ বিশেষায়িত তামাকের দোকান এবং ৩১ শতাংশ বন্ধু বা সহকর্মীর মাধ্যমে এসব পণ্য সংগ্রহ করছেন।

এ ছাড়া ই-সিগারেটের প্রসারে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত বিপণন। গবেষণায় অংশ নেওয়া ২৬ শতাংশ তরুণ বিক্রয়কেন্দ্রে এবং ২০.৮ শতাংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখা তরুণদের মধ্যে ৮৯ শতাংশই ফেসবুকে ই-সিগারেটের প্রচার দেখেছেন। এর পাশাপাশি ইনস্টাগ্রাম (৩৪.৯%) ও ইউটিউবেও (২৩.৯%) এসব পণ্যের ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সংসদীয় কমিটি সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিন আসক্তি থেকে সুরক্ষায় ই-সিগারেটের সহজলভ্যতা ও অনিয়ন্ত্রিত বিপণন বন্ধে সমন্বিত ও কার্যকর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি