০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩০

স্বাস্থ্যে বাজেট বৃদ্ধি তখনই কার্যকর হবে, যখন তামাকের ব্যবহার কমবে

তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব বিষয়ক সেমিনার  © সংগৃহীত


তামাকের ব্যবহার কমাতে পারলেই স্বাস্থ্যখাতের বাজেট বৃদ্ধির প্রকৃত ফল পাওয়া সম্ভব। কেননা এটি ক্যান্সারসহ দীর্ঘমেয়াদি নানা অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে তামাকের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে আলোচকদের বক্তব্যে এসব কথা উঠে এসেছে।

ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। এতে প্রধান আলোচক ছিলেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যখাতে এবার জিডিপির ১.০১ শতাংশ বাজেট দেওয়া হয়েছে, যা আগের বাজেটের দ্বিগুণ। তবে ২০১৭-১৮ সালের হিসাব অনুযায়ী, তামাকের ক্ষতির পরিমাণ এর থেকেও বেশি—জিডিপির ১.৪১ শতাংশ।

তিনি বলেন, তার স্বাস্থ্যে যতই বাজেট বাড়াই, তামাক কিন্তু ততই ক্ষতি করছে। এজন্য বাজেট বাড়ানো কোনো সমাধান না আসলে। বাজেট বাড়ানো তখনই কার্যকর হবে, যখন আমরা তামাকের ব্যবহার কমাতে পারব।

প্রধান অতিথির বক্তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, তামাক ক্যান্সারসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে ঘরে ঘরে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি।

মন্ত্রী আরও বলেন, পরবর্তী প্রজন্মকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এ বিষয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তামাক ও নিকোটিনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পরিবার থেকেই সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

এ সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি)-এর আলোকে তামাক নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর, সমন্বিত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সহ-সভাপতি এস এম ড. খলিলুর রহমান।এতে আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি এবং বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ। এছাড়া মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম।