৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৬:২৪

শ্বাসতন্ত্রের রোগীদের জন্য বিএমইউ হবে সেন্টার অব এক্সিলেন্স: উপাচার্য

বক্তব্য রাখছেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী  © সংগৃহীত

দেশে দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগীদের চিকিৎসায় কেবল ওষুধই যথেষ্ট নয়, বরং লো-রিসোর্স সেটিংসে লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহার করে রোগীদের স্বনির্ভর ও কর্মক্ষম করতে কার্যকর পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন চালু করা জরুরি। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বিএমইউ) ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ঘোষণা দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।

আজ রবিবার (৩০ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলন হলে ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশনের (বিএসপিএমআর) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

উপাচার্য ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশনকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে এ ক্ষেত্রে একটি সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

উপাচার্য আরও বলেন, পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশনের উন্নয়নে ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন, পালমোনোলজি, ফিজিওথেরাপি, নার্সিং, নিউট্রিশন, সাইকোলজিসহ সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের মধ্যে মাল্টিডিসিপ্লিনারি কোলাবরেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এ ধরনের আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং ক্লিনিক্যাল সার্ভিস ডেভেলপকে উৎসাহিত করবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ শাকুর বলেন, সিওপিডি, অ্যাজমা, ব্রঙ্কিয়েকটেসিস এবং ইন্টারস্টিশিয়াল লাং ডিজিজসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ওষুধ যথেষ্ট কার্যকর হয় না। রোগীরা ধীরে ধীরে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন, কর্মক্ষমতা হারান এবং দৈনন্দিন কাজ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সক্ষমতা কমে যায়। বিশেষ করে লো-রিসোর্স সেটিংসে সর্বস্তরের গরীব-ধনী রোগীদেরকে কীভাবে লাগসই প্রযুক্তিতে পুনর্বাসনের মাধ্যমে আবার কর্মক্ষম ও স্বনির্ভর করে তোলা যায় এবং সমাজ ও জাতির উন্নয়নে তাদের পুনরায় সম্পৃক্ত করা যায় এই কর্মশালার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

কর্মশালায় বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রতিবছর যৌথ উদ্যোগে এ ধরনের কর্মশালা আয়োজনের ওপর জোর দেন। প্রধান রিসোর্স পার্সন প্রফেসর ডা. মনসুর হাবিব দেশে একটি দক্ষ পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন সেক্টর গড়ে তুলতে সর্বাত্মক কারিগরি ও প্রশিক্ষণ সহায়তার আশ্বাস দেন।

দিনব্যাপী এই কর্মশালায় পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশনের বেসিক অ্যানাটমি অ্যান্ড ফিজিওলজি, বর্তমান ধারণা ও অগ্রগতি, লো-রিসোর্স সেটিংসে রিহ্যাবিলিটেশন, প্রি-অ্যাসেসমেন্ট টুলস, স্টেকহোল্ডার এনগেজমেন্ট এবং হ্যান্ডস-অন স্কিলস ও ক্লিনিক্যাল সিমুলেশন নিয়ে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, বিএমইউর বেসিক সায়েন্স অ্যান্ড প্যারাক্লিনিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন ও সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. সাইফ উল্লাহ মুন্সী এবং জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. গোলাম সারওয়ার লিয়াকত হোসেন ভূঁইয়া।

সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাদিম কামালের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ।