২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৮:১৯

রোগীর আস্থা ফেরাতে চিকিৎসকদের আচরণ বদলাতে হবে: স্বাস্থ্যের ডিজি

এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এই কথা বলেন  © সংগৃহীত

রোগীর আস্থা পুনরুদ্ধারে চিকিৎসকদের আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি বলেছেন, চিকিৎসকরা অনেক সময় রোগীদের পর্যাপ্ত সময় দেন না এবং যথাযথ আচরণ করেন না। এ জায়গায় পরিবর্তন আনতে হবে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্টস সোসাইটির (বিএমএসএস) জাতীয় সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ওয়ান প্লেজ, ওয়ান বন্ড: ডক্টরস রাইটস অ্যাবাভ অল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৯৫০ মেডিকেল শিক্ষার্থী, তরুণ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য পেশাজীবী অংশ নেন।

চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে রোগীদের একটি বড় অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, চিকিৎসকেরা অনেক সময় রোগীদের পর্যাপ্ত সময় দেন না এবং তাদের সঙ্গে যথাযথ আচরণ করেন না। এ জায়গায় পরিবর্তন আনতে হবে। ধৈর্য, আন্তরিক আচরণ, শারীরিক উপস্থিতি ও গভীর মনোযোগের মাধ্যমে রোগীদের মনের ক্ষোভ দূর করতে হবে।

তিনি বলেন, বুকভরা আশা নিয়ে রোগীরা চিকিৎসকের কাছে আসেন। তারা ভালো আচরণ, যথাযথ মনোযোগ, নির্ভুল ব্যবস্থাপত্রের পাশাপাশি চিকিৎসকের কাছে একটি ভরসার জায়গা চান। তাই চিকিৎসকদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো মানুষের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, গ্রামীণ পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদারে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রথম সারির স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবার পরিকল্পনা কর্মী ও কমিউনিটি পর্যায়ের কর্মীরা সমন্বিতভাবে কাজ করবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীকে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে উপজেলা ও জেলা হাসপাতালসহ উচ্চতর চিকিৎসাকেন্দ্রে ধাপে ধাপে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, আমরা একটি চমৎকার ও কার্যকর রেফারেল সিস্টেম গড়ে তুলতে চাই। এই মুহূর্তে স্বাস্থ্য খাতের জন্য এটি সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান বলেন, গবেষণা একজন সাধারণ চিকিৎসককে একজন উদ্ভাবকে পরিণত করতে পারে। স্বাস্থ্য খাতের মতো বড় একটি ক্ষেত্র গবেষণা ছাড়া এগিয়ে যেতে পারে না। বাংলাদেশে হাজার হাজার রোগ নিয়ে কাজ হলেও চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনেক সময় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক তথ্য-উপাত্তের ওপর নির্ভর করতে হয়। দেশের রোগের প্রকোপ, বিস্তার ও চিকিৎসা নিয়ে নিজস্ব তথ্য-উপাত্ত এখনো পর্যাপ্ত নয়। এ ঘাটতি পূরণে চিকিৎসকদের গবেষণায় আরও বেশি যুক্ত হতে হবে।

বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ও হেড অব অফিস ডা. সুসান ভাইজে বলেন, চিকিৎসকদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পেশাগত উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। ক্লিনিক্যাল দক্ষতা, জনস্বাস্থ্য, গবেষণা, ক্যারিয়ার উন্নয়ন, মানবাধিকার ও চিকিৎসকদের পেশাগত অধিকার সবকিছুকে গুরুত্ব দিয়ে আয়োজনটি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তরুণ স্বাস্থ্য পেশাজীবীরা শেখার পাশাপাশি যোগাযোগ ও নেতৃত্বের সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. আব্দুল হান্নান চৌধুরী, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেসের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল আলম, শান্তি ক্যান্সার ফাউন্ডেশনের প্রধান পরামর্শক ডা. পারভীন শহীদা আক্তার এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. নাসার উ. আহমেদসহ চিকিৎসা, শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।