নারীরাই কি বেশি ভুগছেন উচ্চ রক্তচাপে? নিয়ন্ত্রণের উপায়
উচ্চ রক্তচাপ শুধু বয়স্কদের সমস্যা—এ ধারণা এখন আর পুরোপুরি ঠিক নয়। বরং কম বয়সীদের মধ্যেও এ সমস্যা বাড়ছে। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিশেষ করে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে রক্তচাপের ওঠানামার সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর খাবার, অতিরিক্ত নেশা ও অনিয়মিত জীবনযাপন এর অন্যতম কারণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কোন লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হতে হবে এবং কীভাবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)।
রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যাওয়া মোটেও ভালো লক্ষণ নয়। অতিরিক্ত রক্তচাপ থেকে হৃদ্রোগের মতো গুরুতর সমস্যা তৈরি হতে পারে। বুক ধড়ফড় করা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, চোখের সামনে অন্ধকার দেখা কিংবা হাত-পায়ের পেশিতে টান ধরার মতো উপসর্গ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
রক্তচাপজনিত সমস্যাকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা হয়—এসেনশিয়াল বা প্রাইমারি হাইপারটেনশন এবং সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন। এর মধ্যে এসেনশিয়াল হাইপারটেনশনই বেশি দেখা যায়। সেকেন্ডারি হাইপারটেনশনের কারণ নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে।
সাধারণভাবে একজন সুস্থ মানুষের রক্তচাপ ১২০/৮০ মিলিমিটার পারদচাপের আশপাশে থাকা স্বাভাবিক। রক্তচাপ ১৪০/৯০ মিলিমিটার পারদচাপ বা তার বেশি হলে তা উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
চিকিৎসকেরা বলছেন, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রথমেই বাড়তি ওজন কমানোর দিকে নজর দিতে হবে। ওজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একপর্যায়ে রক্তচাপও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যেতে পারে। এর ফলে ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি হৃদ্রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
তাই নিয়মিত শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। বাইরের খাবার, ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব কম খাওয়া উচিত। পাশাপাশি ব্যস্ততার মধ্যেও নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চার জন্য সময় বের করতে হবে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কয়েকটি সহজ পদ্ধতিও অনুসরণ করা যেতে পারে।
ডিপ ব্রিদিং
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে শ্বাসের ব্যায়াম উপকারী হতে পারে। এ জন্য শান্ত হয়ে বসে গভীরভাবে শ্বাস নিতে হবে। কয়েক সেকেন্ড শ্বাস ধরে রেখে ধীরে ধীরে ছাড়তে হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি ১০ থেকে ২০ সেকেন্ড ধরে করা যেতে পারে। পরপর তিন সেট করলে শরীর ও মন কিছুটা শিথিল হতে পারে।
গভীর শ্বাস নেওয়ার এই অনুশীলন শরীরের প্যারাসিম্প্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে। এতে অতিরিক্ত উত্তেজনা ও অস্থিরতা কমতে পারে এবং হৃদ্স্পন্দনও নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।
প্রাণমুদ্রা
প্রথমে একটি ম্যাটের ওপর সোজা হয়ে বসতে হবে। স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে হবে এবং পিঠ ও কোমর সোজা রাখতে হবে।
এরপর দুই হাতের কনিষ্ঠা ও অনামিকা আঙুল একসঙ্গে করে বৃদ্ধাঙ্গুলের কাছে আনতে হবে। অন্য আঙুলগুলো ভাঁজ করা যাবে না। এভাবে দুই হাত হাঁটুর ওপর রেখে প্রায় ১০ মিনিট শান্তভাবে বসে থাকার চেষ্টা করা যেতে পারে।
অপানমুদ্রা
এ মুদ্রা করতে দুই হাতের তর্জনী ও মধ্যমা একসঙ্গে রাখতে হবে। একইভাবে অনামিকা ও কনিষ্ঠা একসঙ্গে রাখতে হবে। এরপর অনামিকা ও মধ্যমাকে পরস্পর থেকে দূরে সরিয়ে ইংরেজি ‘ভি’ অক্ষরের মতো ফাঁক তৈরি করতে হবে।
বুড়ো আঙুলের ডগা অনামিকার গোড়ায় স্পর্শ করে রাখতে হবে। এরপর পদ্মাসনে বা আরামদায়ক ভঙ্গিতে বসে দুই হাত হাঁটুর ওপর রাখা যেতে পারে।
তবে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে শুধু এসব পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত রক্তচাপ মাপা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে রক্তচাপ বারবার ১৪০/৯০ বা তার বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়া উচিত।